কলকাতা: যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মেসিকে না দেখতে পেয়ে দর্শকদের ক্ষোভ, ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলার ঘটনার রেশ এখনও কাটেনি। সেই আবহেই ফের একবার বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। তাঁর দাবি, এই ঘটনার পিছনে ‘একটা বিরাট ষড়যন্ত্র’ লুকিয়ে থাকতে পারে।
ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা কেন?
মঙ্গলবার এক সাংবাদিক বৈঠকে কুণাল ঘোষ বলেন, কলকাতায় মেসিকে ঘিরে যে ধরনের কড়া নিরাপত্তা ও ব্যারিকেডিং করা হয়েছিল, তা দেশের অন্য শহরগুলিতে দেখা যায়নি। তাঁর কথায়, “হায়দরাবাদ, মুম্বই বা দিল্লিতে এই ছবি ছিল না। তাহলে কি ইচ্ছাকৃতভাবে দর্শকদের উত্তেজিত করার একটা প্ল্যান করা হয়েছিল?”

নিরাপত্তা নিয়েই বড় প্রশ্ন
কুণালের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় বাহিনী ও বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা মেসিকে ঘিরে এমনভাবে অবস্থান নিয়েছিলেন যে সাধারণ দর্শকদের প্রবেশ কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে। তাঁর প্রশ্ন, “দর্শকদের আটকাও, উত্তেজনা তৈরি করো, তারপর নিজেদের লোক ঢুকিয়ে গণ্ডগোল—এই ছকটা কি আগে থেকেই তৈরি ছিল?”
ফুটবলপ্রেমীদের হতাশা ও ক্ষোভ
কুণাল ঘোষের মতে, এই ঘটনায় সবচেয়ে বেশি আঘাত পেয়েছেন প্রকৃত ফুটবলপ্রেমীরা। মেসিকে এক ঝলক দেখার আশায় যারা মাঠে গিয়েছিলেন, তাঁদের হতাশাকেই কেউ রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করেছে কি না, সেই প্রশ্নই তিনি তুলেছেন।

রাজধর্ম পালনের প্রসঙ্গ টেনে আনলেন কুণাল
তৃণমূল নেতা বলেন, “এত বড় ষড়যন্ত্রের সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজধর্ম পালন করেছেন।” তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, পরিস্থিতি সামাল দেওয়াতেই প্রশাসন গুরুত্ব দিয়েছে, প্রতিশোধ বা রাজনৈতিক ফায়দা তোলার পথে হাঁটেনি।
‘কলকাতা পারল না’—আগের হতাশার স্মৃতি
উল্লেখ্য, ঘটনার পর কুণাল ঘোষ নিজেই একটি ভিডিও পোস্ট করে হতাশা প্রকাশ করেছিলেন। সেখানে তিনি লিখেছিলেন, ‘কলকাতা পারল না’। এমনকি দর্শকদের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেছিলেন, এত হ্যাংলামির কী প্রয়োজন ছিল?
যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মেসি দর্শন ঘিরে যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল, তার পিছনে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র থাকতে পারে বলে ফের সন্দেহ প্রকাশ করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। নিরাপত্তা ব্যবস্থার অসঙ্গতি নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।











