Hilsa Fish: বাজারে কোথায় গেল চওড়া পেটির বড় ইলিশ? ১ কেজির মাছই দুর্লভ, ‘ট্রলি ফিশিং’ নিয়ে উঠছে বড় প্রশ্ন

বাজারে কমছে ১ কেজির বেশি ওজনের বড় ইলিশ। ২ কেজির মাছ প্রায় দুর্লভ, দাম কেজিতে ২,২০০-২,৮০০ টাকা। ট্রলি ফিশিং ও ছোট ইলিশ ধরা নিয়ে মৎস্যজীবীদের উদ্বেগ।

দক্ষিণ ২৪ পরগনা: বাঙালির পাতে ইলিশ থাকলেও আগের মতো দেখা মিলছে না বড়, চওড়া পেটির মাছের। বাজারে ২ কেজি ওজনের ইলিশ কার্যত দুর্লভ। ১ কেজির বেশি ওজনের মাছ মিললেও তার দাম সাধারণ ক্রেতার নাগালের বাইরে। কোথায় গেল সেই বড় ইলিশ? কেন ক্রমশ ছোট সাইজের মাছের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে বাজারকে? এই প্রশ্নই এখন ভাবাচ্ছে মৎস্যজীবী ও ক্রেতাদের।

Hilsa Fish: বাজারে কোথায় গেল চওড়া পেটির বড় ইলিশ? ১ কেজির মাছই দুর্লভ, ‘ট্রলি ফিশিং’ নিয়ে উঠছে বড় প্রশ্ন
বড় ইলিশের জোগান কমছে কেন?

বর্তমানে বাজারে ৫০০ গ্রাম থেকে ৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ তুলনামূলক বেশি দেখা যাচ্ছে। কিন্তু ১ কেজি বা তার বেশি ওজনের মাছের জোগান যথেষ্ট কম। বিশেষ করে ২ কেজি ওজনের বড় ইলিশ খুঁজে পাওয়াই কঠিন হয়ে পড়েছে।মৎস্যজীবীদের একাংশের মতে, সমুদ্রে মাছ ধরার পরিস্থিতি, আবহাওয়ার প্রতিকূলতা এবং বারবার প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো বিভিন্ন কারণে মাছ ধরায় বাধা তৈরি হচ্ছে। ফলে বাজারে যে পরিমাণ ইলিশ আসছে, তা দিয়েই চাহিদা মেটানোর চেষ্টা চলছে।

কেজিতে ২,২০০ থেকে ২,৮০০ টাকা

বড় ইলিশের জোগান কম হওয়ায় তার দামও চড়া। বর্তমানে ১ কেজির বেশি ওজনের টাটকা ইলিশের দাম প্রায় ২,২০০ থেকে ২,৮০০ টাকা প্রতি কেজি পর্যন্ত উঠেছে।ফলে বড় মাছ কিনতে গিয়ে স্বাভাবিকভাবেই পকেটে চাপ পড়ছে ক্রেতাদের। অন্যদিকে তুলনামূলক ছোট সাইজের ইলিশই এখন বাজারে বেশি সহজলভ্য।

Hilsa Fish: বাজারে কোথায় গেল চওড়া পেটির বড় ইলিশ? ১ কেজির মাছই দুর্লভ, ‘ট্রলি ফিশিং’ নিয়ে উঠছে বড় প্রশ্ন
‘ট্রলি ফিশিং’ নিয়েই বড় অভিযোগ

বড় ইলিশের সংখ্যা কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে মৎস্যজীবী সংগঠনগুলির একাংশ ‘ট্রলি ফিশিং’-এর দিকে আঙুল তুলছে। তাঁদের অভিযোগ, এমন ধরনের জাল ব্যবহার করা হচ্ছে যাতে একসঙ্গে বিভিন্ন আকারের মাছ উঠে আসে।এর ফলে ছোট ইলিশও রেহাই পাচ্ছে না। মাছকে বড় হওয়ার সময় না দিয়ে ছোট অবস্থাতেই ধরে ফেলা হলে স্বাভাবিকভাবেই পরবর্তী সময়ে বড় ইলিশের সংখ্যা কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

খোকা ইলিশ ধরা নিয়ে উদ্বেগ

মৎস্যজীবী সংগঠনগুলির আরও অভিযোগ, অনেক সময় ছোট বা খোকা ইলিশও ধরা হচ্ছে। এই প্রবণতা বন্ধ করা না গেলে আগামী দিনে বড় আকারের ইলিশের জোগান আরও সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।সংগঠনের পক্ষ থেকে হারাধন ময়রা জানান, ছোট ইলিশ ধরা বেআইনি হলেও সব ক্ষেত্রে যথেষ্ট নজরদারি হচ্ছে না বলে তাঁদের অভিযোগ। প্রশাসনের আরও সক্রিয় নজরদারি প্রয়োজন বলেও দাবি উঠেছে।

Hilsa Fish: বাজারে কোথায় গেল চওড়া পেটির বড় ইলিশ? ১ কেজির মাছই দুর্লভ, ‘ট্রলি ফিশিং’ নিয়ে উঠছে বড় প্রশ্ন
শুধু নিষেধাজ্ঞা নয়, দরকার কঠোর নজরদারি

ছোট মাছ ধরা বন্ধ করার বিষয়ে প্রশাসনের তরফে মৎস্যজীবীদের একাধিকবার বৈঠক করে সতর্ক করা হয়েছে। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও কেউ নিয়ম ভাঙলে তাঁদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন মৎস্যজীবী সংগঠনের সদস্যরা।তাঁদের মতে, ইলিশের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখতে শুধু আইন করলেই হবে না। সমুদ্রে মাছ ধরার ক্ষেত্রে নিয়ম মেনে চলা, ছোট ইলিশ রক্ষা করা এবং প্রয়োজনীয় নজরদারি—সবকিছুকেই একসঙ্গে গুরুত্ব দিতে হবে।

ভবিষ্যতে কি ইলিশ হয়ে যাবে দুর্লভ?

মৎস্যজীবীদের একাংশের আশঙ্কা, ছোট ইলিশ নির্বিচারে ধরা চলতে থাকলে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে ভবিষ্যতের মাছের জোগানে। আজ যে মাছ ৫০০-৮০০ গ্রাম ওজনের, সেটিই যদি বড় হওয়ার সুযোগ না পায়, তাহলে আগামী দিনে ১-২ কেজির ইলিশের সংখ্যা আরও কমতে পারে।ফলে বাঙালির প্রিয় এই মাছকে ভবিষ্যতে আরও দুর্লভ হয়ে ওঠা থেকে বাঁচাতে এখন থেকেই সচেতনতা এবং কার্যকর নজরদারি জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Hilsa Fish: বাজারে কোথায় গেল চওড়া পেটির বড় ইলিশ? ১ কেজির মাছই দুর্লভ, ‘ট্রলি ফিশিং’ নিয়ে উঠছে বড় প্রশ্ন
বাজারে বড় সাইজের ইলিশের জোগান কমে যাওয়ায় চিন্তায় মৎস্যজীবী থেকে শুরু করে ক্রেতারা। ১ কেজির বেশি ওজনের ইলিশের দামও পৌঁছেছে কেজিপ্রতি প্রায় ২,২০০ থেকে ২,৮০০ টাকায়। মৎস্যজীবী সংগঠনগুলির অভিযোগ, ছোট ইলিশ ধরা এবং ‘ট্রলি ফিশিং’-এর মতো পদ্ধতি বন্ধ না হলে ভবিষ্যতে বড় ইলিশের জোগান আরও কমতে পারে।

Leave a comment