ঘরের দেওয়ালে হঠাৎ টিকটিকি দেখলেই অনেকের অস্বস্তি শুরু হয়ে যায়। রান্নাঘর, জানালার ধারে কিংবা আলমারির পিছনে তাদের দেখা পাওয়া বিশেষ করে বর্ষাকালে বেশ স্বাভাবিক। তবে টিকটিকি তাড়াতে সবসময় বিষ বা কড়া রাসায়নিক ব্যবহারের প্রয়োজন নেই। বরং ঘরের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং কয়েকটি সহজ ঘরোয়া কৌশল কাজে লাগিয়েই তাদের আনাগোনা অনেকটাই কমানো সম্ভব।
কে বাড়িতে টিকটিকির আনাগোনা বাড়ে?
উষ্ণ ও আর্দ্র পরিবেশ টিকটিকির জন্য বেশ উপযোগী। গরমের সময়ে তারা ঘরের তুলনামূলক ঠান্ডা ও অন্ধকার জায়গায় আশ্রয় নেয়। আসবাবের পিছনে, আলমারির পাশে, ক্যাবিনেটের কোণে কিংবা বিভিন্ন ফাঁকফোকরে তাদের লুকিয়ে থাকতে দেখা যায়।আরও একটি বড় কারণ হল খাবারের জোগান। বাড়িতে মশা, মাছি, পিঁপড়ে ও অন্যান্য ছোট পোকামাকড় বেশি থাকলে টিকটিকিও সেই জায়গায় আসতে পারে। তাই শুধু টিকটিকি তাড়ানো নয়, ঘরে পোকামাকড়ের উপদ্রব কমানোও জরুরি।
প্রথমেই বন্ধ করুন ঢোকার রাস্তা
টিকটিকি খুব ছোট ফাঁক দিয়েও ঘরে ঢুকে পড়তে পারে। তাই জানালা, দরজা, বাথরুমের ভেন্টিলেটর এবং দেওয়ালের ফাটল ভালোভাবে পরীক্ষা করুন। প্রয়োজন হলে ফাঁকগুলো বন্ধ করে দিন।জানালায় জাল লাগানো এবং দরজার নিচের অংশে ডোর-সুইপ বা ঝাড়ুদার পর্দা ব্যবহার করলেও বাইরে থেকে টিকটিকি ঢোকার সম্ভাবনা কমতে পারে।
ঘর পরিষ্কার রাখুন, পোকামাকড় কমান
টিকটিকির উপস্থিতি কমাতে বাড়ির পরিচ্ছন্নতার দিকেও নজর দিতে হবে। মেঝেতে নিয়মিত ঝাড়ু-মোছা করুন। রাতভর নোংরা বাসন ফেলে রাখবেন না। খাবার খোলা অবস্থায় না রাখাই ভালো।ময়লার পাত্রও দীর্ঘক্ষণ ফেলে না রেখে দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন। এতে মশা, মাছি ও অন্যান্য পোকামাকড়ের সংখ্যা কমবে, ফলে টিকটিকির খাবারের উৎসও কমে যাবে।
পুরনো বাক্স-আবর্জনা সরিয়ে ফেলুন
আসবাবের পিছনে জমে থাকা পুরনো কাগজ, খবরের কাগজ, বাক্স বা অন্যান্য অপ্রয়োজনীয় জিনিস টিকটিকির লুকিয়ে থাকার জায়গা হয়ে উঠতে পারে। তাই ঘরের কোণ এবং আসবাবের পিছনের অংশ নিয়মিত পরিষ্কার করুন।ঘর যতটা সম্ভব গোছানো রাখলে টিকটিকির লুকিয়ে থাকার জায়গাও কমে যায়।
পুদিনার তেলের স্প্রে করতে পারেন
তীব্র গন্ধযুক্ত কিছু উপাদান ব্যবহার করে টিকটিকিকে নির্দিষ্ট জায়গা থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করা যায়। যেমন, কয়েক ফোঁটা পুদিনার তেল জলের সঙ্গে মিশিয়ে হালকা স্প্রে তৈরি করতে পারেন।জানালার আশপাশ, ঘরের কোণ বা যেখানে বারবার টিকটিকি দেখা যায়, সেখানে অল্প করে এই মিশ্রণ স্প্রে করা যেতে পারে। গন্ধ কমে গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী আবার ব্যবহার করতে পারেন।
পেঁয়াজ-রসুনও ব্যবহার করেন অনেকে
পেঁয়াজ ও রসুনের তীব্র গন্ধ টিকটিকি পছন্দ করে না—এমন ঘরোয়া ধারণা প্রচলিত রয়েছে। তাই টিকটিকির আনাগোনা বেশি এমন জায়গার কাছে পেঁয়াজের টুকরো বা রসুনের কোয়া রাখা যায়।তবে এগুলো দীর্ঘক্ষণ রেখে দেওয়া ঠিক নয়। নষ্ট হয়ে গেলে উল্টে দুর্গন্ধ বা পোকামাকড়ের সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই নিয়মিত বদলে ফেলতে হবে।
ডিমের খোসার ঘরোয়া টোটকা
অনেকে পরিষ্কার ও শুকনো ডিমের খোসা ছোট টুকরো করে জানালা, বারান্দা কিংবা ঘরের কোণায় রেখে থাকেন। এটি টিকটিকি দূরে রাখার একটি প্রচলিত ঘরোয়া পদ্ধতি।তবে এই ধরনের ঘরোয়া টোটকার কার্যকারিতা নিয়ে শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সীমিত। তাই এটিকে নিশ্চিত সমাধান হিসেবে না দেখে, ঘর পরিষ্কার রাখা এবং টিকটিকির প্রবেশপথ বন্ধ করার মতো কার্যকর অভ্যাসের সঙ্গে ব্যবহার করাই ভালো।
ঘরে টিকটিকি ঢুকলে কী করবেন?
হঠাৎ ঘরে টিকটিকি ঢুকে পড়লে তাকে মারার চেষ্টা করবেন না। সম্ভব হলে একটি দরজা বা জানালা খুলে দিন এবং ঘরের অন্য দিকের আলো কমিয়ে দিন, যাতে বাইরে যাওয়ার পথটি সহজে খুঁজে পায়।লাঠি বা ধারালো কোনও জিনিস দিয়ে আঘাত করার চেষ্টা না করাই ভালো। এতে টিকটিকি আহত হওয়ার পাশাপাশি পরিস্থিতিও আরও অস্বস্তিকর হয়ে উঠতে পারে।
গরম ও বর্ষার সময়ে ঘরে টিকটিকির আনাগোনা বেড়ে যায়। অনেকেই বিরক্ত হয়ে কীটনাশক বা রাসায়নিক ব্যবহার করেন। কিন্তু টিকটিকি সাধারণত মানুষের জন্য ক্ষতিকর নয়। বরং পোকামাকড় খেয়ে ঘরের পরিবেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই না মেরে কীভাবে তাদের ঘর থেকে দূরে রাখা যায়, জেনে নিন সহজ কয়েকটি উপায়।









