লোকসভায় আজ পরীক্ষা সংস্কার বিল নিয়ে ছয় ঘণ্টার আলোচনা, ভোটাভুটির সম্ভাবনা

সংসদের বর্ষাত্র ফাঁস রোধ-সংক্রান্ত সংশোধনী বিল নিয়ে ছয় ঘণ্টার আলোচনা হবে। সরকার ও বিরোধী পক্ষের সম্মতিতে অনুষ্ঠিত এই বিতর্কে বিল, শিক্ষার্থী আন্দোলন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোও আলোচনায় উঠে আসতে পারে।

সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনে গত এক সপ্তাহ ধরে চলা অচলাবস্থার অবসানের পর মঙ্গলবার লোকসভায় পরীক্ষা ব্যবস্থা সংস্কার এবং প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী বিল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে হওয়া সমঝোতা অনুযায়ী, বিলটি নিয়ে আলোচনার জন্য ছয় ঘণ্টা সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। আলোচনা শেষ হলে বিলটির ওপর ভোটাভুটির সম্ভাবনা রয়েছে।

লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার উদ্যোগে সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে অচলাবস্থার অবসান ঘটে। স্পিকার ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রয়োজন হলে আলোচনার জন্য নির্ধারিত সময় আরও বাড়ানো হতে পারে। পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা এবং শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ-সংক্রান্ত বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে এই বিতর্ক অনুষ্ঠিত হবে।

সোমবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং বিরোধী সদস্যদের প্রতিবাদ ও স্লোগানবাজির মধ্যে লোকসভায় পরীক্ষা সংস্কার-সংক্রান্ত সংশোধনী বিলটি উপস্থাপন করেন। বিল উপস্থাপনের জন্য নির্ধারিত এক ঘণ্টার সময়ে বিরোধী সাংসদরা ৯২টি সংশোধনী প্রস্তাব দেন। তবে সে সময় বিলটি নিয়ে আলোচনার বিষয়ে কোনো ঐকমত্য হয়নি।

দিনভর লোকসভার কার্যক্রম ব্যাহত থাকার পর সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেন, সরকার বিলটিকে দীর্ঘদিন ঝুলিয়ে রাখতে পারে না এবং প্রয়োজন হলে বিস্তারিত আলোচনা ছাড়াই এটি পাস করানো হতে পারে। এরপর লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে বিলটি নিয়ে বিতর্কের বিষয়ে ঐকমত্য গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখেন।

পরীক্ষা সংস্কার বিলের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এবং পুলিশি পদক্ষেপের বিষয়টিও সংসদের রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে। কংগ্রেস সাংসদ মনীশ তিওয়ারি লোকসভায় স্থগিতাদেশ প্রস্তাবের নোটিস দিয়ে ২০ জুলাই ২০২৬ তারিখে সংসদ অভিমুখে মিছিল চলাকালীন শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ নিয়ে আলোচনা দাবি করেছেন। তিওয়ারি অভিযোগ করেছেন, নিরস্ত্র ছাত্র বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (RAF) কথিতভাবে পেলেট গান ব্যবহার করেছে।

তাঁর দাবি অনুযায়ী, ওই ঘটনায় ৮০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হন। বিরোধী পক্ষ এই বিষয়ে সরকারের কাছ থেকে বিস্তারিত জবাব এবং জবাবদিহি দাবি করছে। তবে অভিযোগ এবং ঘটনার সব দিক সম্পর্কে সরকারি অবস্থান সংসদে আলোচনার সময় আরও স্পষ্ট হতে পারে।

সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ, স্বচ্ছ এবং নির্ভরযোগ্য করতে বিস্তৃত সংস্কার কার্যক্রম নেওয়া হচ্ছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং পরীক্ষা প্রক্রিয়ায় কথিত অনিয়ম রোধে প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের কাজ চলছে। সরকার ডিজিটাল প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ নন্দন নিলেকণির নেতৃত্বে একটি টাস্ক ফোর্স গঠন করেছে। এই টাস্ক ফোর্সকে পরীক্ষা ব্যবস্থার নিরাপত্তা, ডিজিটাল নজরদারি এবং পরীক্ষা পরিচালনার উন্নয়নসংক্রান্ত সুপারিশ দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

পরীক্ষা সংস্কারের দাবিতে দেশের বিভিন্ন অংশে ৩৬ দিন ধরে আন্দোলন চলে। আন্দোলনের পর শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। এরপর সরকার শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ দূর করা এবং পরীক্ষা ব্যবস্থার প্রতি আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একাধিক সংস্কারমূলক পদক্ষেপের ঘোষণা দেয়।

২০ জুলাই শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ এবং পুলিশের সঙ্গে উত্তেজনার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইনস্টাগ্রাম ভিডিওর মাধ্যমে তরুণদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন। প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের “ফ্রেন্ডস” বলে সম্বোধন করে বলেন, সরকার তাদের উদ্বেগ সম্পর্কে অবগত এবং পরীক্ষা ব্যবস্থাকে নিরপেক্ষ ও নিরাপদ করতে সংবেদনশীলতার সঙ্গে কাজ করছে।

সরকারের মতে, প্রস্তাবিত আইন এবং নতুন সংস্কার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরীক্ষায় অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে এবং লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীর আস্থা আরও শক্তিশালী হবে।

লোকসভায় মঙ্গলবারের আলোচনার জন্য সরকার ও বিরোধী পক্ষ উভয়ই প্রস্তুতি নিয়েছে। শাসক এনডিএর পক্ষ থেকে তরুণ সাংসদ বাঁসুরি স্বরাজ এবং সায়োনী ঘোষকে প্রধান বক্তাদের মধ্যে রাখা হয়েছে। তাঁদের কাছে সরকারের পরীক্ষা সংস্কার কর্মসূচির পক্ষে বক্তব্য উপস্থাপন এবং বিরোধীদের অভিযোগের জবাব দেওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে।

অন্যদিকে, বিরোধী পক্ষের হয়ে লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সরকারের বিরুদ্ধে বক্তব্য উপস্থাপনের দায়িত্ব নিতে পারেন। সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মহুয়া মৈত্রও আলোচনায় অংশ নিতে পারেন।

 

Leave a comment