২০২৬ কমনওয়েলথ গেমসে ভারতীয় ক্রীড়াবিদদের সাফল্যের ধারা অব্যাহত রয়েছে। মহিলাদের প্যারা শট পুট F57 ইভেন্টে শর্মিলা ধনখড় মৌসুমের সেরা ৯.৮১ মিটার থ্রো করে স্বর্ণপদক জিতেছেন। তাঁর এই সাফল্যের মাধ্যমে ভারতের পদক তালিকায় দ্বিতীয় স্বর্ণ যোগ হয়েছে। একই ইভেন্টে শিল্পা কে. শায়লা ব্যক্তিগত সেরা ৭.২৬ মিটার থ্রো করে ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেছেন।
দিনভর বিভিন্ন ইভেন্টে ভারত স্বর্ণ, রৌপ্য ও ব্রোঞ্জসহ একাধিক পদক জিতে মোট পদক সংখ্যা ১০-এ উন্নীত করেছে। এই পারফরম্যান্সের পর ভারতীয় দল পদক তালিকায় অষ্টম স্থানে উঠে এসেছে।
মহিলাদের প্যারা শট পুট F57 ইভেন্টে শর্মিলা ধনখড় ৯.৮১ মিটার মৌসুমের সেরা থ্রো করেন, যা তাঁকে স্বর্ণপদক এনে দেয়। F57 বিভাগে সেইসব প্যারা অ্যাথলিট অংশ নেন, যাঁদের নিম্ন অঙ্গ প্রভাবিত অথবা যাঁদের পেশিশক্তি সীমিত। প্রতিযোগিতাজুড়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পর নির্ণায়ক প্রচেষ্টায় তিনি ভারতের জন্য মূল্যবান স্বর্ণপদক নিশ্চিত করেন।
একই ইভেন্টে শিল্পা কে. শায়লা প্রথম ঘোষিত ফলাফলে চতুর্থ স্থানে ছিলেন এবং ব্রোঞ্জ পদক দেওয়া হয়েছিল নাইজেরিয়ার এক প্রতিযোগীকে। তবে ভারতীয় দলের আপত্তির পর কর্মকর্তারা নাইজেরিয়ার প্রতিযোগীর প্রচেষ্টা পুনরায় পর্যালোচনা করেন। পর্যালোচনায় তাঁর বৈধ হিসেবে গণ্য হওয়া থ্রোটি ফাউল ঘোষণা করা হয়। সংশোধিত ফল প্রকাশের পর শিল্পা চতুর্থ স্থান থেকে তৃতীয় স্থানে উঠে আসেন এবং তাঁকে ব্রোঞ্জ পদক প্রদান করা হয়। পদক পাওয়ার পর শিল্পা আবেগাপ্লুত হয়ে শর্মিলা ধনখড়ের সঙ্গে এই সাফল্য উদ্যাপন করেন। তবে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নাইজেরিয়া আনুষ্ঠানিক আপিল করতে পারে।
পুরুষদের হাই জাম্প ফাইনালে ভারতের সর্বেশ কুশারে ২.২৫ মিটার লাফিয়ে রৌপ্য পদক জিতেছেন। তিনি ২.২৮ মিটার অতিক্রম করার তিনটি প্রচেষ্টা করলেও সফল হননি। কাউন্টব্যাকের ভিত্তিতে জামাইকার প্রতিযোগী স্বর্ণপদক জিতেছেন, আর ইংল্যান্ডের প্রতিযোগী ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেছেন।

মহারাষ্ট্রের নাসিক জেলার দেবগাঁওয়ের বাসিন্দা সর্বেশ কুশারের ক্রীড়াজীবনের শুরু সীমিত সম্পদের মধ্যে। তাঁর বাবা মাঠে ভুট্টার খোসা ও তুলা দিয়ে অস্থায়ী ল্যান্ডিং পিট তৈরি করে অনুশীলনের ব্যবস্থা করেছিলেন। এর আগে তিনি ডায়মন্ড লিগে পদকজয়ী প্রথম ভারতীয় হাই জাম্পারও হয়েছিলেন।
পুরুষদের ৭৯ কেজি ভারোত্তোলন বিভাগে ভারতের অজয় বাবু মোট ৩৩০ কেজি ওজন তুলে রৌপ্য পদক জিতেছেন। তিনি স্ন্যাচে ১৪৯ কেজি তুলে গেমস রেকর্ড গড়েন এবং ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ১৮১ কেজি সফলভাবে তোলেন। মালয়েশিয়ার প্রতিযোগী শেষ প্রচেষ্টায় ১৮৪ কেজি তুলে মোট ৩৩১ কেজি নিয়ে নতুন গেমস রেকর্ড গড়ে মাত্র ১ কেজির ব্যবধানে স্বর্ণপদক জিতেছেন।
মহিলাদের ৫৩ কেজি বিভাগে জ্ঞানেশ্বরী যাদব মোট ১৯৯ কেজি ওজন তুলে রৌপ্য পদক জিতেছেন। তিনি স্ন্যাচে ৮৮ কেজি তুলে গেমস রেকর্ডও গড়েছেন। অন্যদিকে ৫৮ কেজি বিভাগে বিন্দিয়ারানি দেবী মোট ১৯৯ কেজি ওজন তুলে ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেছেন। এটি তাঁর টানা দ্বিতীয় কমনওয়েলথ গেমস পদক। এর আগে তিনি ২০২২ আসরে রৌপ্য পদক জিতেছিলেন।
২০২৬ কমনওয়েলথ গেমসে ভারোত্তোলন ভারতের সবচেয়ে সফল ইভেন্ট হিসেবে উঠে এসেছে। অজয় বাবুর রৌপ্যপদকের পর এই ইভেন্টে ভারতের মোট পদক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ছয়। মীরাবাই চানু, ঋষিকান্ত সিং, জ্ঞানেশ্বরী যাদব, রাজা মুথুপান্ডি, বিন্দিয়ারানি দেবী এবং অজয় বাবু এই পদকগুলো অর্জন করেছেন। বিশেষ করে মণিপুরের ক্রীড়াবিদদের অবদান উল্লেখযোগ্য। মীরাবাই চানু, ঋষিকান্ত সিং এবং বিন্দিয়ারানি দেবী মিলিয়ে তিনটি পদক জিতেছেন।
অন্যান্য ইভেন্টেও ভারতীয় ক্রীড়াবিদরা সাফল্য দেখিয়েছেন। বক্সিংয়ে সচিন সিওয়াচ এবং অঙ্কুশ নিজেদের ম্যাচ জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছেন। পুরুষদের ১১০ মিটার হার্ডলসে তেজস শিরসে চোট নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে অষ্টম স্থান অধিকার করেছেন। প্যারা অ্যাথলেটিক্সে রাকেশভাই ভাট এবং শ্রেয়াংশ ত্রিবেদী যথাক্রমে পঞ্চম ও ষষ্ঠ স্থানে শেষ করেছেন। সাঁতারে আর্যন নেহরা সপ্তম এবং সাজন প্রকাশ অষ্টম স্থান অর্জন করেছেন।
ভারত এখন পর্যন্ত মোট ১০টি পদক জিতেছে, যার মধ্যে দুটি স্বর্ণসহ একাধিক রৌপ্য ও ব্রোঞ্জ পদক রয়েছে।








