লখনউয়ে কথিত আন্তর্জাতিক কল সেন্টারে ক্রাইম ব্রাঞ্চের অভিযান, আটজন হেফাজতে

লখনউয়ের সুশান্ত গলফ সিটির ওম্যাক্স অ্যাপার্টমেন্টে একটি কথিত আন্তর্জাতিক কল সেন্টারে অভিযান চালিয়ে আটজনকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে কম্পিউটার, ল্যাপটপ, সার্ভার, মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে।
লখনউয়ে কথিত আন্তর্জাতিক কল সেন্টারে ক্রাইম ব্রাঞ্চের অভিযান, আটজন হেফাজতে
Photo Credit / Attribution: Google

সাইবার প্রতারণার বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে লখনউ ক্রাইম ব্রাঞ্চ বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সুশান্ত গলফ সিটির ওম্যাক্স অ্যাপার্টমেন্টে একটি কথিত আন্তর্জাতিক কল সেন্টারে অভিযান চালায়। বৃহস্পতিবার রাত প্রায় ১টা থেকে শুক্রবার ভোর ৫টার মধ্যে চালানো এই অভিযানে বিপুলসংখ্যক কম্পিউটার, ল্যাপটপ ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে এবং আটজনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

পুলিশের মতে, অ্যাপার্টমেন্টে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিচালিত একটি সন্দেহভাজন কল সেন্টার চলার তথ্য পাওয়া গিয়েছিল। এরপর ক্রাইম ব্রাঞ্চ ও স্থানীয় পুলিশের যৌথ দল পরিকল্পিতভাবে অভিযান চালায়। তদন্তের সময় ১২ তলায় পরিচালিত কল সেন্টার থেকে একাধিক ডিজিটাল সরঞ্জাম ও নথি উদ্ধার করা হয়।

এডিসিপি (ক্রাইম) কিরণ যাদবের মতে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে যে কথিতভাবে কাস্টমার সাপোর্ট সার্ভিসের নামে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করা হতো। পুলিশের দাবি, অনলাইনে ট্রান্সফার হওয়া কলের মাধ্যমে বিদেশি বা অন্যান্য গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হতো। তবে ডিজিটাল প্রমাণ ও বিস্তারিত তদন্তের পরই এসব অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা নিশ্চিত হবে।

পুলিশ জানিয়েছে, হেফাজতে নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে পুনীত ভার্মা ও দেবেন্দ্র প্যাটেলও রয়েছেন। কর্মকর্তাদের মতে, জিজ্ঞাসাবাদের সময় কয়েকজন কথিতভাবে প্রতারণাসংক্রান্ত কাজে যুক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তবে তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার সময় এসব বক্তব্যের আইনি মূল্য নির্ধারিত হবে।

উদ্ধার করা কম্পিউটার, ল্যাপটপ, সার্ভার, মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক সরঞ্জামের ফরেনসিক পরীক্ষা করা হবে। এগুলোর মাধ্যমে কল রেকর্ড, ডিজিটাল লেনদেন, বিদেশি যোগাযোগ এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত প্রমাণ বিশ্লেষণ করা হবে। এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে আরও কতজন যুক্ত এবং কতদিন ধরে এটি পরিচালিত হচ্ছিল, তা জানারও চেষ্টা করছে পুলিশ।

সম্প্রতি লখনউয়ে ধরা পড়া একটি বড় কথিত সাইবার প্রতারণা নেটওয়ার্কের পর এই অভিযান চালানো হয়েছে। ওই ঘটনায় পুলিশ অন্য একটি কল সেন্টারেও অভিযান চালিয়ে একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছিল। পুলিশের বক্তব্য, সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং এ ধরনের নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন জানিয়েছে, কোনো অচেনা কল, ভুয়া কাস্টমার কেয়ার নম্বর, বিনিয়োগ, ব্যাংকিং বা প্রযুক্তিগত সহায়তার নামে চাওয়া গোপন তথ্য যেন কেউ শেয়ার না করেন। কোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপের তথ্য অবিলম্বে স্থানীয় পুলিশ বা সাইবার হেল্পলাইনে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

বর্তমানে মামলার তদন্ত চলছে। হেফাজতে নেওয়া ব্যক্তিদের ভূমিকা, ডিজিটাল প্রমাণের পরীক্ষা এবং জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পরই মামলায় কোনো ব্যক্তির চূড়ান্ত দায় নির্ধারণ করা হবে।

Leave a comment