লখনউ সুপার জায়ান্টস চেন্নাই সুপার কিংসকে সাত উইকেটে হারিয়ে আইপিএল ২০২৬-এর সমীকরণে বড় পরিবর্তন এনে দিয়েছে। লখনউয়ের একানা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে চেন্নাই সুপার কিংস ২০ ওভারে পাঁচ উইকেটে ১৮৭ রান তোলে। কার্তিক শর্মার অর্ধশতক এবং শেষদিকে শিবম দুবে ও প্রশান্ত বীরের দ্রুত রান দলের স্কোরকে বড় জায়গায় পৌঁছে দেয়। জবাবে মিচেল মার্শ ও জশ ইংলিসের শতরানের জুটি লখনউকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যায়। পরে নিকোলাস পুরান ১৭তম ওভারের টানা চার বলে চারটি ছক্কা মেরে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। লখনউ ২০ বল বাকি থাকতেই তিন উইকেটে ১৮৮ রান তুলে জয় নিশ্চিত করে।
টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে চেন্নাই সুপার কিংসের শুরু ভালো হয়নি। দলটি ৭.২ ওভারে ৫২ রানের মধ্যে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট হারায়। স্যামসন ২০, অধিনায়ক গায়কওয়াড় ৯ এবং উর্বিল প্যাটেল ৬ রান করে আউট হন।
এরপর চার নম্বরে নেমে কার্তিক শর্মা দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন। তিনি ৪২ বলে ৭১ রান করেন। তার ইনিংসে ছিল ছয়টি চার ও পাঁচটি ছক্কা। এটি চলতি মরশুমে তার দ্বিতীয় অর্ধশতক। কার্তিকের সঙ্গে ডেওয়াল্ড ব্রেভিস চতুর্থ উইকেটে ৭০ রানের জুটি গড়েন। ব্রেভিস ১৬ বলে ২৫ রান করেন।
![]()
শেষের ওভারগুলোতে শিবম দুবে ও প্রশান্ত বীর দ্রুত রান তোলেন। শেষ ২৪ বলে দুজনে মিলে ৪৫ রান যোগ করেন। শিবম দুবে ১৬ বলে অপরাজিত ৩২ রান করেন। শেষ ওভারে তিনি দুটি ছক্কা ও দুটি চার মারেন। প্রশান্ত বীর ১৩ রানে অপরাজিত থাকেন।
লখনউয়ের হয়ে আকাশ মহারাজ সিং চার ওভারে ২৬ রান দিয়ে তিনটি উইকেট নেন। মোহাম্মদ শামি ও শাহবাজ আহমেদ একটি করে উইকেট পান।
১৮৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে লখনউ সুপার জায়ান্টস আক্রমণাত্মক শুরু করে। মিচেল মার্শ শুরু থেকেই চেন্নাইয়ের বোলারদের ওপর চাপ তৈরি করেন। তিনি ৩৮ বলে ৯০ রান করেন। তার ইনিংসে ছিল নয়টি চার ও সাতটি ছক্কা। শতরান না পেলেও তার ইনিংস ম্যাচের গতি বদলে দেয়।
![]()
জশ ইংলিস ৩২ বলে ৩৬ রান করেন। মার্শ ও ইংলিসের শতরানের জুটি চেন্নাইয়ের প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা অনেকটাই কমিয়ে দেয়।
ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত আসে ১৭তম ওভারে। নিকোলাস পুরান টানা চার বলে চারটি ছক্কা মারেন। তিনি ১৭ বলে অপরাজিত ৩২ রান করেন। মুকুল চৌধুরী ১৩ রান করে দলকে জয়ের কাছে পৌঁছে দেন। লখনউ তিন উইকেটে ১৮৮ রান তুলে ম্যাচ জিতে নেয়।
এই হারের পর চেন্নাই সুপার কিংসের পয়েন্ট দাঁড়িয়েছে ১২। দলের নেট রান রেট ০.০২৭। প্লে-অফে পৌঁছাতে হলে এখন বাকি ম্যাচগুলোতে জয় পাওয়ার পাশাপাশি অন্য দলের ফলাফলের দিকেও তাকিয়ে থাকতে হবে।
বর্তমানে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ চারে রয়েছে আরসিবি, গুজরাট, হায়দরাবাদ এবং পাঞ্জাব। লখনউ সুপার জায়ান্টস প্লে-অফের দৌড় থেকে ছিটকে গেলেও এই জয়ের মাধ্যমে প্রতিযোগিতার শেষ পর্যন্ত কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা বজায় রাখার বার্তা দিয়েছে।










