রথযাত্রার আগে বাংলার অন্যতম প্রাচীন ধর্মীয় উৎসবের সাক্ষী থাকল হুগলির মাহেশ। শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্য মেনে সোমবার ভোর থেকেই শুরু হয় জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রার আচার। হাজার হাজার ভক্তের উপস্থিতিতে মহাসমারোহে সম্পন্ন হয় এই বিশেষ অনুষ্ঠান, যার পর থেকেই শুরু হল প্রভুর অনবসর বা বিশ্রামপর্ব।
৬৩০ বছরের ঐতিহ্যে ভক্তদের ঢল মাহেশে
শ্রীরামপুরের মাহেশ জগন্নাথ মন্দিরে এ বছরের স্নানযাত্রা উৎসবেও দেখা গেল বিপুল জনসমাগম। ভোর থেকেই মন্দির চত্বরে ভক্তদের দীর্ঘ লাইন চোখে পড়ে। বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ ও বিশেষ পূজার মাধ্যমে শুরু হয় দিনের আচার। বহু শতাব্দী ধরে চলে আসা এই উৎসব বাংলার অন্যতম প্রাচীন জগন্নাথ ঐতিহ্য হিসেবে পরিচিত।
২৮ ঘড়া গঙ্গাজল ও দেড় মণ দুধে মহাস্নান
প্রথা অনুযায়ী, সেবায়েতরা জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রার দারুময় বিগ্রহকে স্নানমঞ্চে নিয়ে আসেন। সেখানে ২৮ ঘড়া গঙ্গাজল এবং প্রায় দেড় মণ খাঁটি দুধ দিয়ে দেবত্রয়কে মহাস্নান করানো হয়। স্থানীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই জল ও দুধের পরিমাণে কোনও পরিবর্তন হয়নি।
স্নানের পর শুরু অনবসর, বন্ধ গর্ভগৃহ
স্নানযাত্রার পর প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী অতিরিক্ত স্নানের কারণে প্রভু জ্বরে আক্রান্ত হন। সেই কারণেই শুরু হয় অনবসর বা অঙ্গরাগ পর্ব। এই সময় আগামী ১৪ দিন সাধারণ ভক্তদের জন্য গর্ভগৃহের দরজা বন্ধ থাকবে। বিশেষ কবিরাজদের তত্ত্বাবধানে প্রতীকী চিকিৎসার মাধ্যমে প্রভুর শুশ্রূষার রীতি পালন করা হবে।
নবযৌবন উৎসবের পর রথযাত্রার প্রস্তুতি
অনবসর পর্ব শেষ হলে নবযৌবন উৎসবের মাধ্যমে নতুন রূপে দর্শন দেবেন জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রা। এরপরই শুরু হবে মাহেশের ঐতিহাসিক রথযাত্রা। ইতিমধ্যেই প্রশাসন নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণে বিশেষ প্রস্তুতি শুরু করেছে, কারণ প্রতি বছর লক্ষাধিক ভক্ত এই উৎসবে অংশ নেন।
হুগলির মাহেশে প্রাচীন রীতি মেনে জগন্নাথদেব, বলভদ্র ও সুভদ্রার স্নানযাত্রা সম্পন্ন হল। ২৮ ঘড়া গঙ্গাজল ও দেড় মণ খাঁটি দুধে মহাস্নানের পর লোকবিশ্বাস অনুযায়ী অনবসর পর্ব শুরু হয়েছে। আগামী ১৪ দিন গর্ভগৃহ বন্ধ থাকবে, এরপর নবযৌবন উৎসবের মাধ্যমে ফের দর্শন দেবেন প্রভু।











