শিলিগুড়িতে এক অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি Droupadi Murmu–র মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। ধর্নামঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee অভিযোগ করেন, বিজেপি রাষ্ট্রপতিকে রাজনীতির জন্য ব্যবহার করছে। এই মন্তব্যের পরই তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi।

রাষ্ট্রপতির মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক
শিলিগুড়িতে আন্তর্জাতিক সাঁওতাল কনফারেন্সে যোগ দিয়ে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু আদিবাসী সম্প্রদায়ের উন্নয়ন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, আদিবাসী সমাজ আদৌ সরকারি সুযোগ-সুবিধা যথাযথভাবে পাচ্ছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।এই মন্তব্য ঘিরেই রাজনৈতিক বিতর্কের সূত্রপাত হয়।
ধর্নামঞ্চ থেকে মমতার পাল্টা
সন্ধ্যায় ধর্নামঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বিজেপি রাষ্ট্রপতিকে দিয়েও রাজনীতি করানোর চেষ্টা করছে। তাঁর কথায়, বছরে একবার রাষ্ট্রপতি এলে তিনি স্বাগত জানাবেন, কিন্তু বারবার অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়।মমতা আরও বলেন, তাঁর কাছে মানুষের সমস্যা এবং SIR ইস্যু বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ধর্নামঞ্চ থেকেই তিনি দাবি করেন, SIR–এর কারণে বহু আদিবাসীর নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বলেও অভিযোগ ওঠেছে।

প্রধানমন্ত্রী মোদীর তীব্র প্রতিক্রিয়া
অন্যদিকে, রাষ্ট্রপতির বক্তব্য তুলে ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিক্রিয়া জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি লেখেন, জনজাতি সম্প্রদায় থেকে উঠে আসা রাষ্ট্রপতির বেদনা দেশের মানুষের মনে গভীর দুঃখের সৃষ্টি করেছে।প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস সরকার রাষ্ট্রপতির প্রতি যথাযথ সম্মান দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে এবং এই পরিস্থিতির জন্য রাজ্য প্রশাসনই দায়ী।
আদিবাসী উন্নয়ন নিয়ে পাল্টা দাবি
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাল্টা দাবি করেন, রাজ্যে আদিবাসী সম্প্রদায়ের উন্নয়নে একাধিক প্রকল্প চালু করেছে সরকার। তাঁর বক্তব্যে, সমালোচনা করা যেতে পারে, কিন্তু বাস্তবে আদিবাসী উন্নয়নে রাজ্য সরকার যে কাজ করেছে, তা খতিয়ে দেখা উচিত।তিনি আদিবাসী প্রতিনিধিদের নির্দেশ দেন, রাষ্ট্রপতির কাছে সময় নিয়ে রাজ্য সরকারের কাজের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরতে।

শিলিগুড়ির অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ল। ধর্নামঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাল্টা মন্তব্যের জেরে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে সরব হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।









