কিছু হলেই রাস্তায় বসে পড়ে, প্রাণ ওষ্ঠাগত করে দেয়’—অশান্তি নিয়ে কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রী মমতার

ওয়াটগঞ্জে প্রশাসনিক সভা থেকে অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা নিয়ে সতর্ক করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটের রাজনীতিতে শুরু নতুন বিতর্ক।

ভোটের মরশুমে অশান্তির আশঙ্কা নিয়ে ফের সরব মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওয়াটগঞ্জের দইঘাটে নতুন শ্মশানের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানের পর প্রশাসনিক কর্তাদের উদ্দেশে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন—বাংলায় কেউ কেউ পরিকল্পিতভাবে অশান্তি ছড়াতে চাইছে, তাই সবাইকে ঠান্ডা মাথায় কাজ করতে হবে। শান্তিই বাংলার মূল শক্তি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

‘বাংলা শান্তি চায়’—প্রশাসনের উদ্দেশে কড়া নির্দেশ

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভোটের স্বার্থে কিছু মহল অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তবে রাজ্য সরকার সেই পথে হাঁটবে না। প্রশাসনের উদ্দেশে তাঁর নির্দেশ, পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে সংযম ও সচেতনতার সঙ্গে। পরিবার ও সমাজে শান্তি বজায় রাখাই এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।

৩০ শতাংশ মন্তব্যে রাজনৈতিক ব্যাখ্যা শুরু

সভা মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, রাজ্যের একটি বড় অংশের মানুষ সামান্য কিছু ঘটলেই রাস্তায় নেমে পড়েন, অবরোধ ও বিক্ষোভে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। যদিও তিনি কোনও সম্প্রদায়ের নাম নেননি, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মন্তব্য ঘিরে সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কের প্রসঙ্গ উঠে এসেছে।

সংখ্যালঘু ভোটের অঙ্ক ও বিধানসভা সমীকরণ

রাজনৈতিক মহলের হিসাব অনুযায়ী, রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভার মধ্যে প্রায় ১৪৬টিতে সংখ্যালঘু ভোট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর মধ্যে তৃণমূলের দখলে রয়েছে অধিকাংশ আসন। ভোট শতাংশের নিরিখে বহু বিধানসভাতেই সংখ্যালঘু ভোট ২৫ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত।

বিজেপির অবস্থান ও বিরোধী প্রতিক্রিয়া

রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব সংখ্যালঘু ভোট নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করার চেষ্টা করছে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, তিনি কখনও সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে নন, বরং অপরাধীদের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের সমালোচনা করে সিপিএম নেতা কলতান দাশগুপ্ত প্রশ্ন তুলেছেন—অশান্তি রুখতে প্রশাসনের ভূমিকা কতটা নিরপেক্ষ?

ওয়াটগঞ্জের দইঘাটে প্রশাসনিক সভা থেকে বাংলায় অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা নিয়ে সতর্ক করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটের স্বার্থে অশান্তি না ছড়িয়ে শান্তি বজায় রাখার নির্দেশ প্রশাসনের উদ্দেশে। তাঁর মন্তব্য ঘিরে শুরু রাজনৈতিক বিতর্ক।

Leave a comment