সংসদের বাজেট অধিবেশনের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়েছে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর যৌথ ভাষণের মাধ্যমে। এই অধিবেশন দুই পর্বে অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম পর্ব চলবে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় পর্ব নির্ধারিত রয়েছে ৯ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত। অধিবেশনের সময় ১ ফেব্রুয়ারি অর্থমন্ত্রী সাধারণ বাজেট (ইউনিয়ন বাজেট) পেশ করবেন।
বাজেট অধিবেশন দুই পর্বে আয়োজন করা হয়েছে। প্রথম পর্বে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব, বাজেট উপস্থাপন এবং প্রাথমিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। দ্বিতীয় পর্বে বিভিন্ন মন্ত্রকের অনুদান দাবির ওপর আলোচনা এবং অন্যান্য আইনগত কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে। সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, এই কাঠামোর ফলে সংসদের কাজকর্ম সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হয়।
বাজেট অধিবেশন শুরুর আগে সর্বদলীয় বৈঠকে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে মতবিরোধ প্রকাশ্যে আসে। বৈঠকে বিরোধী দল একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনার দাবি তোলে, যা সরকার গ্রহণ করেনি। এর ফলে অধিবেশনের সময় সংঘাতের সম্ভাবনার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
সর্বদলীয় বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। বৈঠকে সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সংসদ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করাই সরকারের অগ্রাধিকার এবং বিধি মেনে আলোচনা করা হবে। তিনি বিরোধী দলকে অধিবেশন চলাকালীন অপ্রয়োজনীয় বিশৃঙ্খলা এড়ানোর আহ্বান জানান।
বিরোধী দলের দাবিগুলির মধ্যে অন্যতম ছিল বিকশিত ভারত–গ্যারান্টি ফর এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড লাইভলিহুড মিশন গ্রামীণ বা ভিবি-গ্রামজি (VB-GRAMJI) আইন নিয়ে আলোচনা। বিরোধীদের যুক্তি ছিল, এই আইন গ্রামীণ কর্মসংস্থান ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনে, তাই সংসদে বিস্তারিত বিতর্ক প্রয়োজন। সরকার জানায়, এই বিল ইতিমধ্যেই গত শীতকালীন অধিবেশনে সংসদে পাশ হয়েছে এবং রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর তা আইনে পরিণত হয়েছে। তাই পুনরায় আলোচনা উপযুক্ত নয়। সরকার আরও জানায়, এই আইনের মাধ্যমে গ্রামীণ পরিবারগুলিকে বছরে ১০০ দিনের পরিবর্তে ১২৫ দিনের কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে।

ভিবি-গ্রামজি আইনকে কেন্দ্র করে সরকার দাবি করে যে এটি গ্রামীণ কর্মসংস্থান ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করবে। অন্যদিকে বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, এই পরিবর্তনের ফলে মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এই মতভেদের কারণেই আইনটি নিয়ে আলোচনার দাবি ওঠে, যা সরকার মানেনি।
আরেকটি বিতর্কিত বিষয় ছিল ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়া, যা ২০২৫ সালে শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, বিশেষ করে তৃণমূল কংগ্রেসসহ কয়েকটি দলের মতে, এই প্রক্রিয়ার ফলে কিছু রাজ্যে সংখ্যালঘু এবং অভিবাসী ভোটারদের প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাদের দাবি, নির্বাচনী রাজ্যগুলিতে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সরকার এই বিষয়েও আলোচনার দাবি নাকচ করে জানায় যে আগের অধিবেশনেই নির্বাচন সংস্কার নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং নির্বাচন কমিশনের প্রক্রিয়া সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যেই পরিচালিত হয়।
কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ, তৃণমূল কংগ্রেসের সাগরিকা ঘোষ এবং সিপিআই(এম)-এর জন ব্রিটাসসহ বিরোধী দলের একাধিক নেতা অভিযোগ করেন যে সরকার আগাম আইনগত এজেন্ডা প্রকাশ করছে না। এ বিষয়ে কিরেন রিজিজু বলেন, রাষ্ট্রপতির ভাষণের পরই আনুষ্ঠানিক এজেন্ডা জানানো সংসদীয় রীতির অংশ।
এই বাজেট অধিবেশনে ১ ফেব্রুয়ারি, রবিবার সাধারণ বাজেট পেশ করা হবে, যা সংসদীয় ইতিহাসে বিরল ঘটনা হিসেবে বিবেচিত। সাধারণত বাজেট কর্মদিবসে পেশ করা হয়, তবে এ বার তারিখের কারণে রবিবার বাজেট উপস্থাপন করা হচ্ছে।
অধিবেশন চলাকালীন পাঁচটি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই রাজ্যগুলি হল অসম, কেরল, তামিলনাড়ু, পশ্চিমবঙ্গ এবং পুদুচেরি। নির্বাচনী পরিস্থিতির কারণে সংসদে রাজনৈতিক মতবিরোধ ও তর্ক-বিতর্কের সম্ভাবনা রয়েছে।











