অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর কথিত হামলার প্রতিবাদে ধর্মতলায় আজ ধর্নায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও অন্যান্য টিএমসি নেতাদের ওপর কথিত হামলার প্রতিবাদে কলকাতার ধর্মতলায় ধর্না কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দল রাজ্যজুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচিরও ঘোষণা করেছে, যদিও বিরোধীরা অভিযোগগুলি খারিজ করেছে।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ কলকাতার ধর্মতলা এলাকার ওয়াই-চ্যানেলে তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) নেতা ও সাংসদদের ওপর কথিত হামলার প্রতিবাদে ধর্না কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। দলীয় কর্মীরাও এই কর্মসূচিতে যোগ দেবেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়েছে।

তৃণমূল কংগ্রেস জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে দলের নেতাদের রাজনৈতিক হিংসার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে এবং তার প্রতিবাদে গণতান্ত্রিক উপায়ে অবস্থান বিক্ষোভ সংগঠিত করা হবে। প্রথমে রানি রাসমণি অ্যাভিনিউয়ে কর্মসূচির পরিকল্পনা থাকলেও অনুমতি না মেলায় পরে ধর্মতলার ওয়াই-চ্যানেলে স্থান পরিবর্তন করা হয়।

বিতর্কের সূত্রপাত দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সোনারপুর এলাকায় সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর কথিত হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাঁর কনভয় ও কর্মসূচির সময় কিছু ব্যক্তি বিক্ষোভ দেখায় এবং ডিম, জুতো ও অন্যান্য বস্তু নিক্ষেপের পাশাপাশি ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটে।

ঘটনার পর তৃণমূল কংগ্রেস একে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত হামলা বলে দাবি করেছে। অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলি এই অভিযোগ খারিজ করেছে। পুলিশ একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিষয়টি আইনি পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি আদালতের দ্বারস্থ হওয়া এবং সংসদীয় মঞ্চেও বিষয়টি উত্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘটনার পর সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও কথিত হামলার অভিযোগ সামনে আসে। হুগলি জেলায় একটি বিক্ষোভ কর্মসূচির সময় তিনি আহত হন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে, যার ফলে রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে।

তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্বের বক্তব্য, এ ধরনের ধারাবাহিক ঘটনা গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য উদ্বেগজনক এবং বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, তাঁর দলকে দুর্বল করার লক্ষ্যে সংগঠিত প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক চাপ, প্রশাসনিক পদক্ষেপ এবং ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেছেন, প্রতিবাদ গণতান্ত্রিক অধিকার এবং দল তাদের নেতা ও কর্মীদের সমর্থনে অবস্থান অব্যাহত রাখবে। পুলিশি অনুমতি না মেলার পরও ধর্না কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার কথা তিনি জানিয়েছিলেন।

তৃণমূল কংগ্রেস কলকাতার পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গজুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা করেছে। বিভিন্ন জেলায় দলীয় কর্মীরা মিছিল, ধর্না ও প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজন করেছেন বলে দল জানিয়েছে।

দলের বক্তব্য, এই কর্মসূচিগুলির উদ্দেশ্য রাজনৈতিক হিংসার বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির সুরক্ষার দাবি জানানো। অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেস এই ঘটনাগুলিকে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে।

ধর্নার আগে দলীয় নেতৃত্ব বিধায়কদের একটি বৈঠকও ডেকেছিল। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈঠকে প্রত্যাশিত সংখ্যক বিধায়ক উপস্থিত থাকতে পারেননি, যা রাজনৈতিক মহলে আলোচনা তৈরি করেছে।

তৃণমূল কংগ্রেস নেতারা এ বিষয়ে জানিয়েছেন, একাধিক বিধায়ক নিজেদের এলাকায় বিক্ষোভ কর্মসূচি এবং দলীয় কর্মীদের সঙ্গে বৈঠকে ব্যস্ত থাকায় তাঁরা ওই বৈঠকে যোগ দিতে পারেননি।

 

Leave a comment