রাজনীতির মঞ্চে অনেক উত্থানের গল্প শোনা যায়, কিন্তু চাষের খেত থেকে রাজ্যের মন্ত্রিসভায় পৌঁছানোর গল্প সত্যিই ব্যতিক্রমী। মালদহের হবিবপুরের বিধায়ক জোয়েল মুর্মু সেই বিরল উদাহরণগুলির মধ্যে অন্যতম। পেশায় কৃষক, শিক্ষাগত যোগ্যতায় নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা, আর আজ তিনি রাজ্যের নতুন প্রতিমন্ত্রী। তাঁর এই সাফল্যে গর্বিত গোটা হবিবপুর, আনন্দে মেতেছে আদিবাসী অধ্যুষিত বিস্তীর্ণ অঞ্চল।

প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে রাজ্যের ক্ষমতার কেন্দ্রে
মালদহ জেলার হবিবপুর ব্লকের বৈদপুর অঞ্চলের বাসিন্দা জোয়েল মুর্মু দীর্ঘদিন ধরেই এলাকার মানুষের পরিচিত মুখ। কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত থেকেও তিনি রাজনীতির ময়দানে নিজের অবস্থান শক্ত করেছেন। সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে টানা তিনবার বিধায়ক নির্বাচিত হওয়ার পর এবার মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়া তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম বড় সাফল্য।
শপথের খবর পৌঁছাতেই উৎসবের আবহ
সোমবার কলকাতার লোক ভবনে নতুন মন্ত্রিসভার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন জোয়েল মুর্মু। সেই খবর হবিবপুরে পৌঁছাতেই শুরু হয় আনন্দ-উৎসব। বিভিন্ন এলাকায় কর্মী-সমর্থকেরা আবির খেলায় মেতে ওঠেন। ধামসা-মাদলের তালে নাচ, পটকা ফাটানো এবং মিছিলের মাধ্যমে উদযাপন করা হয় এই বিশেষ মুহূর্ত।

আদিবাসী সংস্কৃতির রঙে রঙিন উদযাপন
হবিবপুর ব্লকের কেন্দপুকুর এলাকায় দলীয় কার্যালয় থেকে একটি বর্ণাঢ্য মিছিল বের করা হয়। মিছিলে আদিবাসী সংস্কৃতির ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র ধামসা ও মাদলের আওয়াজে মুখর হয়ে ওঠে এলাকা। পরে কালীমন্দিরে পুজো দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং আদিবাসী নেতা জিতু হেমব্রমের মূর্তিতে মাল্যদান করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন কর্মী-সমর্থকেরা।
কৃষক পরিবারের সন্তান, স্ত্রীর পেশা অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী
নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী, ৪২ বছর বয়সি জোয়েল মুর্মু পেশায় একজন কৃষক। তাঁর স্ত্রী একজন অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী। সাধারণ জীবনযাপন এবং মাটির মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্কই তাঁর জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ বলে মনে করেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। এলাকার মানুষও তাঁকে নিজেদের পরিবারের সদস্যের মতোই দেখেন।
উন্নয়নের নতুন আশায় বুক বাঁধছে হবিবপুর
জোয়েল মুর্মুর মন্ত্রিত্ব পাওয়ার খবরে সবচেয়ে বেশি আশাবাদী সাধারণ মানুষ। স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে পিছিয়ে থাকা হবিবপুরে কলেজ, উন্নত হাসপাতাল, সড়ক যোগাযোগ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে এবার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। মন্ত্রিসভায় সরাসরি প্রতিনিধিত্ব পাওয়ায় উন্নয়নমূলক প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়িত হবে বলেই তাঁদের বিশ্বাস।

রাজনৈতিক সাফল্যের পাশাপাশি সামাজিক বার্তাও
একটি আদিবাসী পরিবার থেকে উঠে আসা একজন কৃষকের রাজ্যের মন্ত্রী হওয়া শুধু রাজনৈতিক সাফল্যের গল্প নয়, বরং সামাজিক অন্তর্ভুক্তিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। বহু তরুণের কাছে জোয়েল মুর্মুর এই উত্থান অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে। সমাজের প্রান্তিক অংশ থেকেও যে নেতৃত্বের শীর্ষে পৌঁছানো সম্ভব, তাঁর জীবন সেই বাস্তবতাই তুলে ধরছে।

মালদহের প্রত্যন্ত আদিবাসী অধ্যুষিত হবিবপুর থেকে উঠে আসা কৃষক পরিবারের সন্তান জোয়েল মুর্মু এবার রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী। টানা তিনবারের বিধায়ক হিসেবে রাজনৈতিক লড়াইয়ে সফলতার পর মন্ত্রিসভায় স্থান পেতেই এলাকাজুড়ে শুরু হয়েছে উৎসব। ধামসা-মাদল, আবির খেলা ও মিছিলের মধ্য দিয়ে এই সাফল্য উদযাপন করেছেন কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ মানুষ।










