মাত্র ১৫ বছর বয়সে আইপিএলের মঞ্চ কাঁপিয়ে দিয়েছেন বৈভব সূর্যবংশী। ধারাবাহিক রান, বিধ্বংসী ব্যাটিং এবং চাপের মুহূর্তে ম্যাচ জেতানোর ক্ষমতায় তিনি হয়ে উঠেছেন টুর্নামেন্টের অন্যতম বড় তারকা। তবে মাঠের সাফল্যের পাশাপাশি এবার আলোচনায় উঠে এসেছে তাঁর খাদ্যাভ্যাসও। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বৈভব নিজেই জানিয়েছেন, তিনি এখন আর দুধ পান করেন না। আর সেই মন্তব্যই ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন চর্চা।

আইপিএলের সবচেয়ে আলোচিত তরুণ তারকা
২০২৬ সালের আইপিএল মরসুমে বৈভব সূর্যবংশী নিজেকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছেন। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তিনি শুধু দলের ভরসা হয়ে ওঠেননি, ক্রিকেটপ্রেমীদেরও নজর কেড়েছেন। ফাইনালে দলের ফলাফল যাই হোক না কেন, মরসুমজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন এই তরুণ ব্যাটার।
রানবন্যায় রেকর্ডের পর রেকর্ড
মাত্র ১৬ ম্যাচে ৭৭৬ রান করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হিসেবে উঠে আসেন বৈভব। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ৫টি অর্ধশতক এবং ১টি শতরান। দুর্দান্ত ধারাবাহিকতার পুরস্কার হিসেবে তিনি জিতে নেন অরেঞ্জ ক্যাপ। পাশাপাশি ‘মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার’, ‘সুপার স্ট্রাইকার অফ দ্য সিজন’ এবং ‘সুপার সিক্সার অ্যাওয়ার্ড’-ও তাঁর ঝুলিতে যায়।

দুধ নয়, আত্মবিশ্বাসই তাঁর শক্তি
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বৈভবের একটি মন্তব্য বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। তিনি বলেন, “আমি এখন দুধ খাচ্ছি না। তবে আমি নিজের খেলায় বিশ্বাস রাখি।” এই বক্তব্যের পর অনেকেরই কৌতূহল বেড়েছে। কারণ সাধারণভাবে ক্রীড়াবিদদের খাদ্যতালিকায় দুধকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। কিন্তু বৈভবের মতে, সাফল্যের আসল চাবিকাঠি খাদ্যের চেয়ে বেশি নিজের মানসিক প্রস্তুতি ও আত্মবিশ্বাস।
প্রথম বল থেকেই আক্রমণের মানসিকতা
নিজের ব্যাটিং দর্শন ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বৈভব বলেন, যদি প্রথম বল তাঁর পছন্দের জায়গায় পড়ে, তাহলে তিনি বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করে আক্রমণাত্মক শট খেলেন। প্রতিপক্ষ বোলারের নাম বা অভিজ্ঞতা নয়, পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়াকেই তিনি বেশি গুরুত্ব দেন। এই নির্ভীক মনোভাবই তাঁকে আইপিএলের অন্যতম সফল ব্যাটারে পরিণত করেছে।

চাপ সামলানোর বড় শিক্ষা
বৈভব জানিয়েছেন, চলতি মরসুমে তিনি সবচেয়ে বড় যে শিক্ষা পেয়েছেন, তা হল চাপের মধ্যে নিজের খেলার ধরন বদলানো। প্রতিটি ম্যাচ একইভাবে খেলা যায় না। কখন আক্রমণ করতে হবে, কখন ধৈর্য ধরতে হবে এবং দলের প্রয়োজন অনুযায়ী কীভাবে নিজেকে মানিয়ে নিতে হবে, সেই অভিজ্ঞতা তিনি বিশেষ করে প্লে-অফ ম্যাচগুলো থেকে অর্জন করেছেন।
ফিটনেস নিয়েই এখন সবচেয়ে বেশি ভাবনা
অসাধারণ সাফল্যের মধ্যেও নিজের উন্নতির জায়গা নিয়ে যথেষ্ট সচেতন বৈভব। তাঁর কথায়, দীর্ঘদিন ক্রিকেট খেলতে হলে ফিটনেসের উপর আরও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। ইনজুরি এড়িয়ে ধারাবাহিকভাবে পারফর্ম করার জন্য ভবিষ্যতে শারীরিক সক্ষমতা বাড়ানোর দিকেই বিশেষ নজর দিতে চান তিনি।

আইপিএল ২০২৬-এ দুরন্ত পারফরম্যান্স করে ক্রিকেট বিশ্বের নতুন সেনসেশন হয়ে উঠেছেন তরুণ ব্যাটার বৈভব সূর্যবংশী। অরেঞ্জ ক্যাপ থেকে এমভিপি—একাধিক পুরস্কার জয়ের পর নিজের ফিটনেস, মানসিকতা এবং সাফল্যের নেপথ্যের গল্প শোনালেন তিনি। অবাক করা বিষয়, যে দুধকে অনেকেই তাঁর খাদ্যাভ্যাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ মনে করতেন, সেটিই এখন আর খান না বৈভব।









