শীতের বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্যের আম-বেল্টে গাছে গাছে মুকুল দেখা দিতে শুরু করেছে। জানুয়ারির শেষ দিক থেকেই মালদা ও মুর্শিদাবাদ জেলায় আম চাষিরা ব্যস্ত বাগানের যত্নে। এই সময় সামান্য অবহেলাতেই নষ্ট হতে পারে গোটা মরসুমের ফলন। তাই মুকুল আসার পর ঠিক কীভাবে আম গাছের পরিচর্যা করতে হবে, তা জানালেন কৃষিবিজ্ঞানী।
মুকুলের সময় কেন যত্ন জরুরি
কৃষিবিজ্ঞানী ড. রাজেন্দ্র শর্মার মতে, আম গাছে মুকুল আসার পরবর্তী কয়েক সপ্তাহ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই সময় গাছ দুর্বল থাকলে রোগ, পোকামাকড় ও আবহাওয়ার প্রভাব সরাসরি ফলনের উপর পড়ে। মুকুল সুস্থ থাকলেই ভালো গুটি বাঁধে এবং ফল ঝরে পড়ার হার কমে।
আগাছা ও পরগাছা পরিষ্কার করুন
গাছের গোড়ায় আগাছা থাকলে তা মাটির পুষ্টি শুষে নেয়। পাশাপাশি রোগের আশঙ্কাও বাড়ে। তাই নিয়মিত আগাছা পরিষ্কার করা জরুরি। একই সঙ্গে গাছের গায়ে জন্মানো পরগাছা ও অপ্রয়োজনীয় লতা কেটে ফেললে গাছের শক্তি সঠিক জায়গায় কাজে লাগে।
মরা ডালপালা ছাঁটাই
শুকনো ও মরা ডাল গাছে শুধু ওজন বাড়ায়। এগুলি কেটে দিলে গাছ হালকা হয় এবং বাতাস ও আলো সহজে প্রবেশ করতে পারে। ফলে মুকুল সুস্থ থাকে এবং রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি কমে।
সেচ ব্যবস্থায় নিয়ন্ত্রণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, মুকুল আসার আগে ২–৩ মাস সেচ বন্ধ রাখলে গাছ স্বাভাবিকভাবেই ফুল ধরার জন্য প্রস্তুত হয়। অতিরিক্ত জল দিলে উল্টে মুকুল ঝরে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
প্রথম স্প্রে কখন ও কীভাবে করবেন
মুকুল যখন ৪–৬ ইঞ্চি লম্বা হবে, তখন প্রথম স্প্রে করা অত্যন্ত জরুরি।
১ লিটার পানিতে ০.৫ মিলিলিটার ইমিডাক্লোপ্রিড
সঙ্গে ২ গ্রাম ম্যানকোজেব
এই মিশ্রণ গাছের সব অংশ ভিজিয়ে স্প্রে করতে হবে। এতে রোগ ও পোকামাকড়ের আক্রমণ কমে।
ফুল ফোটার সময় স্প্রে নয়
মনে রাখতে হবে, ফুল ফোটা অবস্থায় কোনো স্প্রে করা যাবে না। প্রয়োজনে জানুয়ারি মাসেই স্প্রে শেষ করতে হবে। কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়া থাকলে মুকুল আসার ১৫–২০ দিন আগেই স্প্রে করার পরামর্শ দেন কৃষিবিজ্ঞানীরা।
হপার পোকা থেকে সুরক্ষা
হপার পোকার আক্রমণে মুকুল ও ফুল নষ্ট হয়ে যায়। এর জন্য
১ লিটার পানিতে ১ মিলিলিটার সাইপারমেথ্রিন
সঙ্গে ২ গ্রাম সালফারযুক্ত ছত্রাকনাশক
ব্যবহার করলে হপার পোকা ও সুটিমোল্ড ছত্রাকের ঝুঁকি অনেকটাই কমে।
দ্বিতীয় স্প্রে ফল বাঁধার সময়
মুকুলে গুটি ধরে যখন আম মটরদানার আকার নেয়, তখন দ্বিতীয় স্প্রে করতে হবে।
১ লিটার পানিতে ০.৫ মিলিলিটার ইমিডাক্লোপ্রিড
সঙ্গে ২ গ্রাম কার্বেন্ডাজিম
এতে ফল ঝরে পড়া কমে এবং ফলন ভালো হয়।
মালদা ও মুর্শিদাবাদে আম গাছে মুকুল আসা শুরু করেছে। এই সময় সঠিক পরিচর্যা না করলে ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। কৃষিবিজ্ঞানীর পরামর্শ অনুযায়ী আগাছা পরিষ্কার, সঠিক সময়ে স্প্রে, হপার পোকা দমন ও সেচ নিয়ন্ত্রণ করলে আমের ফলন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব।








