ভারতের গাড়ির বাজারে হ্যাচব্যাকের চাহিদা বরাবরই উল্লেখযোগ্য। সেই বাজারে Maruti Suzuki Baleno-র জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ হল ব্যবহারিক ডিজাইন, তুলনামূলক সাশ্রয়ী দাম এবং জ্বালানি সাশ্রয়ের সম্ভাবনা। ২০২৬ সালের ফেসলিফট মডেলে ইঞ্জিন ও ডিজাইনের পরিবর্তনের পাশাপাশি ADAS-এর মতো আধুনিক প্রযুক্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। গাড়িটির দাম, মাইলেজ ও ফিচার সম্পর্কে জেনে নিন বিস্তারিত।
৫.৯৯ লক্ষ টাকা থেকে শুরু Baleno-র দাম
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নতুন Maruti Suzuki Baleno-র প্রাথমিক এক্স-শোরুম দাম ৫.৯৯ লক্ষ টাকা। টপ ভ্যারিয়েন্টের দাম প্রায় ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। গাড়িটি সিগমা, ডেল্টা, জেটা, আলফা এবং আলফা (O)—এই পাঁচটি ভ্যারিয়েন্টে পাওয়া যাওয়ার কথা বলা হয়েছে।
তবে এক্স-শোরুম দামের সঙ্গে রেজিস্ট্রেশন, বিমা এবং অন্যান্য খরচ যোগ হলে অন-রোড দাম বাড়বে। তাই গাড়ি কেনার আগে নিজের শহরের ডিলারের কাছ থেকে চূড়ান্ত দাম জেনে নেওয়া জরুরি।
CNG-তে প্রতি কেজিতে ৩৩.৬১ কিলোমিটার মাইলেজের দাবি
নতুন Baleno-র অন্যতম আকর্ষণীয় দিক হল জ্বালানি সাশ্রয়। দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পেট্রল ম্যানুয়াল সংস্করণে প্রতি লিটারে সর্বোচ্চ ২৩.৮০ কিলোমিটার এবং AMT সংস্করণে ২৪.৭৭ কিলোমিটার মাইলেজের দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে, CNG সংস্করণে প্রতি কেজিতে সর্বোচ্চ ৩৩.৬১ কিলোমিটার মাইলেজ পাওয়া যেতে পারে বলে উল্লেখ রয়েছে।
ইঞ্জিন ও গিয়ারবক্স দাবি করা সর্বোচ্চ মাইলেজ
পেট্রল ম্যানুয়াল ২৩.৮০ কিমি/লিটার
পেট্রল AMT ২৪.৭৭ কিমি/লিটার
CNG ৩৩.৬১ কিমি/কেজি
মনে রাখতে হবে, এগুলি সংস্থার দাবি করা মাইলেজের পরিসংখ্যান। বাস্তবে রাস্তার অবস্থা, ট্রাফিক, গাড়ি চালানোর ধরন এবং রক্ষণাবেক্ষণের উপর নির্ভর করে মাইলেজ কমবেশি হতে পারে।
ইঞ্জিনে পরিবর্তন, E20 জ্বালানির উপযোগিতা
প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২০২৬ সালের মডেলে পেট্রল ও CNG—দুই সংস্করণেই ইঞ্জিনের পরিবর্তন করা হয়েছে। আগের চার সিলিন্ডারের পরিবর্তে তিন সিলিন্ডারের ইঞ্জিন ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। পেট্রল সংস্করণে ক্ষমতা ও টর্ক কিছুটা কমলেও মাইলেজ বাড়ানোর দিকে নজর দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে।
এছাড়া, নতুন ইঞ্জিন E20 পেট্রলের উপযোগী বলে দাবি করা হয়েছে। তবে ইঞ্জিনের নির্দিষ্ট ক্ষমতা, টর্ক এবং জ্বালানি-সংক্রান্ত তথ্য কেনার আগে সংশ্লিষ্ট ভ্যারিয়েন্টের অফিসিয়াল স্পেসিফিকেশন থেকে যাচাই করে নেওয়া উচিত।
Level 2 ADAS-সহ একাধিক সুরক্ষা ফিচার
গাড়িটির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হিসেবে Level 2 Advanced Driver Assistance Systems বা ADAS-এর কথা বলা হয়েছে। এই প্রযুক্তির আওতায় থাকতে পারে অ্যাডাপটিভ ক্রুজ কন্ট্রোল, লেন কিপ অ্যাসিস্ট, লেন ডিপার্চার ওয়ার্নিং, ফরওয়ার্ড কলিশন ওয়ার্নিং, রিয়ার ক্রস ট্রাফিক অ্যালার্ট এবং হাই বিম অ্যাসিস্টের মতো সুবিধা।
এছাড়াও দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গাড়িতে রয়েছে ৬টি এয়ারব্যাগ, ABS-এর সঙ্গে EBD, টায়ার প্রেশার মনিটরিং সিস্টেম (TPMS), ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরা, ISOFIX চাইল্ড সিট অ্যাঙ্কর এবং হিল-হোল্ড অ্যাসিস্ট।
তবে ADAS-সহ প্রতিটি ফিচার সব ভ্যারিয়েন্টে রয়েছে কি না, তা আলাদা করে যাচাই করা প্রয়োজন। ড্রাইভার-অ্যাসিস্ট প্রযুক্তি চালককে সাহায্য করলেও নিরাপদে গাড়ি চালানোর দায়িত্ব চালকেরই।
বাইরের ডিজাইনে নতুন ছোঁয়া
২০২৬ সালের ফেসলিফট মডেলে গাড়ির সামগ্রিক গঠন আগের Baleno-র মতোই রাখা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। তবে সামনের অংশে বড় গ্রিল, অনুভূমিক ক্রোমের নকশা, নতুন বাম্পার এবং ফগ ল্যাম্পের মতো পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে।
অর্থাৎ, সম্পূর্ণ নতুন প্রজন্মের গাড়ির বদলে বাইরের চেহারায় কিছু পরিবর্তন এনে পরিচিত ডিজাইন বজায় রাখার দিকেই জোর দেওয়া হয়েছে।
কেবিনে আরাম ও আধুনিক প্রযুক্তি
গাড়ির ভিতরে রয়েছে একাধিক আরামদায়ক ও প্রযুক্তিনির্ভর ফিচারের কথা। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এর মধ্যে রয়েছে ৯ ইঞ্চির টাচস্ক্রিন ইনফোটেনমেন্ট সিস্টেম, হেড-আপ ডিসপ্লে, ওয়্যারলেস চার্জার, ভেন্টিলেটেড সামনের আসন এবং পিছনের যাত্রীদের জন্য AC ভেন্ট।
এছাড়া লেদারেট আপহোলস্ট্রি, TFT MID-সহ ইন্সট্রুমেন্ট ক্লাস্টার এবং উন্নত সাউন্ড সিস্টেমের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কোন সুবিধা কোন ভ্যারিয়েন্টে মিলবে, তা কেনার আগে দেখে নেওয়া ভালো।
সেপ্টেম্বরের বিক্রির পরিসংখ্যানেও আলোচনায় Baleno
প্রদত্ত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে Maruti Suzuki Baleno-র ২৫,৩৯২টি ইউনিট বিক্রি হয়েছে। সেই হিসাব অনুযায়ী, গাড়িটি মাসের সর্বাধিক বিক্রিত মডেলের তালিকায় প্রথম স্থান পেয়েছে। তবে এই বিক্রির পরিসংখ্যান এবং ২০২৬ সালের ফেসলিফট মডেলের বাজারে আসার তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
কম দামে বেশি মাইলেজের গাড়ি খুঁজছেন? মারুতি সুজুকি ব্যালেনোর ২০২৬ সালের ফেসলিফট মডেল নিয়ে গাড়িপ্রেমীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গাড়িটির প্রাথমিক এক্স-শোরুম দাম ৫.৯৯ লক্ষ টাকা। পেট্রল ও CNG—দুই ধরনের ইঞ্জিনের বিকল্পের পাশাপাশি এতে রয়েছে উন্নত সুরক্ষা প্রযুক্তি, আধুনিক ইনফোটেনমেন্ট ব্যবস্থা এবং আরামদায়ক নানা ফিচার। সংস্থার দাবি, CNG সংস্করণে প্রতি কেজিতে সর্বোচ্চ ৩৩.৬১ কিলোমিটার মাইলেজ পাওয়া যেতে পারে।










