মার্কিন গায়িকা ও অভিনেত্রী মেরি মিলবেন ভারতের রাজনীতি নিয়ে তাঁর মন্তব্যের কারণে ফের আলোচনায় এসেছেন। তিনি কথিতভাবে ভারতীয় যুবসমাজকে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-এর বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে, সংগঠনটি এবং তার নেতৃত্ব মার্কিন দাতাদের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা পাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বের প্রতি সমর্থন জানিয়ে মিলবেন বলেছেন, দেশের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও ভবিষ্যৎ-সংক্রান্ত বিষয়গুলিতে যুবসমাজের সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া উচিত।
তবে CJP-র মার্কিন অর্থায়ন এবং এই অর্থায়নের পিছনে প্রধানমন্ত্রী মোদির বিরোধীদের ভূমিকা থাকার বিষয়ে দাবিগুলি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। ফলে আপাতত এই অভিযোগগুলিকে মেরি মিলবেনের দাবি হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।
বুধবার সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের মতামত প্রকাশ করেন মেরি মিলবেন। সেই সময় দিল্লিতে বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রতিবাদ চলছিল। বিক্ষোভকারীরা মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেছিলেন। তাঁদের অভিযোগ ছিল, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়েছে।
এই রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে CJP-র নেতা অভিজিৎ দিপকে এবং সংগঠনটিকে নিয়ে একাধিক অভিযোগ করেন মিলবেন। তাঁর দাবি, সংগঠনটি আমেরিকায় থাকা এমন ব্যক্তিদের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা পাচ্ছে, যাঁরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আদর্শ ও নেতৃত্বের বিরোধী। এই কথিত আর্থিক সম্পর্ক নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেন তিনি। তবে উপলব্ধ তথ্য অনুযায়ী, অভিযোগের সমর্থনে তিনি কোনও বিস্তারিত প্রকাশ্য নথি বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।
নিজের বক্তব্যে মেরি মিলবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, মোদি দীর্ঘদিন ধরে জনজীবনের সঙ্গে যুক্ত এবং তাঁর নেতৃত্বে ভারত ধারাবাহিকভাবে নির্বাচনী জনাদেশ পেয়েছে। মিলবেনের মতে, প্রধানমন্ত্রী বাইরের চাপের কাছে নতি স্বীকার করবেন না।

ভারতীয় যুবসমাজকে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয়গুলিতে নীরব না থাকার আহ্বানও জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নিজেদের মতামত প্রকাশ করা এবং দেশের স্বার্থের পরিপন্থী বলে মনে হওয়া কার্যকলাপের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করার অধিকার যুবসমাজের রয়েছে। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ঐক্যবদ্ধভাবে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরার জন্যও তাঁদের আহ্বান জানান মিলবেন।
SIR প্রক্রিয়া এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে মতপার্থক্য প্রকাশ্যে আসার সময়েই তাঁর এই বক্তব্য সামনে এসেছে।
মেরি মিলবেন আরও দাবি করেছেন, কিছু মার্কিন দাতা বিভিন্ন দেশে নিজেদের পছন্দের রাজনৈতিক মতাদর্শ প্রচারের চেষ্টা করেন। তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, এই ব্যক্তিরা অন্য দেশে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাঁদের রাজনৈতিক কার্যকলাপের জন্য সহায়তা দিতে পারেন।
এই ধরনের কথিত কার্যকলাপ কোনও দেশের রাজনীতি, শাসনব্যবস্থা ও উন্নয়নের গতিপথকে প্রভাবিত করতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
তবে মিলবেনের বক্তব্য থেকে CJP বা তার নেতৃত্বের সঙ্গে এমন কোনও নেটওয়ার্কের বাস্তব সম্পর্ক প্রমাণিত হয় না। এই ধরনের অভিযোগ যাচাই করার জন্য স্বাধীন তদন্ত এবং নির্ভরযোগ্য প্রমাণ প্রয়োজন।
মেরি মিলবেন আমেরিকার পরিচিত গায়িকা ও অভিনেত্রী। ভারতে তিনি বিশেষভাবে ভারতীয় জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’ এবং ভক্তিগীতি ‘ওম জয় জগদীশ হরে’-র পরিবেশনার জন্য পরিচিত। ২০২৩ সালের জুনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মার্কিন সফরের সময় একটি অনুষ্ঠানে তিনি ভারতের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেছিলেন।
ভারত-সম্পর্কিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং প্রকাশ্য রাজনৈতিক মন্তব্যের কারণে ভারতীয় দর্শকদের মধ্যে মিলবেনের বক্তব্য নিয়ে আলোচনা হয়। তিনি বিভিন্ন সময়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে নিজের মতামত প্রকাশ করেছেন।








