ফ্রান্সের বিশ্বকাপ অভিযান শেষের পথে। তবে কিলিয়ান এমবাপের ব্যক্তিগত লড়াই এখনও বাকি। গোল্ডেন বুটের দৌড়ে লিওনেল মেসির সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি প্রতিযোগিতায় রয়েছেন তিনি। গোল, অ্যাসিস্ট এবং প্রয়োজনে টাইব্রেকারের হিসাব—সব মিলিয়ে শেষ ম্যাচের পরই নির্ধারিত হবে বিশ্বের সেরা গোলস্কোরারের নাম।
গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সমানে সমান মেসি ও এমবাপে
বর্তমানে লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপে—দু'জনেরই গোলসংখ্যা ৮। তবে অ্যাসিস্টে এগিয়ে রয়েছেন মেসি। তাঁর অ্যাসিস্ট ৪টি, যেখানে এমবাপের রয়েছে ৩টি। এই কারণেই বর্তমান অবস্থানে মেসি এগিয়ে।
কীভাবে এমবাপে মেসিকে টপকে যেতে পারেন?
গোল্ডেন বুট নির্ধারণে প্রথমে দেখা হয় মোট গোলসংখ্যা। গোল সমান হলে অ্যাসিস্টের সংখ্যা বিবেচনা করা হয়। যদি গোল ও অ্যাসিস্ট—দুই-ই সমান থাকে, তাহলে যে ফুটবলার কম সময় মাঠে নেমে ওই পরিসংখ্যান গড়েছেন, তিনিই বিজয়ী হন।
অর্থাৎ এমবাপের সামনে তিনটি সম্ভাবনা রয়েছে—
শেষ ম্যাচে মেসির চেয়ে বেশি গোল করা।
গোল সমান থাকলে বেশি অ্যাসিস্ট করা।
গোল ও অ্যাসিস্ট দু'টোই সমান হলে কম মিনিট খেলার সুবিধায় টাইব্রেকারে এগিয়ে যাওয়া।
শেষ ম্যাচেই নির্ধারিত হবে ভাগ্য
ফ্রান্স খেলবে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ, অন্যদিকে আর্জেন্টিনা নামবে ফাইনালে। এই দুই ম্যাচের পারফরম্যান্সই ঠিক করবে গোল্ডেন বুট কার হাতে যাবে।যদি এমবাপে নিজের গোল বা অ্যাসিস্ট বাড়াতে পারেন এবং মেসি তা না পারেন, তাহলে ফরাসি তারকাই শীর্ষে উঠে আসবেন।
ইতিহাস গড়ার হাতছানি এমবাপের সামনে
২০০২ বিশ্বকাপ থেকে ২০২২ পর্যন্ত কোনও ফুটবলার টানা দুই বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট জিততে পারেননি। ২০২২ সালে গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন এমবাপে। এবারও যদি তিনি শীর্ষ গোলদাতা হন, তবে বিরল কীর্তি গড়বেন।
সাম্প্রতিক বিশ্বকাপগুলোর গোল্ডেন বুট বিজয়ীরা—
২০২২: কিলিয়ান এমবাপে (৮ গোল)
২০১৮: হ্যারি কেন (৬ গোল)
২০১৪: জেমস রদ্রিগেজ (৬ গোল)
২০১০: টমাস মুলার (৫ গোল)
২০০৬: মিরোস্লাভ ক্লোসে (৫ গোল)
২০০২: রোনালদো (৮ গোল)
টাইব্রেকারের নিয়ম কী?
ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, গোল ও অ্যাসিস্ট সমান হলে পুরস্কার যৌথভাবে দেওয়া হয় না। তখন দেখা হয় কে কম সময় মাঠে নেমে একই সংখ্যক গোল করেছেন। সেই ফুটবলারই গোল্ডেন বুটের দাবিদার হন।
বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন শেষ হলেও কিলিয়ান এমবাপের সামনে এখনও বড় লক্ষ্য রয়েছে। টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার 'গোল্ডেন বুট' জিতে তিনি শুধু নতুন ইতিহাসই গড়তে পারেন না, লিওনেল মেসির বহু প্রতীক্ষিত স্বপ্নও ভেঙে দিতে পারেন। শেষ ম্যাচের পারফরম্যান্সই ঠিক করবে কার হাতে উঠবে এই সম্মান।











