বাঙালির খাদ্যতালিকায় ভাতের গুরুত্ব আলাদা। কিন্তু রাতের খাবারে ভাত খেলেই নাকি শরীরে মেদ জমে, সুগারের মাত্রা বেড়ে যায়—এমন ধারণায় অনেকেই ডিনারে ভাত এড়িয়ে চলেন। পুষ্টিবিদদের মতে, বিষয়টি এতটা সরল নয়। সঠিক পরিমাণ, সঠিক সময় এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস মেনে চললে রাতের ভাতও স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে।
রাতে ভাত খেলেই ওজন বাড়ে—এই ধারণা কতটা সত্য?
অনেকের বিশ্বাস, রাতের খাবারে ভাত খেলে শরীরে অতিরিক্ত ক্যালোরি জমে ওজন বেড়ে যায়। কিন্তু পুষ্টিবিদদের মতে, ওজন বৃদ্ধি নির্ভর করে সারাদিনে মোট কত ক্যালোরি গ্রহণ ও ব্যয় হচ্ছে তার উপর। শুধু রাতের ভাতকে দায়ী করা বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক নয়।
ভাত শরীরের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?
ভাত কার্বোহাইড্রেটের অন্যতম প্রধান উৎস। এটি শরীরকে প্রয়োজনীয় শক্তি জোগায়। পাশাপাশি ভাতে থাকে পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, আয়রন এবং ভিটামিন বি৬-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান। তাই পরিমিত পরিমাণে ভাত দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।
ডায়াবেটিস রোগীরা কি রাতে ভাত খেতে পারবেন?
পুষ্টিবিদদের মতে, ডায়াবেটিস থাকলেও সম্পূর্ণভাবে ভাত বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং নির্দিষ্ট পরিমাণে ভাত খাওয়ার পাশাপাশি পর্যাপ্ত শাকসবজি, ডাল, মাছ বা অন্যান্য প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখলে রক্তে শর্করার ভারসাম্য বজায় রাখতে সুবিধা হয়।
কখন রাতের খাবার খাওয়া উচিত?
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, রাতের খাবার যতটা সম্ভব রাত ৮টার মধ্যে শেষ করা ভালো। অনেক রাতে ভারী খাবার খেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ঘুমিয়ে পড়ার অভ্যাস বিপাকক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই শুধু কী খাচ্ছেন তা নয়, কখন খাচ্ছেন সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
কতটা ভাত খাওয়া উচিত?
তমলুকের পুষ্টিবিদ দেবলীনা দাসের মতে, ভাত খাওয়ার পরিমাণ ব্যক্তির উচ্চতা, ওজন, বয়স, শারীরিক পরিশ্রম এবং দৈনিক ক্যালোরির চাহিদার উপর নির্ভর করে নির্ধারণ করা উচিত।উদাহরণ হিসেবে তিনি জানান, ১২০০ ক্যালোরির খাদ্যতালিকায় সকালে প্রায় ৫০ গ্রাম চালের ভাত এবং রাতে প্রায় ৪০ গ্রাম চালের ভাত রাখা যেতে পারে। তাই সবার জন্য একই পরিমাণ ভাত প্রযোজ্য নয়।
শুধু ভাত নয়, খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্যও জরুরি
প্রতিদিন একই ধরনের খাবার না খেয়ে কখনও ভাত, কখনও রুটি, ওটস বা ডালিয়া রাখার পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদরা। পাশাপাশি প্রতিটি খাবারে পর্যাপ্ত সবজি ও প্রোটিন থাকলে খাদ্যতালিকা আরও ভারসাম্যপূর্ণ হয়।
ডিনারে ভাত খেলেই শরীর মোটা হয়ে যায় বা রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়—এমন ধারণা বহু মানুষের মধ্যে প্রচলিত। তবে পুষ্টিবিদদের বক্তব্য, এই দাবির পক্ষে শক্তিশালী বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। বরং ওজন ও সুগার নিয়ন্ত্রণে মূল ভূমিকা রাখে ভাতের পরিমাণ, খাবারের সময় এবং ভাতের সঙ্গে কী ধরনের সুষম খাবার খাওয়া হচ্ছে।













