প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় দুধ থাকলেও সেটি সংরক্ষণ নিয়ে অনেকেরই ভুল ধারণা রয়েছে। ফ্রিজে রাখার পরও কখনও দুধ টক হয়ে যায়, আবার কখনও দুধে দলা বা অস্বাভাবিক গন্ধ দেখা দেয়। আসলে দুধ কতদিন ভালো থাকবে, তা অনেকটাই নির্ভর করে দুধের ধরন, প্যাকেট খোলা হয়েছে কি না এবং কীভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে তার উপর। বিশেষ করে ফ্রিজের দরজায় দুধ রাখার অভ্যাস দুধ দ্রুত নষ্ট হওয়ার অন্যতম কারণ হতে পারে।
দুধ ফ্রিজে কতদিন ভালো থাকে?
দুধের সংরক্ষণকাল তার ধরন ও সংরক্ষণের পদ্ধতির উপর নির্ভর করে। সাধারণভাবে জ্বাল দিয়ে ফোটানো দুধ ফ্রিজে রাখলে প্রায় ২ থেকে ৩ দিন ভালো থাকতে পারে।অন্যদিকে পাস্তুরিত বা প্যাকেটজাত দুধ খোলার পর সাধারণত ৩ থেকে ৫ দিনের মধ্যে ব্যবহার করা ভালো। তবে প্যাকেটের গায়ে দেওয়া সংরক্ষণ নির্দেশিকা এবং ‘use by’ বা মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ অবশ্যই গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।না-খোলা কিছু ধরনের প্যাকেটজাত দুধ তুলনামূলক দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করা যায়। কিন্তু প্যাকেট খোলার পর সংরক্ষণের নিয়ম বদলে যায় এবং দ্রুত ব্যবহার করাই নিরাপদ।
ফ্রিজের দরজায় দুধ রাখছেন? এখানেই হতে পারে সমস্যা
দুধ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে অনেকেই ফ্রিজের দরজার তাক ব্যবহার করেন। কিন্তু দরজা বারবার খোলা-বন্ধ হওয়ার কারণে এই অংশের তাপমাত্রা ওঠানামা করতে পারে।তাই দুধ ফ্রিজের দরজায় না রেখে ভিতরের দিকে তুলনামূলক ঠান্ডা স্থানে রাখাই ভালো। এতে তাপমাত্রার ওঠানামা কম হয় এবং দুধ দ্রুত নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনাও কমে।
ফোটানো দুধ ফ্রিজে রাখার আগে কী করবেন?
দুধ ফোটানোর পর সরাসরি খুব গরম অবস্থায় সংরক্ষণ না করে আগে ঠান্ডা হতে দিন। এরপর পরিষ্কার ও ঢাকনাযুক্ত পাত্রে রেখে ফ্রিজে রাখুন।একই দুধ বারবার ফ্রিজ থেকে বের করে গরম করা এবং আবার ঠান্ডা করে রাখার অভ্যাস এড়িয়ে চলুন। বেশি পরিমাণ দুধ থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী কয়েকটি পরিষ্কার পাত্রে ভাগ করে রাখতে পারেন। এতে বারবার পুরো পরিমাণ দুধ বাইরে বের করার প্রয়োজন হবে নাফ্রিজের তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার নিচে রাখার চেষ্টা করা উচিত।
পচা দুধ চেনার ৫টি লক্ষণ
দুধ খাওয়ার আগে সেটি এখনও ব্যবহারযোগ্য কি না, তা দেখে নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে নিচের লক্ষণগুলির কোনওটি দেখা গেলে সতর্ক হন—
টক বা অস্বাভাবিক গন্ধ
তাজা দুধে সাধারণত হালকা স্বাভাবিক গন্ধ থাকে। দুধ থেকে তীব্র টক বা অস্বাভাবিক গন্ধ বের হলে সেটি নষ্ট হওয়ার লক্ষণ হতে পারে।
দুধে দলা বা দানা তৈরি
দুধ জমাট বেঁধে গেলে বা অস্বাভাবিকভাবে দানা দানা হয়ে গেলে তা নষ্ট হওয়ার ইঙ্গিত হতে পারে।
রঙ বদলে যাওয়া
সাধারণত দুধের স্বাভাবিক সাদা রঙের পরিবর্তে যদি অস্বাভাবিকভাবে ধূসর বা অন্যরকম রঙ দেখা যায়, তাহলে সেটি ব্যবহার না করাই ভালো।
ঘনত্ব অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়া
দুধ স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি ঘন বা জমাট ধরনের হয়ে গেলে সতর্ক হতে হবে।
স্বাদে টকভাব
দুধের স্বাদ অস্বাভাবিকভাবে টক হয়ে গেলে সেটি নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সন্দেহজনক দুধের স্বাদ পরীক্ষা করার জন্য পান করা উচিত নয়।
নষ্ট দুধ খেলে কী হতে পারে?
নষ্ট দুধে ক্ষতিকর জীবাণু বৃদ্ধি পেতে পারে। এমন দুধ খেলে পেটে ব্যথা, বমি, ডায়রিয়া, গ্যাস বা খাদ্যজনিত অসুস্থতার মতো সমস্যা হতে পারে।
বিশেষ করে ছোট শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং যাঁদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাঁদের ক্ষেত্রে নষ্ট বা সন্দেহজনক দুধ নিয়ে আরও সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
দুধ ফ্রিজে রাখলেই যে দীর্ঘদিন ভালো থাকবে, এমনটা নয়। ভুলভাবে সংরক্ষণ করলে অল্প সময়ের মধ্যেই দুধ টক হয়ে যেতে পারে বা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। দুধ কতদিন ভালো থাকবে, ফ্রিজের কোথায় রাখা উচিত এবং কোন ৫টি লক্ষণে নষ্ট দুধ চেনা যায়—জেনে নিন সহজ নিয়ম।













