মিজোরাম প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি (এমপিসিসি) প্রস্তাবিত বিদেশি অনুদান (নিয়ন্ত্রণ) সংশোধনী বিল, ২০২৬ (Foreign Contribution Regulation Amendment Bill – FCRA Amendment Bill 2026)-এর বিরোধিতায় ২১ জুলাই রাজ্যজুড়ে ‘ব্ল্যাক ডে’ পালনের ঘোষণা দিয়েছে। দলের দাবি, প্রস্তাবিত সংশোধন রাজ্যে কার্যরত একাধিক ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনের কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে।
দলীয় নেতারা নাগরিক, বিভিন্ন চার্চ সংগঠন এবং সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে শান্তিপূর্ণ এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। কংগ্রেসের বক্তব্য, এই কর্মসূচি কোনও নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নয়; বরং সংশোধিত আইন কার্যকর হলে সম্ভাব্য যে প্রভাব পড়তে পারে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের উদ্দেশ্যে এর আয়োজন করা হচ্ছে।
আইজলে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে মিজোরাম প্রদেশ কংগ্রেসের কোষাধ্যক্ষ ড. লালমলসাওমা ন্ঘাকা জানান, ২১ জুলাই দুপুরে রাজ্যজুড়ে একযোগে প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হবে এবং প্রস্তাবিত সংশোধন নিয়ে মানুষের উদ্বেগ গণতান্ত্রিক উপায়ে তুলে ধরাই এর উদ্দেশ্য। কংগ্রেস বিভিন্ন জেলায় দলীয় কর্মীদের প্রস্তুত থাকতে এবং সর্বাধিক মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে।
মিজোরাম কংগ্রেস বিভিন্ন খ্রিস্টান চার্চ ও ধর্মীয় সংগঠনকেও এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছে। দলীয় নেতাদের বক্তব্য, রাজ্যের বহু ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান বিদেশি সহায়তার মাধ্যমে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক কল্যাণ ও মানবিক সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে। তাদের দাবি, প্রস্তাবিত সংশোধন এসব কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে প্রস্তাবিত বিলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং এর বিধান সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া এখনও সম্পূর্ণ হয়নি।
কংগ্রেসের দাবি, প্রস্তাবিত সংশোধন বর্তমান রূপে কার্যকর হলে বিদেশি সহায়তা গ্রহণকারী বহু সংস্থার পরিচালনায় প্রভাব পড়তে পারে। দলের মতে, এসব সংস্থা সমাজের দুর্বল শ্রেণি, গ্রামীণ এলাকা এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজ পরিচালনা করে। কংগ্রেস নেতারা যে কোনও সংশোধনের আগে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে বিস্তৃত আলোচনা করার দাবি জানিয়েছেন।
Foreign Contribution (Regulation) Act (FCRA) ভারতে বিদেশি উৎস থেকে প্রাপ্ত আর্থিক অনুদান নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রণীত আইন। এর উদ্দেশ্য বিদেশ থেকে প্রাপ্ত অর্থের ব্যবহার স্বচ্ছ ও আইনসম্মত রাখা এবং জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষিত করা। পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিয়ন্ত্রক কাঠামো শক্তিশালী করতে সরকার সময়ে সময়ে এই আইনে সংশোধন করেছে।
মিজোরামে বহু বেসরকারি সংস্থা (এনজিও), ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক সংগঠন শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ত্রাণ কার্যক্রম ও কমিউনিটি উন্নয়নের মতো ক্ষেত্রে সক্রিয়। এর মধ্যে কিছু প্রতিষ্ঠান আইনানুগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিদেশি আর্থিক সহায়তা গ্রহণ করে। এই কারণে প্রস্তাবিত সংশোধন নিয়ে রাজ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে এবং বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠী সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে নিজেদের মতামত প্রকাশ করছে।
মিজোরাম কংগ্রেস জানিয়েছে, প্রতিবাদ কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে। দলীয় নেতাদের মতে, গণতন্ত্রে যে কোনও বিল নিয়ে ভিন্নমত থাকা স্বাভাবিক এবং জনগণের শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের উদ্বেগ প্রকাশের অধিকার রয়েছে। একই সঙ্গে অংশগ্রহণকারীদের আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বানও জানানো হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রতিবাদ কর্মসূচি শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং রাজ্যে ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা নিয়ে চলমান বৃহত্তর আলোচনারও অংশ। যদি এতে বড় সংখ্যায় মানুষ অংশ নেন, তবে এটি মিজোরামের সাম্প্রতিক রাজনীতি ও সামাজিক আলোচনার একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হতে পারে। তবে প্রস্তাবিত সংশোধনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংসদের আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই স্পষ্ট হবে।
২১ জুলাইয়ের প্রস্তাবিত রাজ্যব্যাপী কর্মসূচির পর কেন্দ্র সরকার, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক এবং অন্যান্য অংশীজন এই বিষয়ে কী প্রতিক্রিয়া জানায়, তা পর্যবেক্ষণের বিষয় হবে। বিলটি নিয়ে পরবর্তী পর্যায়ে আলোচনা হলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন এবং বিশেষজ্ঞদের মতামতও সেই প্রক্রিয়ার অংশ হতে পারে।











