ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি স্যার গারফিল্ড সোবার্স ৮৯ বছর বয়সে মারা গেছেন। তাঁর মৃত্যুর পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে শোক প্রকাশ করা হয়েছে। ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রাক্তন ও বর্তমান ক্রিকেটার, ক্রিকেট বোর্ড এবং সমর্থকেরা তাঁকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।
বিশ্বজুড়ে স্যার গ্যারি সোবার্স নামেও পরিচিত স্যার গারফিল্ড সোবার্স ২৮ জুলাই তাঁর ৯০তম জন্মদিন পালন করার কথা ছিল। তাঁর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ক্রিকেট এমন এক খেলোয়াড়কে হারাল, যাঁকে খেলার ইতিহাসের অন্যতম পরিপূর্ণ ক্রিকেটার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ব্যাটিং, বোলিং এবং ফিল্ডিং—তিন বিভাগেই তাঁর দক্ষতা তাঁকে ক্রিকেটের সর্বকালের সেরাদের মধ্যে স্থায়ী স্থান এনে দেয়।
১৯৫০ ও ১৯৬০-এর দশকে যখন ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে পরিচিত ছিল, তখন স্যার গ্যারি সোবার্স ছিলেন দলের অন্যতম প্রধান ভরসা। তিনি ব্যাট হাতে একাধিক স্মরণীয় ইনিংস খেলেছেন এবং বোলিং ও ফিল্ডিংয়েও দলকে বহু ম্যাচ জিতিয়েছেন। তাঁর বহুমুখী দক্ষতাই ছিল তাঁর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য।
তিনি বাঁহাতি ব্যাটার ছিলেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী লেফট-আর্ম ফাস্ট-মিডিয়াম, লেফট-আর্ম অর্থোডক্স স্পিন ও লেফট-আর্ম আনঅর্থোডক্স স্পিন (চায়নাম্যান) বোলিং করতে পারতেন। এই বহুমুখিতা তাঁকে ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম বহুমাত্রিক খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।

স্যার গারফিল্ড সোবার্স ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ৯৩টি টেস্ট ম্যাচের ১৬০টি ইনিংসে ৮,০৩২ রান করেন। তাঁর ব্যাটিং গড় ছিল ৫৭.৭৮। ক্যারিয়ারে তিনি ২৬টি সেঞ্চুরি, ৩০টি অর্ধশতক, দুটি দ্বিশতক এবং একটি ত্রিশতক করেন। তাঁর সর্বোচ্চ স্কোর ছিল অপরাজিত ৩৬৫ রান, যা বহু বছর ধরে টেস্ট ক্রিকেটের বিশ্বরেকর্ড ছিল।
স্যার গারফিল্ড সোবার্স টেস্ট ক্রিকেটে ২৩৫টি উইকেট নেন। তাঁর বোলিং গড় ছিল ৩৪.০৪ এবং ইকোনমি রেট ছিল ২.৩৩। তিনি ছয়বার এক ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেন এবং তাঁর সেরা বোলিং ছিল ৭৩ রানে ৬ উইকেট। ম্যাচের পরিস্থিতি ও দলের প্রয়োজন অনুযায়ী নিজের বোলিংয়ের ধরন পরিবর্তন করার সক্ষমতা তাঁকে ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম পরিপূর্ণ অলরাউন্ডার হিসেবে পরিচিত করে।
তাঁর ক্যারিয়ারের বেশিরভাগ সময় টেস্ট ক্রিকেটের স্বর্ণযুগে কাটলেও তিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটি একদিনের ম্যাচও খেলেছিলেন। সেই ম্যাচে তিনি ব্যাট হাতে কোনো রান করতে পারেননি, তবে বোলিংয়ে একটি উইকেট নিয়েছিলেন। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে তাঁর অবদান সীমিত হলেও টেস্ট ক্রিকেটে তাঁর অর্জন আজও অনুপ্রেরণার উৎস।
স্যার গ্যারি সোবার্স ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দলের অধিনায়কত্বও করেছেন এবং তাঁর নেতৃত্বে দল নতুন উচ্চতায় পৌঁছায়। মাঠের ভেতরে ও বাইরে তাঁর ব্যক্তিত্ব পরবর্তী প্রজন্মের বহু ক্রিকেটারের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠে।
ক্রিকেটে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে নাইটহুড (Knighthood) প্রদান করা হয়। এছাড়া তিনি Wisden Cricketers of the Century-এ স্থান পান এবং পরবর্তীতে ICC Hall of Fame-এ অন্তর্ভুক্ত হন।










