ভারত বলল শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ অনুরোধের আইনি দিক পর্যালোচনায় রয়েছে

ক অনুরোধ আইনি ও দ্বিপাক্ষিক দিক বিবেচনায় পর্যালোচনাধীন রয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, প্রতিষ্ঠিত আইনি প্রক্রিয়া ও আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এবং এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

ভারত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত বাংলাদেশের অনুরোধের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, এ বিষয়ে আইনি ও দ্বিপাক্ষিক দিকগুলো বিবেচনায় নিয়ে আলোচনা চলছে। এ পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

ঢাকার পাঠানো আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ অনুরোধ ভারত পেয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (MEA)। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাংবাদিকদের বলেন, সংশ্লিষ্ট আইনি বিধান এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয় বিবেচনায় নিয়ে অনুরোধটি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ভারত এ বিষয়ে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত আইনি প্রক্রিয়া এবং আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পদক্ষেপ নেবে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কবে নেওয়া হতে পারে, সে বিষয়ে তিনি কোনো সময়সীমা জানাননি।

সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা ভবিষ্যতে বাংলাদেশে ফিরে এসে তাঁর রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে পুনরায় সক্রিয় করার প্রস্তুতি নিতে পারেন। তবে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এমনটি হলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এর বিস্তৃত প্রভাব পড়তে পারে। বর্তমানে তাঁর সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে জল্পনা অব্যাহত রয়েছে।

৫ আগস্ট ২০২৪ সালে ব্যাপক ছাত্র আন্দোলন এবং দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া সহিংস বিক্ষোভের মধ্যে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর তিনি বাংলাদেশ ত্যাগ করেন এবং তখন থেকে ভারতে অবস্থান করছেন।

তাঁর পদত্যাগের পর বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আসে। একই সঙ্গে নতুন অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা গঠিত হয় এবং সাবেক সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপের তদন্ত শুরু হয়।

বাংলাদেশে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে একাধিক আইনি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত বছর একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত সহিংসতা এবং সরকারি পদক্ষেপ-সংক্রান্ত একটি মামলায় তাঁর অনুপস্থিতিতে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দেয়।

বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়া উচিত এবং সেই উদ্দেশ্যেই ভারতের কাছে তাঁর প্রত্যর্পণ চাওয়া হয়েছে।

তবে শেখ হাসিনা তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে চলমান আইনি প্রক্রিয়া রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত এবং তাঁকে লক্ষ্যবস্তু করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।

কোনো ব্যক্তির প্রত্যর্পণের সিদ্ধান্ত শুধু রাজনৈতিক পর্যায়ে নেওয়া হয় না। এটি সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে কার্যকর প্রত্যর্পণ চুক্তি (Extradition Treaty), অভ্যন্তরীণ আইন এবং আন্তর্জাতিক আইনি নীতির ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়।

ভারত কোনো প্রত্যর্পণ অনুরোধের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট আইনি নথি, আদালতের আদেশ, মানবাধিকার-সংক্রান্ত বিষয় এবং দ্বিপাক্ষিক চুক্তিগুলো পর্যালোচনা করে। এ ধরনের প্রক্রিয়া দীর্ঘ হতে পারে এবং একাধিক আইনি ধাপ সম্পন্ন হওয়ার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

 

Leave a comment