আলজিয়ার্সের ফস্টার কেয়ার হোমে অগ্নিকাণ্ডে শিশুদেরসহ ১১ জনের মৃত্যু, আহত ১৯

আলজেরিয়ার রাজধানী আলজিয়ার্সের একটি ফস্টার কেয়ার হোমে অগ্নিকাণ্ডে শিশুদেরসহ ১১ জনের মৃত্যু এবং ১৯ জন আহত হয়েছেন। সরকার ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে, আর উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

আলজেরিয়ার রাজধানী আলজিয়ার্সের একটি ফস্টার কেয়ার হোমে অগ্নিকাণ্ডে শিশুদেরসহ অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও ১৯ জন আহত হয়েছেন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে অনেকের চিকিৎসা চলছে।

কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ভোরে অধিকাংশ বাসিন্দা ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় আগুন লাগে। উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে বহুজনকে নিরাপদে সরিয়ে নিলেও আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় অনেককে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। সরকার ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ দেওয়া হয়নি।

আলজেরিয়ার সিভিল প্রোটেকশন বিভাগ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় ভোর প্রায় ৩টা ৩০ মিনিটে দমকল বিভাগ আগুন লাগার খবর পায়। রাজধানীর পূর্বাঞ্চলীয় উপশহর মোহাম্মাদিয়া (Mohammadia)-এর ফস্টার কেয়ার হোমে এ ঘটনা ঘটে। দমকলকর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করলেও আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগে। আগুন নেভাতে ঘটনাস্থলে ১০টি দমকলের গাড়ি এবং ১৬টি অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন করা হয়।

সিভিল প্রোটেকশন বিভাগ নিশ্চিত করেছে যে, অগ্নিকাণ্ডে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৯ জন আহত হয়েছেন। বিভাগটি নিহতদের বয়সসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করেনি। তবে প্রেসিডেন্ট আবদেলমাদজিদ তেব্বুন তাঁর শোকবার্তায় নিশ্চিত করেছেন যে নিহতদের মধ্যে শিশুরাও রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আবদেসসালাম মেরাহ জানান, রাত প্রায় তিনটার দিকে হঠাৎ দমকলের সাইরেনের শব্দ শোনা যায়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আগুন লাগার পর শিশুদের চিৎকার শোনা যাচ্ছিল। আশপাশের বাসিন্দারা উদ্ধারকাজে সহায়তার চেষ্টা করেন, তবে ততক্ষণে আগুন অনেকটাই ছড়িয়ে পড়েছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, অনেক শিশুকে নিরাপদে বের করে আনা হলেও কয়েকজনকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের সময় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পাঁচজনকে নিরাপদে উদ্ধার করে অন্য একটি নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করা হয়েছে। উদ্ধারকারী দল অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শিশু, প্রবীণ এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। আহতদের আলজিয়ার্সের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাদের চিকিৎসা চলছে।

আলজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট আবদেলমাদজিদ তেব্বুন ঘটনাটিকে "দুঃখজনক ট্র্যাজেডি" বলে উল্লেখ করে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তিনি আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনাও করেন। প্রধানমন্ত্রী সিফি ঘরিব আলজিয়ার্সের হাসপাতালগুলো পরিদর্শন করে আহতদের খোঁজখবর নেন এবং কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে তথ্য নেন। সরকারি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তিনি হাসপাতালে ভর্তি শিশুদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন।

এখনও পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ আগুন লাগার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করেনি। তদন্তকারী সংস্থাগুলো প্রযুক্তিগত ত্রুটি, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট অথবা অন্য কোনো কারণে আগুন লেগেছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছেন এবং বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হচ্ছে।

আলজেরিয়া বর্তমানে তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে রয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে দেশজুড়ে প্রায় ১,০০০টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। শুধু গত ২৪ ঘণ্টায় ১১৫টি বনাঞ্চলে আগুন লাগার খবর পাওয়া গেছে। তবে ফস্টার কেয়ার হোমের অগ্নিকাণ্ডের সঙ্গে চলমান তাপপ্রবাহের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কিছু জানায়নি।

ঘটনার পর বিরোধী দল, সামাজিক সংগঠন এবং নাগরিকরা নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শিশুদের পরিচর্যাকেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফস্টার কেয়ার হোম, স্কুল এবং হাসপাতালের মতো প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত অগ্নিনিরাপত্তা নিরীক্ষা ও জরুরি সরিয়ে নেওয়ার মহড়া প্রয়োজন।

 

 

Leave a comment