পশ্চিম এশিয়ায় বাড়তে থাকা উত্তেজনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছেন, অন্যদিকে বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধী “Economic Earthquake” বা অর্থনৈতিক ভূমিকম্পের সতর্কবার্তা দিয়েছেন। এই দুই বক্তব্যের পর মূল্যবৃদ্ধি ও জ্বালানির দামের প্রশ্নে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে।
পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতির প্রভাব নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য
গুজরাটের ভাভ-থরাদে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, পশ্চিম এশিয়ায় যে পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে তার প্রভাব সারা বিশ্বে পড়ছে। বিশেষ করে জ্বালানি ক্ষেত্রে, যেখানে পেট্রোল, ডিজেল ও গ্যাসের সরবরাহ নিয়ে বৈশ্বিক স্তরে চ্যালেঞ্জ বাড়ছে।
তিনি বলেন, এই বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও ভারত তার শক্তিশালী বিদেশনীতি এবং অভ্যন্তরীণ ঐক্যের মাধ্যমে পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সরকার পরিস্থিতির উপর নিয়মিত নজর রাখছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
![]()
কংগ্রেসের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ
নিজের বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কংগ্রেসের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন যে বিরোধী দল এই পরিস্থিতিকে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগাতে চায়। তিনি বলেন, কংগ্রেস মানুষের মধ্যে ভয় ও বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তাঁর মতে, কিছু রাজনৈতিক দল পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে যাতে তারা এর সুবিধা নিতে পারে।
রাহুল গান্ধীর সতর্কবার্তা
অন্যদিকে, কেরলের কোঝিকোড়ে এক সমাবেশে রাহুল গান্ধী সম্ভাব্য অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কবার্তা দেন। তিনি বলেন, পশ্চিম এশিয়ায় যা ঘটছে তা কেবল একটি আঞ্চলিক সংঘাত নয়, এর প্রভাব বিশ্বব্যাপী পড়বে।
তিনি বলেন, পরিস্থিতি ক্রমশ অবনতির দিকে যাচ্ছে এবং এটি কোথায় গিয়ে থামবে তা স্পষ্ট নয়। রাহুল গান্ধী একে “Economic Earthquake” বলে উল্লেখ করে বলেন, ভারতের এই পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকা উচিত।
মূল্যবৃদ্ধি ও জ্বালানির দামের বিষয়ে উদ্বেগ
রাহুল গান্ধী তাঁর বক্তব্যে বিশেষভাবে মূল্যবৃদ্ধি এবং জ্বালানির দামের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা বাড়লে তেল ও গ্যাসের দাম বাড়বে, যার সরাসরি প্রভাব ভারতের উপর পড়বে।
তাঁর মতে, পেট্রোল, ডিজেল ও গ্যাসের দাম বাড়লে সাধারণ মানুষের খরচ বৃদ্ধি পাবে এবং মূল্যবৃদ্ধি দ্রুত বাড়তে পারে। তিনি বলেন, এটি শুধু একটি অর্থনৈতিক ধাক্কা নয়, বরং একটি বড় আর্থিক সংকট হতে পারে, যা দেশের অর্থনীতিকে প্রভাবিত করবে।
কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
নিজের বক্তব্যে রাহুল গান্ধী কেন্দ্র সরকারের পাশাপাশি কেরল রাজ্য সরকারের ভূমিকাও প্রশ্ন করেন। তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্র সরকার কী পদক্ষেপ নিচ্ছে তা স্পষ্ট নয়। পাশাপাশি তিনি কেরল সরকারকে প্রশ্ন করেন, তারা তাদের নাগরিকদের সুরক্ষা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে কী করছে।











