নাগপুরে মোহন ভাগবতের বক্তব্যে রাম রাজ্য ধারণায় নাগরিক অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরা

নাগপুরে এক অনুষ্ঠানে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত রাম রাজ্য ধারণা, অযোধ্যার রাম মন্দির নির্মাণে সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং ভারতের সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক ভূমিকা নিয়ে বক্তব্য দেন।

নাগপুরের রেশিমবাগে ড. হেডগেওয়ার স্মারক সমিতি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে Mohan Bhagwat “রাম রাজ্য” ধারণা নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য রাখেন। অযোধ্যায় Ram Mandir Ayodhya নির্মাণ, রামললা ও ধর্মধ্বজার প্রতিষ্ঠা উপলক্ষে প্রতিভাদের সম্মাননা প্রদানের জন্য এই অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে Govind Dev Giri এবং Suresh Joshi-সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্যে ভাগবত বলেন, আদর্শ শাসনব্যবস্থা কেবল শাসকের গুণাবলির উপর নির্ভর করে না, বরং সমাজের প্রতিটি ব্যক্তির আচরণ ও অংশগ্রহণের সম্মিলিত ফল।

তিনি বলেন, অযোধ্যায় ভব্য মন্দির নির্মাণ কোনও এক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কৃতিত্ব নয়, এটি সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রতীক। তিনি একটি উপমা দিয়ে বলেন, যেমন শ্রীকৃষ্ণের গোবর্ধন পর্বত উত্তোলনের কাহিনিতে সকলের অংশগ্রহণ প্রয়োজন ছিল, তেমনই এই মন্দির নির্মাণও সমাজের সম্মিলিত সহযোগিতার ফল। তিনি উল্লেখ করেন, “যতক্ষণ না প্রত্যেকে নিজের ‘কাঠি’ দেয়, ততক্ষণ বড় কাজ সম্পূর্ণ হয় না।”

ভাগবত তাঁর বক্তব্যে ভারতের বৈশ্বিক ভূমিকার প্রসঙ্গও উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, ভারতের উন্নতি কেবল অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক নয়, সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, ভারতের পরিচয় তার মূল্যবোধ ও ঐতিহ্যের মধ্যে নিহিত, এবং এই ভিত্তিতেই দেশ বিশ্বকে দিকনির্দেশ দিতে পারে। তিনি Sri Aurobindo-সহ একাধিক চিন্তাবিদের বক্তব্যের উল্লেখ করে বলেন, ভারতের পুনরুত্থানের ধারণা পূর্ব থেকেই আলোচিত হয়েছে এবং বর্তমান সময়ে সেই প্রক্রিয়া দ্রুততর হচ্ছে।

তিনি দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গেও কথা বলেন। ভাগবত উল্লেখ করেন, গত কয়েক দশকে দেশ তার পরিচয় নিয়ে বিভিন্ন পর্যায় অতিক্রম করে নতুন দিকনির্দেশনা গ্রহণ করেছে। তিনি ইঙ্গিত দেন যে ২০১৪ সালের পরবর্তী রাজনৈতিক ঘটনাবলি দেশের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির প্রতিফলন। তবে তিনি স্পষ্ট করেন যে জাতি গঠন একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া এবং এতে সমাজের প্রতিটি স্তরের অংশগ্রহণ অপরিহার্য।

ভাগবত বলেন, “রাম রাজ্য” কেবল আদর্শ রাজা দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয় না, আদর্শ নাগরিকদের মাধ্যমেও তা গড়ে ওঠে। Ramayana-র উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতে শুধু রামের গুণাবলি নয়, সেই সময়ের প্রজাদের আচরণও বিশদভাবে বর্ণিত হয়েছে। তাঁর মতে, সমাজের প্রতিটি ব্যক্তি যদি নিজের জীবনে নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধ অনুসরণ করে, তবেই “রাম রাজ্য”-র ভিত্তি স্থাপিত হয়। তিনি মানুষকে ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে এই মূল্যবোধ গ্রহণ করে ইতিবাচক পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

 

Leave a comment