রাঘব চাড্ডার আম আদমি পার্টি ত্যাগ ও দুর্নীতির অভিযোগের পর সাত সাংসদের বিজেপিতে যোগদান

রাঘব চাড্ডা আম আদমি পার্টি ত্যাগ করে দলের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ ও দুর্নীতি নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন। একই সময়ে সাতজন রাজ্যসভার সাংসদের বিজেপিতে যোগদানের খবর সামনে এসেছে, যার ফলে সংসদের সমীকরণে পরিবর্তন ঘটেছে এবং বিষয়টি রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে।

রাঘব চাড্ডা আম আদমি পার্টি ত্যাগ করার পর অভিযোগ করেছেন যে দলে বিষাক্ত পরিবেশ এবং দুর্নীতি বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন, দলটি তার মূল উদ্দেশ্য থেকে সরে গেছে এবং “কিছু দুর্নীতিগ্রস্ত ও সমঝোতাকারী ব্যক্তির হাতে” চলে গেছে।

চণ্ডীগড়ে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক সৃষ্টি হয় যখন রাজ্যসভার সদস্য রাঘব চাড্ডা আম আদমি পার্টি ছাড়ার পর দলের বিরুদ্ধে এই অভিযোগগুলি করেন। তিনি বলেন, দলটি আর তার মূল নীতির অনুসরণ করছে না।

বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর প্রকাশিত প্রথম ভিডিও বার্তায় রাঘব চাড্ডা জানান, দলে কাজ করার স্বাধীনতা আর ছিল না। তাঁর মতে, কথা বলা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে বাধা দেওয়া হচ্ছিল। তিনি আরও দাবি করেন, দলের কাজের পরিবেশ “টক্সিক” হয়ে উঠেছিল এবং একাধিক নেতা ব্যক্তিগত লাভের জন্য কাজ করছিলেন।

নিজের বক্তব্যে তিনি বলেন, যদি দল ছেড়ে যাওয়া সকল নেতাই ভুল হন, তাহলে এতদিনে যারা দল ছেড়েছেন, তারা সবাই কি ভুল ছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন যে তিনি দলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের একজন ছিলেন এবং যে উদ্দেশ্যে দল গঠিত হয়েছিল তা এখন পরিবর্তিত হয়েছে।

রাঘব চাড্ডা জানান, দল ছাড়ার আগে তাঁর সামনে তিনটি বিকল্প ছিল—দলে থেকে যাওয়া, নীরব থেকে পরিস্থিতি মেনে নেওয়া, অথবা দল ছেড়ে দেওয়া। তিনি বলেন, তিনি শেষ বিকল্পটি বেছে নিয়েছেন কারণ তাঁর মতে সেটিই সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল।

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর রাজ্যসভায় সাতজন সাংসদের বিজেপিতে যোগদানের খবর সামনে এসেছে। এই সাংসদদের মধ্যে রাঘব চাড্ডা, অশোক মিত্তল, বিক্রমজিৎ সাহনি, হরভজন সিং, ড. সন্দীপ পাঠক, স্বাতি মালিওয়াল এবং রাজিন্দর গুপ্তার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এই পরিবর্তনের পর রাজ্যসভায় ভারতীয় জনতা পার্টির সাংসদের সংখ্যা ১১৩-এ পৌঁছেছে বলে জানানো হয়েছে।

এই রাজনৈতিক ঘটনাক্রমের মধ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ঘিরেও বিতর্ক দেখা দিয়েছে। অশোক মিত্তলকে কেন্দ্রীয় সরকার ‘ওয়াই’ ক্যাটেগরির নিরাপত্তা দিয়েছে, হরভজন সিংয়ের নিরাপত্তায় পরিবর্তন আনা হয়েছে এবং রাঘব চাড্ডাকে পূর্বে ‘জেড প্লাস’ নিরাপত্তা প্রদান করা হয়েছিল।

পাঞ্জাবেও এই ঘটনাক্রমের প্রভাব পড়েছে। আম আদমি পার্টির নেতাদের বাড়ির বাইরে প্রতিবাদ হয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে অসন্তোষ প্রকাশ পেয়েছে। পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের দাবি জানিয়েছেন এবং এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।

রাজ্যসভার এই পরিবর্তন নিয়ে বিভিন্ন মতামত প্রকাশ পেয়েছে। কিছু পর্যবেক্ষক এটিকে দলের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ বা নেতৃত্ব সংক্রান্ত বিরোধ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ এটিকে কৌশলগত রাজনৈতিক পুনর্গঠন হিসেবে বিবেচনা করছেন।

এই বিষয়ে রাজ্যসভার সভাপতির কাছে চিঠি দিয়ে সদস্যপদ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে এবং বিষয়টি সংসদীয় আলোচনার অংশ হয়ে উঠছে।

 

Leave a comment