উত্তরবঙ্গের ‘মোহিতনগর’ সুপারিতে সাফল্যের ঝড়! বেশি ফলনে কৃষকদের আয় বাড়ছে, দক্ষিণ ভারতেও বাড়ছে চাহিদা

উত্তরবঙ্গের উদ্ভাবিত ‘মোহিতনগর’ সুপারি এখন তামিলনাড়ু, কর্ণাটক-সহ একাধিক রাজ্যে জনপ্রিয়। বেশি ফলন, উন্নত মান ও বাড়তি লাভের কারণে কৃষকদের প্রথম পছন্দ হয়ে উঠেছে এই বিশেষ সুপারি জাত।

উত্তরবঙ্গের কৃষি গবেষণার এক উল্লেখযোগ্য সাফল্য এখন জাতীয় স্তরে আলোচনায়। ‘মোহিতনগর’ নামের বিশেষ সুপারি জাত শুধু পশ্চিমবঙ্গেই নয়, দক্ষিণ ভারতের একাধিক রাজ্যেও ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। অধিক ফলন, উন্নত গুণমান এবং পরিবেশের সঙ্গে সহজে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতার জন্য এই জাত কৃষকদের কাছে লাভজনক বিকল্প হিসেবে উঠে এসেছে।

উত্তরবঙ্গের গবেষণার সাফল্য পৌঁছেছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে

উত্তরবঙ্গের গবেষকদের তৈরি ‘মোহিতনগর’ সুপারি বর্তমানে তামিলনাড়ু, কর্ণাটক, অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশায় দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। প্রতিকূল আবহাওয়াতেও ভাল ফলন দেওয়ার ক্ষমতা এবং প্রচলিত জাতের তুলনায় বেশি উৎপাদনের কারণে বহু কৃষক এখন এই প্রজাতির চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

১৯৯৫ সাল থেকে শুরু, আজ দেশজুড়ে পরিচিত নাম

কৃষি বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৫ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে কৃষকদের জন্য ‘মোহিতনগর’ জাতটি উন্মুক্ত করা হয়। প্রথমে পশ্চিমবঙ্গ ও কর্ণাটকের জলবায়ুর কথা মাথায় রেখে এটি তৈরি হলেও বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সফলভাবে চাষ হচ্ছে।এই প্রজাতির গাছ লম্বা আকৃতির এবং ফল ডিম্বাকার। বিজ্ঞানসম্মত পরিচর্যা করলে একটি গাছ থেকে বছরে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০টি সুপারি পাওয়া সম্ভব। শুকানোর পর প্রতিটি গাছ থেকে গড়ে ৩.৫ থেকে ৪ কেজি পর্যন্ত উন্নত মানের শুকনো সুপারি উৎপাদিত হয়।

৩০ থেকে ৫০ শতাংশ বেশি ফলনে বাড়ছে কৃষকদের লাভ

মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, দক্ষিণ ভারতের প্রচলিত সুপারি জাতগুলির তুলনায় ‘মোহিতনগর’ প্রজাতিতে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি ফলন মিলছে। ফলে নতুন বাগান তৈরির পাশাপাশি পুরনো বাগান পুনর্গঠনের ক্ষেত্রেও কৃষকেরা এই জাতকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। বেশি উৎপাদনের কারণে আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

দূরপাল্লার পরিবহনে নতুন কৌশল

দূরের রাজ্যে চারাগাছ পাঠাতে গিয়ে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা থাকায় নতুন পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছে। চারার পরিবর্তে নির্বাচিত ‘মা-গাছ’ থেকে সংগ্রহ করা উন্নত মানের বীজ সুপারি কৃষকদের কাছে সরাসরি পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এতে পরিবহনের ঝুঁকি কমছে এবং চাষিরাও সহজে মানসম্মত বীজ পাচ্ছেন।

নতুন বাজারে বাড়ছে সম্ভাবনা

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ‘মোহিতনগর’ সুপারির গ্রহণযোগ্যতা বাড়ায় উত্তরবঙ্গের কৃষি গবেষণার সাফল্য আরও স্পষ্ট হয়েছে। উন্নত ফলন ও বাজারে চাহিদা বৃদ্ধির ফলে ভবিষ্যতে এই প্রজাতি সুপারি চাষে আরও বড় অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা।

উত্তরবঙ্গে উদ্ভাবিত ‘মোহিতনগর’ সুপারি এখন দেশের বিভিন্ন রাজ্যে জনপ্রিয়। বেশি ফলন, প্রতিকূল আবহাওয়া সহ্য করার ক্ষমতা এবং উন্নত মানের উৎপাদনের কারণে তামিলনাড়ু, কর্ণাটক, অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশার কৃষকদের কাছেও এই জাত প্রথম পছন্দ হয়ে উঠেছে। ফলে কৃষকদের আয় বাড়ার পাশাপাশি তৈরি হয়েছে নতুন বাজারের সুযোগ।

Leave a comment