Mojtaba Khamenei: মোজতবা খামেনেইকে ঘিরে মার্কিন গোয়েন্দাদের বড় আশঙ্কা! পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

Mojtaba Khamenei: ইরানের নতুন নেতা মোজতবা খামেনেইকে নিয়ে মার্কিন গোয়েন্দাদের উদ্বেগ। ভবিষ্যতে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে কী আশঙ্কা তৈরি হয়েছে?

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেইকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলির মূল্যায়ন বলে দাবি করা একটি প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, ইরানের নতুন নেতৃত্ব ভবিষ্যতে পরমাণু কর্মসূচি আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। যদিও মোজতবা খামেনেই নিজে প্রকাশ্যে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পক্ষে কোনও অবস্থান নেননি।প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁর বাবা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই অতীতে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির বিরোধিতা করেছিলেন। কিন্তু মোজতবার নেতৃত্বাধীন কট্টরপন্থী গোষ্ঠীর মনোভাব নিয়ে মার্কিন গোয়েন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

বাবার তুলনায় কি মোজতবা বেশি আগ্রহী?

মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মোজতবা খামেনেই তাঁর বাবার তুলনায় পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির প্রতি বেশি আগ্রহী হতে পারেন। তবে এই দাবি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ও সামনে এসেছে—মোজতবার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে মার্কিন গোয়েন্দাদের কাছে থাকা তথ্যের বড় অংশই সাম্প্রতিক সংঘাতের আগের সময়ের।অর্থাৎ, সংঘাতের পর তাঁর চিন্তাভাবনা বা পরিকল্পনায় কোনও পরিবর্তন এসেছে কি না, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট তথ্য নেই। ফলে গোয়েন্দা মূল্যায়নকে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা যাচ্ছে না।

ইরান-মার্কিন উত্তেজনা কি আরও বাড়তে পারে?

মার্কিন গোয়েন্দাদের আশঙ্কা বাস্তবে পরিণত হলে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হতে পারে। সাম্প্রতিক সংঘাতের পর তেহরান যদি ভবিষ্যতে পরমাণু সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে এগিয়ে যায়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও তার প্রভাব পড়তে পারে।

তবে এই মুহূর্তে ইরান নতুন করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বা পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি শুরু করেছে—এমন নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। বরং পরমাণু পরিকাঠামো রক্ষা এবং ভবিষ্যতের জন্য সক্ষমতা ধরে রাখার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি।

পারমাণবিক স্থাপনা রক্ষায় তৎপর তেহরান?

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন হামলার পর ইরান নিজেদের পারমাণবিক স্থাপনাগুলির নিরাপত্তা বাড়ানোর দিকে নজর দিয়েছে। মধ্য ইরানের একটি অত্যন্ত সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ কমপ্লেক্স থেকে কিছু সেন্ট্রিফিউজ সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি।সম্ভাব্য বিমান হামলার আশঙ্কায় মোজতবা খামেনেই নিজেও অন্যান্য ইরানি কর্মকর্তার সঙ্গে সীমিত যোগাযোগ রাখছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ নিয়ে কেন আলোচনা?

মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ইরানের অবশিষ্ট সেন্ট্রিফিউজগুলির কিছু অংশ শক্তিশালী নিরাপত্তাবেষ্টিত ভূগর্ভস্থ ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ কমপ্লেক্সে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে ভবিষ্যতে ইরান চাইলে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা পুনরায় কাজে লাগাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তবে বর্তমানে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কর্মসূচি সক্রিয়ভাবে চালু করেছে—এমন কোনও নিশ্চিত প্রমাণের কথা প্রতিবেদনে বলা হয়নি। বরং পরমাণু অবকাঠামো সংরক্ষণ ও সম্ভাব্য পুনর্গঠনের প্রস্তুতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

থার্মোনিউক্লিয়ার ওয়ারহেডের দাবি কতটা গুরুতর?

প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, বাইডেন প্রশাসনের শেষ দিকে মার্কিন কর্মকর্তারা মনে করেছিলেন যে ইরান একটি তুলনামূলক সাধারণ ধরনের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা যাচাই করতে পারে। পরে মোজতবা খামেনেই দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রে বহনযোগ্য আরও উন্নত থার্মোনিউক্লিয়ার ওয়ারহেড তৈরির দিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন—এমন একটি মূল্যায়নের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এই ধরনের গোয়েন্দা মূল্যায়ন এবং দাবিগুলি স্বাধীনভাবে যাচাই করা অত্যন্ত কঠিন। তাই এগুলিকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে না দেখে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার আশঙ্কা ও মূল্যায়ন হিসেবে দেখা উচিত।

সামনে কী হতে পারে?

মোজতবা খামেনেইয়ের নেতৃত্বে ইরানের পরমাণু নীতি কোন দিকে এগোবে, তা এখন আন্তর্জাতিক মহলের নজরে। ইরান যদি পরমাণু কর্মসূচি পুনরায় সক্রিয় করার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। একইসঙ্গে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশগুলিও পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখবে।

তবে আপাতত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ইরান সত্যিই পরমাণু অস্ত্র তৈরির পথে এগোচ্ছে কি না, নাকি ভবিষ্যতের সম্ভাব্য চাপ মোকাবিলার জন্য নিজেদের পারমাণবিক পরিকাঠামো সংরক্ষণ করছে। এই প্রশ্নের উত্তরই আগামী দিনে আন্তর্জাতিক কূটনীতির অন্যতম বড় বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

ইরানের নতুন নেতা মোজতবা খামেনেইকে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার মূল্যায়ন অনুযায়ী, তিনি প্রকাশ্যে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পক্ষে অবস্থান না নিলেও ভবিষ্যতে ইরানের কট্টরপন্থী নেতৃত্ব পরমাণু কর্মসূচি এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। তবে মার্কিন কর্মকর্তারাই সতর্ক করে বলেছেন, মোজতবার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্যের বড় অংশই সাম্প্রতিক সংঘাতের আগের সময়ের।

Leave a comment