বর্ষার মরশুমে উত্তরবঙ্গের আবহাওয়া যেন মুহূর্তে বদলে যাচ্ছে। সকালবেলায় আকাশ পরিষ্কার, রোদ ঝলমলে—কিন্তু বেলা গড়াতেই ফের মেঘের আনাগোনা এবং বিকেলের দিকে বৃষ্টির সম্ভাবনা। শনিবারও উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় এমনই মিশ্র আবহাওয়া দেখা যেতে পারে বলে পূর্বাভাস।পাহাড়ি এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি। ফলে দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ে ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে সমতলের জেলাগুলিতে আপাতত বড় ধরনের দুর্যোগের সম্ভাবনা না থাকলেও বিকেলের বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি ভোগাতে পারে।
দার্জিলিংয়ে মেঘ-রোদের খেলা, ধসের আশঙ্কা
শনিবার সকাল থেকেই দার্জিলিংয়ে দেখা যাচ্ছে রোদ ও মেঘের লুকোচুরি। আপাতত বৃষ্টির দাপট খুব বেশি না থাকলেও আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে।
পাহাড়ি এলাকায় বৃষ্টির জেরে কোথাও কোথাও ভূমিধসের আশঙ্কাও রয়েছে। ফলে পাহাড়ি পথে যাঁরা যাতায়াত করবেন, তাঁদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
আজ দার্জিলিংয়ে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রির কাছাকাছি থাকতে পারে।
জলপাইগুড়িতে সকালে রোদ, বিকেলে বৃষ্টির সম্ভাবনা
টানা বৃষ্টির পর শনিবার সকালে জলপাইগুড়িতে ফিরেছে রোদের দেখা। পরিষ্কার আকাশে স্বস্তি পেয়েছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে কৃষক ও চা-বাগানের শ্রমিকরা।
তবে এই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে। বিকেলের দিকে আকাশ আংশিক মেঘলা হয়ে জেলার কিছু এলাকায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩২–৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা প্রায় ২৭ ডিগ্রির কাছাকাছি থাকতে পারে।
এদিকে সেচ দফতরের তথ্য অনুযায়ী, তিস্তা ও জলঢাকা নদীর জলস্তর আপাতত স্বাভাবিক রয়েছে। নতুন করে জলস্তর বাড়ার কোনও উল্লেখযোগ্য সংকেতও নেই।
কালিম্পংয়ে বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি
কালিম্পংয়ে দিনের শুরুতে হালকা বৃষ্টি হলেও পরে তার প্রভাব কিছুটা কমতে পারে। তবে সারাদিন আকাশ মেঘলা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বজ্রবিদ্যুৎ-সহ মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিও হতে পারে। সক্রিয় মৌসুমী অক্ষরেখার প্রভাবে আগামী কয়েক দিন উত্তরবঙ্গের আবহাওয়ায় খুব একটা পরিবর্তন নাও আসতে পারে।
আজ কালিম্পংয়ে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় ২৬ ডিগ্রি এবং সর্বনিম্ন ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকতে পারে।
পাহাড়ে বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় পর্যটকদের বাইরে বেরোনোর সময় ছাতা বা রেনকোট সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
কোচবিহারে ভ্যাপসা গরমের পর হালকা বৃষ্টি
কোচবিহারে সকালে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। দিনের শেষে জেলার কিছু অংশে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা আপাতত নেই।ফলে পর্যটন বা ব্যবসায়িক কাজে যাঁরা যাতায়াত করবেন, তাঁদের বড় ধরনের সমস্যায় পড়ার সম্ভাবনা তুলনামূলক কম। তবে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ৭০–৭৯ শতাংশের মধ্যে থাকায় বৃষ্টির আগে ভ্যাপসা গরম অনুভূত হতে পারে।আজ কোচবিহারে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় ৩৩.৪ ডিগ্রি এবং সর্বনিম্ন ২৬.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকতে পারে।
ডুয়ার্স ও সমতলে কেমন থাকবে আবহাওয়া?
উত্তরবঙ্গের সমতল এলাকাগুলিতে দিনের প্রথম ভাগে রোদের দেখা মিলতে পারে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আকাশে মেঘ জমবে এবং বিকেল বা সন্ধ্যার দিকে বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টি হতে পারে।ডুয়ার্স অঞ্চলেও একই ধরনের আবহাওয়া দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে দিনের শুরুতে বেড়াতে বেরোলেও বিকেলের দিকে বৃষ্টির জন্য প্রস্তুত থাকা ভালো।
নদীর জলস্তর আপাতত নিয়ন্ত্রণে
উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় বর্ষার বৃষ্টি হলেও তিস্তা ও জলঢাকা নদীর জলস্তর আপাতত স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। নতুন করে জলস্তর দ্রুত বেড়ে যাওয়ার কোনও সংকেত নেই।তবে পাহাড়ি এলাকায় ভারী বৃষ্টি হলে নদী ও পাহাড়ি ঝোরার জলস্তরে দ্রুত পরিবর্তন আসতে পারে। তাই পরিস্থিতির উপর নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পর্যটকদের জন্য কী পরামর্শ?
উত্তরবঙ্গে বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তনের বিষয়টি মাথায় রাখা জরুরি। বিশেষ করে দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ের পাহাড়ি রাস্তায় বৃষ্টির সময় ভূমিধসের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।তাই পাহাড়ে যাওয়ার আগে স্থানীয় প্রশাসন ও আবহাওয়া দফতরের সর্বশেষ সতর্কতা দেখে নেওয়া উচিত। গাড়িতে যাতায়াতের সময়ও সতর্ক থাকা এবং প্রয়োজনে বিকল্প রুট সম্পর্কে খোঁজ রাখা ভালো।
শনিবার উত্তরবঙ্গজুড়ে দেখা যেতে পারে রোদ-মেঘের খেলা। দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ের পাহাড়ি এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পাশাপাশি ভূমিধসের আশঙ্কাও রয়েছে। অন্যদিকে জলপাইগুড়ি, কোচবিহার ও ডুয়ার্সে দিনের শুরুতে রোদ থাকলেও বিকেলের দিকে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে। তিস্তা ও জলঢাকা নদীর জলস্তর আপাতত স্বাভাবিক থাকলেও পাহাড়ি এলাকায় সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।











