বাঙালির পাতে মুগডালের কদর চিরকালই আলাদা। কখনও পাতলা আদা-জিরের ফোড়নে, আবার কখনও মাছের মাথা দিয়ে ঘন ডাল—সব ক্ষেত্রেই এর স্বাদ অতুলনীয়। তবে মুসুর ডালের তুলনায় মুগডাল সিদ্ধ করা একটু বেশি যত্নের। বিশেষ করে প্রেশার কুকারে সঠিক সময় ও সিটির সংখ্যা জানা না থাকলে ডালের স্বাদ ও গঠন নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
রান্নার আগে ডাল ভিজিয়ে রাখুন
মুগডাল রান্নার আগে অন্তত ২০ মিনিট জলে ভিজিয়ে রাখলে দ্রুত সিদ্ধ হয় এবং ডালের গঠনও ভালো থাকে। ভিজিয়ে রাখার পর পরিষ্কার জলে ধুয়ে নিন।যদি ভাজা মুগডাল রান্না করতে চান, তবে ধোয়ার পর শুকনো কড়াইয়ে হালকা সোনালি হওয়া পর্যন্ত ভেজে নিন। এতে ডালের সুগন্ধ ও স্বাদ অনেকটাই বেড়ে যায়।
প্রেশার কুকারে কতটি সিটি দেবেন?
মুগডালের ধরন অনুযায়ী সিটির সংখ্যা কিছুটা আলাদা হতে পারে।
সোনামুগ ডাল: ২টি সিটি যথেষ্ট।
অন্যান্য মুগডাল: ৩টি সিটি দিলে ভালোভাবে সিদ্ধ হয়।
এর বেশি সিটি দিলে ডাল অতিরিক্ত গলে যেতে পারে, ফলে রান্নার স্বাদ ও টেক্সচার নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
প্রেশার কুকারেই রান্না করতে চাইলে কী করবেন?
অনেকেই আলাদা কড়াই ব্যবহার না করে প্রেশার কুকারেই পুরো রান্না শেষ করেন। সে ক্ষেত্রে প্রথমে ডাল সিদ্ধ করে নিন।এরপর ঘি গরম করে গোটা জিরে, তেজপাতা, শুকনো লঙ্কা ও গরম মশলার ফোড়ন দিন। তারপর আদাবাটা ও টমেটো বাটা দিয়ে অল্প আঁচে ভেজে সিদ্ধ ডাল মিশিয়ে নিন।পরিমাণমতো নুন, প্রয়োজন অনুযায়ী জল এবং অন্যান্য গুঁড়ো মশলা দিয়ে আবার ঢাকনা বন্ধ করে ২টি সিটি দিন। তারপর গ্যাস বন্ধ করে কুকারের সমস্ত চাপ স্বাভাবিকভাবে বেরিয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।
এই ভুল একেবারেই করবেন না
রান্না শেষ হওয়ার পর অনেকেই প্রেশার কুকারের ঢাকনা ভালোভাবে পরিষ্কার করেন না। এতে ডালের দানা বা স্টার্চ সেফটি ভালভ ও ভেন্ট পাইপে আটকে যেতে পারে। পরবর্তী ব্যবহারের সময় এটি চাপ বের হওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।তাই প্রতিবার ব্যবহার শেষে কুকারের ঢাকনা, ভালভ এবং ভেন্ট পাইপ ভালোভাবে পরিষ্কার করা অত্যন্ত জরুরি।
মুগডাল রান্না করতে গিয়ে অনেকেই বুঝতে পারেন না প্রেশার কুকারে ঠিক কতটি সিটি দিলে ডাল নিখুঁতভাবে সিদ্ধ হবে। বেশি সিটি পড়লে ডাল গলে যায়, আবার কম হলে শক্ত থেকে যায়। কয়েকটি সহজ নিয়ম মেনে চললেই মাখনের মতো নরম ও সুস্বাদু মুগডাল তৈরি করা সম্ভব।













