গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় উৎসব ভোট—সেই উৎসব থেকেই বঞ্চিত হলেন ইতিহাসখ্যাত মীরজাফর-এর বংশধরেরা। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভোটার তালিকায় নাম না থাকায় ‘ছোটে নবাব’ সহ তাঁর পরিবারের বহু সদস্য ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারলেন না, যা ঘিরে তৈরি হয়েছে ক্ষোভ ও হতাশা।
নবাবি ঐতিহ্যের শহরে ‘বেরঙিন’ ভোট উৎসব
প্রতিবার ভোট এলেই উৎসবের আমেজে মেতে উঠত নবাব পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু এবার সেই চিত্র সম্পূর্ণ আলাদা। মুর্শিদাবাদ-এর ২২টি কেন্দ্রে ভোট হলেও নবাব পরিবারের অধিকাংশ সদস্য বাড়িতে বসেই টিভিতে ভোটের খবর দেখেছেন। কেউ কেউ আবার বুথের বাইরে বসে সাধারণ ভোটারদের সাহায্য করেছেন, কিন্তু নিজেরাই ভোট দিতে পারেননি।
কিল্লা নিজামতে ইতিহাস, কিন্তু ভোটে বঞ্চনা
লালবাগের কিল্লা নিজামাত এলাকায় আজও বসবাস করেন নবাব পরিবারের উত্তরসূরিরা। ইতিহাসের পাতায় ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধ-এর পর ব্রিটিশদের সহায়তায় বাংলার মসনদে বসেছিলেন মীরজাফর। সেই ঐতিহ্যের ধারক পরিবারই আজ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত।
‘ছোটে নবাব’ কে?
বর্তমান প্রজন্মে মহম্মদ রেজা আলি মির্জা, যিনি ‘ছোটে নবাব’ নামে পরিচিত, এখনও কিল্লা নিজামতের কাছেই বসবাস করেন। তাঁর সঙ্গেই রয়েছেন তাঁর ছেলে সৈয়দ মহম্মদ ফাহিম মির্জা এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।
কেন বাদ পড়ল নাম? প্রশ্নের মুখে প্রক্রিয়া
২০০২ সাল পর্যন্ত ভোটার তালিকায় নাম থাকলেও, এবার বিশেষ সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ার পর অধিকাংশ সদস্যের নাম বাদ পড়ে যায়। ফলে ২০২৬ সালের West Bengal Assembly Elections 2026-এ তাঁরা ভোট দিতে পারেননি। যদিও ছোটে নবাব ভোটের দিন নথি নিয়ে বুথে যাওয়ার কথা ভেবেছিলেন, শেষমেশ তা আর করা হয়নি।
ভোট না দিয়েও গণতন্ত্রে অংশগ্রহণ
ফাহিম মির্জা, যিনি স্থানীয় পুরসভার কাউন্সিলর ও সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মী, জানান—নিজে ভোট দিতে না পারলেও তিনি বুথের বাইরে বসে ভোটারদের সাহায্য করেছেন। ১৮ বছর বয়স থেকে ভোট দিয়ে আসা একজন নাগরিক হিসেবে এবারের অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে অত্যন্ত কষ্টদায়ক।
‘আমরা নাগরিক, অধিকার চাই’—ক্ষোভের সুর
ফাহিমের কথায়, “ভোটার তালিকায় নাম না থাকলেও আমরা ভারতের নাগরিক।” কয়েক শতাব্দী ধরে এই জেলায় বসবাসকারী একটি ঐতিহাসিক পরিবারের সদস্যদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠছে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নিয়েও।
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ায় মুর্শিদাবাদ-এর নবাব পরিবারের শতাধিক সদস্য এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দিতে পারেননি। ‘ছোটে নবাব’-এর পরিবারে নেমেছে হতাশার ছায়া।








