ট্রেন থেকে নামার পরেই বন্ধুত্বের হাত বাড়ানো। তারপর নিরাপত্তার আশ্বাস। আর সেই বিশ্বাসের সুযোগ নিয়েই সর্বস্বান্ত ভিনরাজ্যের যাত্রীরা। হাওড়া স্টেশন চত্বরে সক্রিয় এমনই এক প্রতারণা চক্রের পর্দাফাঁস করল পুলিশ।
বন্ধুত্বের ফাঁদে ফেলে সর্বস্বান্ত
পুলিশ সূত্রে খবর, Howrah railway station কিংবা Shalimar railway station-এ ট্রেন থেকে নামা ভিনরাজ্যের যাত্রীদের টার্গেট করত এই গ্যাং। বিশেষ করে বিহারের Muzaffarpur থেকে আসা যাত্রীদের কাছে গিয়ে নিজেদের একই জেলার বাসিন্দা বলে পরিচয় দিত তারা। প্রথমে বন্ধুত্ব, তারপর বিশ্বাস অর্জন—এই ছিল মূল কৌশল।
ভুয়ো টিটি, নকল চালান—অভিনব প্রতারণা
এরপর যাত্রীদের বোঝানো হত, কলকাতায় নতুন এসেছেন, মূল্যবান জিনিসপত্র সুরক্ষিত রাখা দরকার। তারা দাবি করত, পরিচিত টিটিই রয়েছেন—যাঁর হেফাজতে রাখলে জিনিস নিরাপদ থাকবে।শালিমার স্টেশন চত্বর বা হাওড়া ময়দান এলাকায় নিয়ে গিয়ে ভুয়ো টিটির অফিস দেখানো হত। নকল চালান কেটে টাকাপয়সা, সোনার গয়না বা অন্যান্য মূল্যবান জিনিস নিয়ে উধাও হয়ে যেত অভিযুক্তরা।
গ্রেপ্তার দুই, তদন্তে আরও নাম
এই ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে মিথিলেশ কুমার ও সনু কুমার মাহাতো নামে দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হাওড়া ময়দানের বঙ্কিম সেতুর তলা থেকে তাঁদের পাকড়াও করা হয়।গত বছরও মুজাফ্ফরপুর থেকে এই চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। বুধবার রাতে হাওড়া থানা এলাকা থেকে আরও দুই সদস্যকে ধরা হয়েছে। চক্রে আরও কেউ জড়িত কিনা, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
ভিনরাজ্যের শ্রমিকরাই মূল টার্গেট
কলকাতায় কাজের সন্ধানে আসা বহু ভিনরাজ্যের যাত্রী তাঁদের মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকেন। সেই মানসিক অবস্থার সুযোগ নিয়েই প্রতারণা চালাত এই গ্যাং। বিশ্বাস করলেই খোয়া যেত সর্বস্ব।
হাওড়া ও শালিমার স্টেশনে ভিনরাজ্যের যাত্রীদের টার্গেট করে অভিনব কায়দায় প্রতারণা করত ‘মুজাফ্ফরপুর গ্যাং’। নিজেদের একই জেলার বাসিন্দা বলে বন্ধুত্ব গড়ে তুলে মূল্যবান জিনিস হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ। Howrah Police Station-এর তৎপরতায় গ্রেপ্তার দুই অভিযুক্ত।










