BLO কাজের চাপ: রাজ্যে এসআইআর প্রস্তুতির সময়ে অতিরিক্ত দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে দুই বিএলও-র মৃত্যু ও এক কর্মীর অসুস্থতা ঘিরে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। নবান্ন জানায়, মৃত শান্তিমনি এক্কা ও ললিত অধিকারীর পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। কোন্নগরের নমিতা বিশ্বাস সেরিব্রাল স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ায় তাঁর চিকিৎসার ব্যয়ভারও বহন করবে সরকার। ক্রমবর্ধমান কাজের চাপ ও ডিজিটাইজড আপলোডের নিয়মকে কেন্দ্র করে বিএলও-দের মধ্যে বাড়ছে ক্ষোভ।

দুই মৃত বিএলও-র পরিবারকে ক্ষতিপূরণ
শান্তিমনি এক্কা ও ললিত অধিকারী—এই দুই বিএলও দায়িত্বপালনকালে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরবর্তী সময়ে মৃত্যু হয় তাঁদের। জলপাইগুড়ির মাল এলাকার বাসিন্দা শান্তিমনির পরিবার দাবি করে, এসআইআর-এর অতিরিক্ত চাপ সামলাতে না পেরে তিনি আত্মহত্যা করেন। ললিত অধিকারী ছিলেন কোচবিহারের বড়ধাম চাতরাগ্রামের বাসিন্দা এবং মহিষমুড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। বৃহস্পতিবার পথ দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়।মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে এই দুই পরিবারের হাতে ক্ষতিপূরণের চেক তুলে দেওয়া হয়।
অসুস্থ বিএলও-র জন্য আর্থিক সাহায্য
কোন্নগরের বাসিন্দা বিএলও নমিতা বিশ্বাস দায়িত্ব পালনের সময় সেরিব্রাল স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। তিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। নবান্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী তাঁর পরিবারের হাতে ১ লক্ষ টাকার সাহায্য দেওয়ার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি তাঁর চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয়ভারও নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

কাজের চাপে নাজেহাল বিএলও-রা
এসআইআর বা ভোটার তালিকা সংশোধন ও আপডেটের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন বিএলও কর্মীরা। সাম্প্রতিক সময়ে তাঁদের অভিযোগ—
কাজের চাপ ভয়াবহভাবে বেড়েছে
শুধু ফর্ম বিলি–সংগ্রহ নয়,
সব তথ্য ডিজিটাইজ করে কমিশনের অ্যাপে আপলোড করতে হচ্ছে
এই অতিরিক্ত দায়িত্বের কারণে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অসুস্থতা, বিক্ষোভ এবং অভিযোগের খবর আসছে।
রাজনৈতিক চাপানউতোরও বাড়ছে
এসআইআর সংক্রান্ত অতিরিক্ত চাপ নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে তর্ক। বিরোধীরা অভিযোগ তুলছেন—পর্যাপ্ত পরিকাঠামো ছাড়া বিপুল পরিমাণ কাজ চাপিয়ে দেওয়াই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী। শাসক শিবির অবশ্য বলছে, সব নির্দেশ কমিশনের, রাজ্য শুধু বাস্তবায়নের দায়িত্বে।

রাজ্যে কর্তব্যরত অবস্থায় দুই বিএলও-র মৃত্যুর পর তাঁদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করল নবান্ন। পাশাপাশি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি এক বিএলও-র পরিবারের জন্য ১ লক্ষ টাকা সাহায্যের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর। কাজের অতিরিক্ত চাপ নিয়ে বাড়ছে ক্ষোভ ও উদ্বেগ।












