বন্ধ জুট মিল ফের চালুর অপেক্ষায় দিন গুনছিলেন হাজার হাজার শ্রমিক। অবশেষে মিলল স্বস্তির খবর। আগামী ৩ জুলাই থেকে পুনরায় খুলছে নৈহাটি জুট মিল। দীর্ঘ আলোচনার পর মিল কর্তৃপক্ষ, শ্রমিক সংগঠন এবং শ্রম দফতরের মধ্যে ঐকমত্য তৈরি হওয়ায় ফের উৎপাদন শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে কর্মসংস্থানের নতুন আশায় বুক বাঁধছেন প্রায় আড়াই হাজার শ্রমিক ও তাঁদের পরিবার।
প্রায় এক মাস পর খুলছে জুট মিল
চলতি বছরের ৬ জুন নৈহাটি জুট মিল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকেই অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছিলেন হাজার হাজার শ্রমিক। নিয়মিত আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বহু পরিবার আর্থিক সংকটে পড়ে। মিল পুনরায় চালুর দাবিতে শ্রমিকদের একাধিক আন্দোলন ও বিক্ষোভও হয়। অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামী ৩ জুলাই থেকে পুনরায় উৎপাদন শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বৈঠকের পরেই মিলল ইতিবাচক সমাধান
কলকাতার নিউ সেক্রেটারিয়েটে শ্রম দফতরের উদ্যোগে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন মিল কর্তৃপক্ষ, বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং শ্রমমন্ত্রী তথা পরিবহনমন্ত্রী অর্জুন সিং। দীর্ঘ আলোচনা ও মতবিনিময়ের পর সর্বসম্মতিক্রমে মিল পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষই দ্রুত উৎপাদন শুরু করার বিষয়ে সম্মতি জানায়।
খবর ছড়াতেই উৎসবে মাতলেন শ্রমিকরা
মিল খোলার খবর প্রকাশ্যে আসতেই নৈহাটি শিল্পাঞ্চলে আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়। শ্রমিকরা মিছিল বের করেন, বাজি ফাটান এবং একে অপরকে মিষ্টি খাইয়ে শুভেচ্ছা জানান। বহু শ্রমিকের মতে, দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর এই সিদ্ধান্ত তাঁদের পরিবারের জন্য নতুন আশার আলো নিয়ে এসেছে।
ফিরছে কর্মসংস্থানের আশা
এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে প্রায় আড়াই হাজার শ্রমিক আবার কাজে ফিরতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে। শ্রমিকদের দাবি, শুধু কর্মচারীরাই নন, তাঁদের উপর নির্ভরশীল হাজার হাজার পরিবারের জীবিকাও এই মিলের সঙ্গে জড়িত। তাই মিল চালু হওয়া গোটা এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।
নিয়মিত উৎপাদনের দাবি শ্রমিকদের
মিল পুনরায় চালুর সিদ্ধান্তে খুশি হলেও ভবিষ্যতে যাতে আবার উৎপাদন বন্ধ না হয়, সেই দাবিও তুলেছেন শ্রমিকরা। তাঁদের আশা, এবার থেকে নিয়মিত উৎপাদন চলবে এবং কর্মসংস্থান নিয়ে আর নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে হবে না। শিল্পাঞ্চলে স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখতে মালিকপক্ষ ও প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলেও প্রত্যাশা করছেন তাঁরা।












