North 24 Parganas News: গেটে ‘সাসপেনশন অব ওয়ার্কস’ নোটিশ! আচমকা বন্ধ নৈহাটি জুটমিল, অনিশ্চয়তায় হাজার হাজার শ্রমিক

উত্তর ২৪ পরগনার নৈহাটি জুটমিলে আচমকা ‘সাসপেনশন অব ওয়ার্কস’ নোটিশ জারি। পাটের মূল্যবৃদ্ধির কারণ দেখাল কর্তৃপক্ষ, তবে প্রশ্ন তুলছে শ্রমিক সংগঠন। অনিশ্চয়তায় কয়েক হাজার শ্রমিক পরিবার।

শনিবার সকালে কাজে এসে মিলের গেটে ঝুলতে দেখা গেল ‘সাসপেনশন অব ওয়ার্কস’-এর নোটিশ। মুহূর্তের মধ্যেই ছড়িয়ে পড়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভ। নৈহাটির অন্যতম প্রাচীন শিল্প প্রতিষ্ঠান জুটমিলের হঠাৎ এই সিদ্ধান্তে রুজি-রুটির সংকটে পড়েছেন হাজার হাজার শ্রমিক। মিল কবে খুলবে, আদৌ খুলবে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন সবাই।

আচমকা সিদ্ধান্তে স্তম্ভিত শ্রমিক মহল

দিনের শুরুটা ছিল অন্য দিনের মতোই। কিন্তু মিলে পৌঁছে শ্রমিকরা দেখেন গেটে টাঙানো রয়েছে কাজ বন্ধের নোটিশ। কর্তৃপক্ষের এই ঘোষণার পর থেকেই মিল চত্বরে তৈরি হয় চাঞ্চল্য। কয়েক হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান নির্ভরশীল এই জুটমিল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবারগুলির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে শুরু করেছে।

পাটের মূল্যবৃদ্ধির যুক্তি দেখাল কর্তৃপক্ষ

মিল কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, কাঁচা পাটের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং উৎপাদন সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যার কারণে সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিল্পক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের চাপ উৎপাদনকে অলাভজনক করে তুলছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

শ্রমিক সংগঠনের পাল্টা দাবি

তবে কর্তৃপক্ষের এই ব্যাখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন। তাঁদের দাবি, মিলের ভেতরে এখনও কয়েকদিন উৎপাদন চালিয়ে যাওয়ার মতো পর্যাপ্ত পাট মজুত রয়েছে। ফলে শুধুমাত্র কাঁচামালের সংকট বা মূল্যবৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে মিল বন্ধ করা বাস্তবসম্মত নয়।শ্রমিকদের একাংশের অভিযোগ, প্রকৃত কারণ আড়াল করতেই এই ব্যাখ্যা সামনে আনা হয়েছে।

রাজনৈতিক তরজাও শুরু

ভারতীয় মজদুর সংঘ (বিএমএস)-এর সম্পাদক ধর্মেন্দ্র যাদব এই পরিস্থিতির জন্য প্রাক্তন তৃণমূলপন্থী শ্রমিক সংগঠনকে দায়ী করেছেন। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মিল পরিচালনা ও শ্রমিক স্বার্থ রক্ষার ক্ষেত্রে একাধিক গাফিলতির ফলেই আজ এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে শিল্পাঞ্চলে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে।

বকেয়া প্রাপ্য নিয়ে ক্ষোভ

শুধু কর্মসংস্থান নয়, শ্রমিকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। বহু শ্রমিকের অভিযোগ, তাঁদের বকেয়া পাওনা এবং অন্যান্য আর্থিক দাবি এখনও মেটানো হয়নি। সেই পরিস্থিতিতে হঠাৎ মিল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়বে।একাধিক শ্রমিক জানিয়েছেন, পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী হিসেবে তাঁদের উপর নির্ভরশীল রয়েছেন বৃদ্ধ বাবা-মা, স্ত্রী ও সন্তানরা। ফলে এই সিদ্ধান্ত তাঁদের জীবনে বড়সড় সংকট ডেকে আনতে পারে।

শিল্পাঞ্চলে বাড়ছে অনিশ্চয়তা

নৈহাটি দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ পাটশিল্প কেন্দ্রগুলির মধ্যে অন্যতম। এই জুটমিল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শুধু শ্রমিকরাই নন, পরিবহণ, ছোট ব্যবসা ও স্থানীয় অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত বহু মানুষও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন।শিল্প বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন মিল বন্ধ থাকলে তার প্রভাব গোটা এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের উপর পড়তে পারে।

প্রশাসনের হস্তক্ষেপের দাবি

মিল পুনরায় চালুর দাবিতে সরব হয়েছেন শ্রমিকরা। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে প্রশাসন এবং শ্রম দফতর হস্তক্ষেপ করে সমস্যার সমাধান করুক। একই সঙ্গে শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা মিটিয়ে কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা দেওয়ার দাবিও উঠেছে।বর্তমানে মিল কবে খুলবে কিংবা ভবিষ্যতে উৎপাদন পুনরায় শুরু হবে কি না, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষের তরফে স্পষ্ট কোনও বার্তা পাওয়া যায়নি।

উত্তর ২৪ পরগনার নৈহাটি জুটমিলে আচমকাই কাজ বন্ধের নোটিশ জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। পাটের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও উৎপাদন সমস্যার কারণ দেখানো হলেও শ্রমিক সংগঠনগুলি সেই যুক্তি মানতে নারাজ। মিল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কয়েক হাজার শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা।

Leave a comment