বিশ্ব পরিবেশ দিবসে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় দেখা গেল পরিবেশ রক্ষার এক অনন্য উদ্যোগ। আদিবাসী সংস্কৃতির রঙিন আবহে নামখানায় শুরু হল ‘মায়ের নামে একটি গাছ’ কর্মসূচি। একই সঙ্গে সুন্দরবনের পরিবেশগত সংকট মোকাবিলা এবং আগামী প্রজন্মকে সচেতন করতে জেলার বিভিন্ন স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আয়োজিত হল একাধিক সবুজায়ন কর্মসূচি।
‘মায়ের নামে একটি গাছ’ কর্মসূচিতে বর্ণাঢ্য সূচনা
স্থানীয় বাসিন্দা থেকে প্রশাসনিক আধিকারিক—সকলেই এই উদ্যোগে অংশগ্রহণ করেন। পরিবেশ রক্ষার বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সাংস্কৃতিক মাধ্যমকে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে।
সুন্দরবন রক্ষায় বিশেষ নজর বন দফতরের
বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ অরণ্য সুন্দরবন দক্ষিণ ২৪ পরগনার গর্ব। তাই পরিবেশ দিবসে সুন্দরবনকে কেন্দ্র করেই বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বন দফতরের পক্ষ থেকে ম্যানগ্রোভ সংরক্ষণ, প্লাস্টিক দূষণ নিয়ন্ত্রণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।বিশেষজ্ঞদের মতে, সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্র শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, গোটা দেশের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বাড়ছে লবণাক্ততা, বিপন্ন ম্যানগ্রোভ বনভূমি
গত কয়েক বছরে সুন্দরবন এলাকায় একাধিক পরিবেশগত সমস্যা প্রকট হয়েছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং নদীতে মিষ্টি জলের প্রবাহ কমে যাওয়ায় লবণাক্ততার মাত্রা বেড়েছে।এই পরিস্থিতি ম্যানগ্রোভ অরণ্যের বৃদ্ধি ব্যাহত করছে এবং বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণীর অস্তিত্বের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। পরিবেশবিদদের মতে, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
স্কুলে স্কুলে সবুজ বার্তা
বিশ্ব পরিবেশ দিবসে জেলার বিভিন্ন স্কুলেও পালন করা হয় বিশেষ কর্মসূচি। ফলতা অঞ্চলে ছাত্রছাত্রীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় চারা গাছ। প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে গাছের যত্ন নেওয়ার দায়িত্বও দেওয়া হয়।এছাড়া মিড-ডে মিলের মধ্যাহ্নভোজে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সবজি পরিবেশন করা হয়। এর মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব খাদ্যাভ্যাস এবং স্থানীয় কৃষিপণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধির বার্তাও তুলে ধরা হয়।
প্লাস্টিক দূষণ রোধে সচেতনতা অভিযান
গোসাবা, ছোটমোল্লাখালি-সহ সুন্দরবন সংলগ্ন পর্যটন কেন্দ্র এবং জনবহুল দ্বীপাঞ্চলে প্লাস্টিক বর্জ্যের সমস্যা দিন দিন বাড়ছে। এই দূষণ বনভূমির বাস্তুতন্ত্র এবং জলজ প্রাণীকুলের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে।সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজন করা হয় অঙ্কন প্রতিযোগিতা, কুইজ, আলোচনা সভা এবং পরিবেশ বিষয়ক কর্মশালা। শিশু ও তরুণ প্রজন্মকে পরিবেশ রক্ষার সঙ্গে যুক্ত করাই ছিল এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য।
পরিবেশ রক্ষার লড়াইয়ে জনসচেতনতার গুরুত্ব
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র সরকারি উদ্যোগ নয়, সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া পরিবেশ সংরক্ষণ সম্ভব নয়। একটি গাছ রোপণ থেকে শুরু করে প্লাস্টিক ব্যবহার কমানো—প্রতিটি ছোট পদক্ষেপই পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।বিশ্ব পরিবেশ দিবসে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন কর্মসূচি সেই বার্তাই আরও একবার তুলে ধরল।
বিশ্ব পরিবেশ দিবসে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জুড়ে পালিত হল একাধিক সচেতনতামূলক কর্মসূচি। নামখানায় ‘মায়ের নামে একটি গাছ’ উদ্যোগকে কেন্দ্র করে আদিবাসী নৃত্য ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা নজর কাড়ে। পাশাপাশি ফলতা-সহ জেলার বিভিন্ন প্রান্তে স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যে চারা গাছ বিতরণ, পরিবেশ বিষয়ক প্রতিযোগিতা এবং সুন্দরবন রক্ষার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়। জলবায়ু পরিবর্তন, প্লাস্টিক দূষণ এবং ম্যানগ্রোভ বন সংরক্ষণের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেয় বন দফতর।












