নালন্দায় কারগিল বাস স্ট্যান্ডসহ আটটি গুরুত্বপূর্ণ সাইরাতের বন্দোবস্তের টেন্ডার জারি করা হয়েছে। নগর নিকায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ জন্য তৃতীয় উন্মুক্ত দরপত্রের তারিখ ১৫ জুন নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, যাদের পুরোনো বকেয়া রয়েছে, তাদের দরপত্র প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে দেওয়া হবে না।
নগর পরিষদের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কারগিল বাস স্ট্যান্ড, বাজার ফি, পার্কিং স্থান এবং রাজস্ব-সংযুক্ত অন্যান্য সাইরাতের বন্দোবস্তের জন্য উন্মুক্ত দরপত্র অনুষ্ঠিত হবে। প্রশাসনের আশা, এবার প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং নগর নিকায়ের রাজস্ব আদায় উন্নত হবে।
নগর পরিষদের কর্মকর্তারা জানান, এর আগে দু’বার দরপত্র প্রক্রিয়া আয়োজন করা হলেও কিছু সাইরাতের জন্য সন্তোষজনক দরপত্র পাওয়া যায়নি। সেই কারণে তৃতীয়বারের মতো উন্মুক্ত দরপত্র আয়োজন করা হচ্ছে।
কর্মকর্তাদের মতে, এবার প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ স্বচ্ছ রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। সকল অংশগ্রহণকারীকে প্রয়োজনীয় নথিপত্র, পরিচয়পত্র এবং নিরাপত্তা আমানতসহ উপস্থিত থাকতে হবে। যাদের ওপর নগর নিকায়ের বকেয়া রয়েছে, তাদের কোনো অবস্থাতেই অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হবে না।
কারগিল বাস স্ট্যান্ডকে শহরের প্রধান বাস টার্মিনাল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এখান থেকে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক যাত্রীর যাতায়াত হয়। বাস স্ট্যান্ডের বন্দোবস্ত থেকে নগর পরিষদ প্রতি বছর আয় পায়। এ কারণে এই সাইরাতকে ঘিরে ঠিকাদারদের মধ্যে আগ্রহ দেখা যায়।
নগর পরিষদের কর্মকর্তারা জানান, বকেয়াদারদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। যারা পূর্ববর্তী বন্দোবস্তের অর্থ সময়মতো পরিশোধ করেননি বা নিয়ম লঙ্ঘন করেছেন, তাদের এবার দরপত্র প্রক্রিয়া থেকে বাদ রাখা হবে। প্রশাসনের বক্তব্য, এতে রাজস্ব আদায়ের উন্নতি হবে এবং শৃঙ্খলা বজায় থাকবে।
বিহার নগর উন্নয়ন বিভাগের নির্দেশিকা অনুযায়ী, সব সাইরাতের বন্দোবস্ত নির্ধারিত নিয়ম মেনে সম্পন্ন করা হবে। কর্মকর্তারা বলেন, কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না।
শহরের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের নজরও এই দরপত্র প্রক্রিয়ার দিকে রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, নতুন ঠিকাদার এলে বাস স্ট্যান্ড ও অন্যান্য সাইরাতের ব্যবস্থাপনায় উন্নতি হতে পারে। একাধিক ব্যক্তি পরিচ্ছন্নতা, পার্কিং এবং যাত্রীসুবিধা উন্নত করার দাবি জানিয়েছেন।
বিহারশরিফের আশপাশের বাণিজ্যিক এলাকাতেও এই টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা চলছে। বহু পুরোনো ও নতুন ঠিকাদার দরপত্রে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
নগর পরিষদ প্রশাসন অংশগ্রহণকারীদের সময়মতো আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা এবং সব নিয়ম মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। কর্মকর্তারা বলেন, অসম্পূর্ণ নথিপত্র বা বকেয়া অর্থ-সংক্রান্ত কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না।
এদিকে, নগর নিকায় সংশ্লিষ্ট সাইরাতগুলোর আয় এবং পূর্ববর্তী বছরের রাজস্ব পরিসংখ্যান পর্যালোচনা শুরু করেছে। প্রশাসনের মতে, সঠিকভাবে বন্দোবস্ত সম্পন্ন হলে নগর পরিষদের আয় বৃদ্ধি পেতে পারে।
নগর পরিষদ জানিয়েছে, ১৫ জুন অনুষ্ঠিতব্য উন্মুক্ত দরপত্র প্রক্রিয়ার সম্পূর্ণ ভিডিওগ্রাফি করা হবে, যাতে স্বচ্ছতা বজায় থাকে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য পুলিশ বাহিনীও মোতায়েন করা হবে।











