ভারতীয় সঙ্গীত জগতের জনপ্রিয় প্লেব্যাক গায়িকা নেহা কক্কর আজ ৩৮ বছরে পা দিলেন। শক্তিশালী কণ্ঠস্বর এবং একাধিক জনপ্রিয় গানের মাধ্যমে পরিচিতি পাওয়া এই শিল্পীর জীবনসংগ্রাম, পরিশ্রম এবং সাফল্যের পথচলা দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে।
নেহা কক্করের জন্ম ৬ জুন ১৯৮৮ সালে উত্তরাখণ্ডের ঋষিকেশে। পরবর্তীতে উন্নত জীবনের সন্ধানে তাঁর পরিবার দিল্লিতে চলে আসে। তাঁর বাবা ঋষিকেশ কক্কর স্কুলের বাইরে সামোসা বিক্রি করে পরিবারের ভরণপোষণ করতেন। আর্থিক সংকট থাকা সত্ত্বেও পরিবার সন্তানদের প্রতিভা বিকাশে উৎসাহ দিয়ে গেছে। নেহার ভাই টনি কক্কর এবং বোন সোনু কক্করও সঙ্গীত জগতের সঙ্গে যুক্ত এবং নিজ নিজ ক্ষেত্রে পরিচিতি অর্জন করেছেন।
শৈশব থেকেই নেহা কক্করের সঙ্গীতের প্রতি আগ্রহ ছিল। মাত্র চার বছর বয়স থেকে তিনি ভজন ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে গান গাইতে শুরু করেন। তিনি প্রায়ই বোন সোনু কক্করের সঙ্গে মাতার জাগরণ অনুষ্ঠানে অংশ নিতেন এবং ভক্তিমূলক গান পরিবেশন করতেন। এসব অনুষ্ঠানে গান গাওয়ার জন্য তিনি প্রায় ৫০০ টাকা পর্যন্ত পারিশ্রমিক পেতেন। এই অভিজ্ঞতাই তাঁর সঙ্গীতজীবনের প্রথম ধাপ হয়ে ওঠে।
নেহা কক্করের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসে জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘ইন্ডিয়ান আইডল’-এর দ্বিতীয় মৌসুমে অংশগ্রহণের সুযোগ পাওয়ার মাধ্যমে। সে সময় তিনি একাদশ শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। ভালো গায়কী সত্ত্বেও কম ভোট পাওয়ায় তাঁকে প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় নিতে হয়। তবে এই ব্যর্থতা তাঁর যাত্রার শেষ হয়ে ওঠেনি। বরং তিনি সঙ্গীতচর্চায় আরও বেশি মনোনিবেশ করেন।
![]()
২০০৮ সালে নেহা কক্কর তাঁর প্রথম মিউজিক অ্যালবাম ‘Neha The Rockstar’ প্রকাশ করেন, যা তাঁকে শিল্পমহলে পরিচিতি পেতে সহায়তা করে। এরপর তিনি বলিউডে কাজ শুরু করেন। ২০১২ সালে ‘Cocktail’ চলচ্চিত্রের ‘সেকেন্ড হ্যান্ড জওয়ানি’ গানটি তাঁর জন্য বড় সুযোগ হয়ে আসে। গানটি জনপ্রিয়তা অর্জন করে এবং চলচ্চিত্র শিল্পে তাঁর অবস্থান আরও দৃঢ় করে।
পরবর্তীতে নেহা কক্কর ধারাবাহিকভাবে একাধিক জনপ্রিয় গান উপহার দেন। এর মধ্যে ‘Sunny Sunny’, ‘Kala Chashma’, ‘Dilbar’, ‘Aankh Maarey’, ‘Aao Raja’, ‘Main Tera Boyfriend’ এবং ‘Mile Ho Tum’ উল্লেখযোগ্য। তাঁর কণ্ঠস্বরের বৈশিষ্ট্য এবং পরিবেশনার শক্তি তাঁকে তরুণ শ্রোতাদের মধ্যে ব্যাপক পরিচিতি এনে দিয়েছে। বর্তমানে তিনি বলিউডের অন্যতম বহুল শ্রুত গায়িকাদের মধ্যে গণ্য হন।
নেহা কক্করের জীবনপথ দেখায় যে প্রতিকূল পরিস্থিতিও সাফল্যের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। সামোসা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করা একটি পরিবার থেকে উঠে এসে বিনোদন জগতে নিজের পরিচয় প্রতিষ্ঠা করতে তিনি পরিশ্রম ও প্রতিভার মাধ্যমে সাফল্য অর্জন করেছেন।









