নিপা ভাইরাস নিয়ে রাজ্যজুড়ে বাড়তে থাকা উদ্বেগের আবহে আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিল আলিপুর চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। সংক্রমণের সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে চিড়িয়াখানার প্রতিটি অংশে চালু হয়েছে কড়া স্বাস্থ্যবিধি। পশু, কর্মী ও দর্শনার্থী—তিন পক্ষের সুরক্ষাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
চিড়িয়াখানা জুড়ে বাড়তি নজরদারি
স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশ মেনে আলিপুর চিড়িয়াখানায় নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। প্রতিদিনের কাজকর্মের পাশাপাশি আলাদা করে সুরক্ষা প্রটোকল কার্যকর করা হয়েছে, যাতে কোনওভাবেই ভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কা তৈরি না হয়।
দিনে দু’বার পরিষ্কার হচ্ছে পশুখাঁচা
চিড়িয়াখানার ভিতরে ও বাইরে থাকা সমস্ত পশুর খাঁচা দিনে অন্তত দু’বার করে পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করা হচ্ছে। হাইপোক্লোরাইটসহ কার্যকর ভাইরাসনাশক রাসায়নিক ব্যবহার করা হচ্ছে এই পরিষ্কারের কাজে। পশুদের বাসস্থানে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখাই এখন অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
দর্শনার্থী এলাকায় নিয়মিত স্যানিটাইজেশন
শুধু পশুখাঁচা নয়, দর্শনার্থীদের চলাচলের রাস্তা, ফুটপাত, বসার জায়গা ও অন্যান্য সাধারণ এলাকাও প্রতিদিন সন্ধ্যায় স্যানিটাইজ করা হচ্ছে। চিড়িয়াখানায় প্রবেশ ও প্রস্থানের প্রতিটি পথে বাড়তি পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বাদুড় নিয়ে আতঙ্ক, স্পষ্ট করল কর্তৃপক্ষ
নিপা ভাইরাসের সম্ভাব্য বাহক হিসেবে বাদুড় নিয়ে মানুষের মধ্যে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। জানানো হয়েছে, আলিপুর চিড়িয়াখানায় বাদুড় রাখার জন্য কোনও খাঁচা নেই। এখানে থাকা বাদুড়রা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে গাছে বসবাস করে এবং তাদের কোনও খাবার চিড়িয়াখানা থেকে দেওয়া হয় না।
‘ইন্ডিয়ান ফ্লাইং ফক্স’-এর স্বাভাবিক উপস্থিতি
চিড়িয়াখানায় দেখা যাওয়া বাদুড়গুলি মূলত ফলখেকো বাদুড় বা ‘ইন্ডিয়ান ফ্লাইং ফক্স’। এদের সংখ্যা নিয়ে আনুষ্ঠানিক গণনা না থাকলেও, গাছের নীচে বাদুড়ের বিষ্ঠা পাওয়া গেলে তা নিয়মিত পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করা হয়।
কর্মীদের জন্য কড়া নির্দেশ
পশুর খাঁচায় প্রবেশকারী সমস্ত কর্মীর জন্য মাস্ক ও গ্লাভস পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি খাঁচায় ঢোকার আগে ও বেরোনোর পরে জীবাণুনাশক জলে পা ডোবানো বা ‘ফুটবাথ’ ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজ্যে নিপা ভাইরাস সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ বাড়তেই আলিপুর চিড়িয়াখানায় জারি হল কড়া সতর্কতামূলক ব্যবস্থা। পশুখাঁচা থেকে দর্শনার্থী এলাকা—সব জায়গায় বাড়ানো হয়েছে স্যানিটাইজেশন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আতঙ্কের কোনও কারণ নেই, তবে সতর্কতায় কোনও ফাঁক রাখা হচ্ছে না।













