ইনদওরে সিরিজ নির্ণায়ক তৃতীয় ওয়ানডেতে টসে জিতে প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ভারত। শুরুটা একেবারেই আদর্শ—মাত্র ৫ রানের মধ্যেই দুটি উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের রাশ ধরেছিল রোহিতবাহিনী। কিন্তু সেই সুবিধা ধরে রাখতে পারল না ভারত। ড্যারিল মিচেল ও গ্লেন ফিলিপসের বিধ্বংসী জুটিতে ম্যাচে সম্পূর্ণভাবে ফিরে এল নিউজিল্যান্ড।
ঝড়ের শুরু, তারপরই ব্যাটিং ধস
ম্যাচের শুরুতেই কিউই শিবিরে ধাক্কা। মাত্র ৫ রানের মধ্যে পড়ে যায় ২ উইকেট, ৫৮ রানের মাথায় তৃতীয় উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় নিউজিল্যান্ড। ভারতীয় পেসারদের সুইং ও স্পিনারদের টার্নে তখন নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি ভারতের হাতেই।
চাপ সামলে লড়াইয়ে ফেরালেন মিচেল-ফিলিপস
চরম চাপের মুখে দাঁড়িয়ে ইনিংস গড়ার দায়িত্ব নেন ড্যারিল মিচেল। তাঁকে ঠান্ডা মাথায় সঙ্গ দেন গ্লেন ফিলিপস। ধীরে ধীরে উইকেট বুঝে খেলা শুরু করেন দু’জন। এরপর ভারতীয় বোলারদের উপর পাল্টা চাপ তৈরি করতে থাকেন এই কিউই জুটি।
২১৯ রানের রেকর্ড জুটি, ম্যাচের মোড় ঘোরাল
চতুর্থ উইকেটে মিচেল ও ফিলিপস গড়ে তোলেন ২১৯ রানের দুর্দান্ত পার্টনারশিপ। এই জুটিই কার্যত ম্যাচের রাশ ঘুরিয়ে দেয়। একদিকে স্থিতিশীলতা, অন্যদিকে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং—দু’য়ের মিশেলে ভারতীয় বোলিং আক্রমণ ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়।
ইতিহাস গড়লেন ড্যারিল মিচেল
ড্যারিল মিচেল ভারতের মাটিতে ইতিহাস গড়েন। তিনিই প্রথম বিদেশি ব্যাটার, যিনি ভারতের বিরুদ্ধে ভারতের মাটিতে টানা পাঁচটি ৫০ বা তার বেশি স্কোর করলেন। ১৩১ বলে ১৩৭ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলে শেষ পর্যন্ত আউট হন তিনি।
ফিলিপসের ঝড়ো শতরান
মিচেলের পাশে দাঁড়িয়ে ধীরে শুরু করলেও সেট হওয়ার পর রীতিমতো ঝড় তোলেন গ্লেন ফিলিপস। একের পর এক চোখধাঁধানো শটে ভারতীয় বোলারদের বিপর্যস্ত করেন তিনি। ৮৮ বলে ১০৬ রানের মারকাটারি ইনিংস খেলেন ফিলিপস।
শেষবেলার ঝাঁজ ব্রেসওয়েলের
মিচেল ও ফিলিপস আউট হওয়ার পর দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ড। তবে শেষদিকে ব্রেসওয়েলের ১৮ বলে ২৮ রানের ঝোড়ো ইনিংসে স্কোর আরও সমৃদ্ধ হয়। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ৩৩৭ রান তোলে কিউইরা।
শুরুতে ধাক্কা খেলেও ঘুরে দাঁড়াল নিউজিল্যান্ড। ড্যারিল মিচেল ও গ্লেন ফিলিপসের জোড়া শতরানে ভর করে তৃতীয় ওয়ানডেতে ভারতকে ৩৩৮ রানের কঠিন লক্ষ্য দিল কিউইরা। ইনদওরের ব্যাটিং স্বর্গে ফের একবার ভারতীয় বোলারদের বিরুদ্ধে পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়ালেন মিচেল।













