UP PCS J 2022-এ প্রথম কানপুরের নিশি গুপ্তা, বর্তমানে মহোবার সিভিল জজ

কানপুরের সীমিত আর্থিক সামর্থ্যের পরিবার থেকে উঠে এসে UP PCS J 2022 পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জন করেন নিশি গুপ্তা। বড় বোনের বই দিয়ে প্রস্তুতি নিয়ে বর্তমানে মহোবার সিভিল জজ হিসেবে কর্মরত তিনি।

কানপুরের নিশি গুপ্তার সাফল্যের পিছনে রয়েছে আর্থিক প্রতিকূলতা, সামাজিক চাপ এবং একাধিক ব্যর্থতার বিরুদ্ধে দীর্ঘ লড়াই। তাঁর বাবা পান বিক্রি করে পরিবারের খরচ চালাতেন। সীমিত আর্থিক সামর্থ্যের কারণে পড়াশোনার জন্য প্রয়োজনীয় বই কেনাও সবসময় সম্ভব ছিল না। তবুও মেয়ের পড়াশোনা বন্ধ হতে দেননি বাবা। বড় বোনের পুরনো বইয়ের সাহায্যে প্রস্তুতি নিয়ে UP PCS J 2022 পরীক্ষায় গোটা উত্তরপ্রদেশে প্রথম স্থান অর্জন করেন নিশি।

নিশি গুপ্তার শৈশব কেটেছে কানপুরের একটি সাধারণ পরিবারে। তাঁর বাবা পান দোকান চালিয়ে পরিবারের ভরণপোষণ করতেন। সংসারে আয় সীমিত থাকায় সন্তানদের পড়াশোনার খরচ জোগাড় করা সহজ ছিল না। কানপুরের একটি হিন্দি মাধ্যম স্কুলে প্রাথমিক পড়াশোনা শেষ করেন নিশি। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি আগ্রহী ছিলেন তিনি। ভবিষ্যতে আইনজীবী হওয়ার পাশাপাশি আইনক্ষেত্রে নিজের কেরিয়ার গড়ার স্বপ্ন দেখতেন।

নিশির পরিবারে এর আগে কেউ আইন নিয়ে পড়াশোনা করেননি। ফলে এই বিষয়ে তাঁকে পরামর্শ দেওয়ার মতো অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কেউ ছিলেন না। স্কুলের পড়াশোনা শেষ করে তিনি এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সেখান থেকে LLB এবং LLM ডিগ্রি অর্জন করেন।

হিন্দি মাধ্যমে পড়াশোনা করার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরুতে ইংরেজি আইনি পরিভাষা বুঝতে অসুবিধা হয়েছিল তাঁর। সেই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে আলাদা করে পরিশ্রম করেন এবং ধীরে ধীরে ইংরেজির দক্ষতা বাড়ান।

পড়াশোনার পাশাপাশি নিশিকে মোকাবিলা করতে হয়েছিল সামাজিক চাপেরও। আত্মীয়স্বজন তাঁর বাবাকে মেয়ের বিয়ে দিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিতেন। নিশির বড় বোনেরও ২৩ বছর বয়সে বিয়ে হয়েছিল। সেই কারণে পরিবারের একাংশের ধারণা ছিল, ছোট মেয়ের বিয়েও দ্রুত দেওয়া উচিত।

UP PCS J 2022-এ প্রথম কানপুরের নিশি গুপ্তা, বর্তমানে মহোবার সিভিল জজ

তবে নিশির বাবা চেয়েছিলেন, ছোট মেয়ে আগে নিজের স্বপ্ন পূরণ করুক। আত্মীয়স্বজনের নানা মন্তব্য উপেক্ষা করে তিনি মেয়ের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেন।

বিচারবিভাগীয় পরিষেবা পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় নিশির পক্ষে প্রতিটি বিষয়ের নতুন বই কেনা সম্ভব ছিল না। তাই তিনি বড় বোনের পুরনো বই দিয়েই পড়াশোনা চালিয়ে যান। যে বিষয়গুলি বুঝতে অসুবিধা হতো, সেগুলি বারবার পড়তেন এবং নিয়মিত অনুশীলন করতেন। পড়াশোনায় ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে একজন স্টাডি পার্টনারের সঙ্গেও প্রস্তুতি নিয়েছিলেন তিনি।

শুধু উত্তরপ্রদেশ নয়, মধ্যপ্রদেশ এবং রাজস্থানের বিচারবিভাগীয় পরিষেবা পরীক্ষাতেও অংশ নিয়েছিলেন নিশি। কয়েকটি পরীক্ষায় ইন্টারভিউ পর্যন্ত পৌঁছলেও চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হতে পারেননি। কিছু পরীক্ষায় মাত্র এক নম্বরের ব্যবধানেও মেধাতালিকায় জায়গা হয়নি তাঁর।

বারবার সাফল্যের কাছাকাছি পৌঁছেও নির্বাচিত না হওয়া তাঁর কাছে হতাশাজনক ছিল। তবে তিনি প্রস্তুতি বন্ধ করেননি। প্রতিটি পরীক্ষার পর নিজের ভুলগুলি চিহ্নিত করার চেষ্টা করতেন এবং যে বিষয়গুলিতে নম্বর কম আসত, সেগুলিতে বেশি মনোযোগ দিতেন।

নিশির মতে, বিচারবিভাগীয় পরিষেবা পরীক্ষায় সফল হওয়ার জন্য তিনটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, পড়া বিষয় বারবার পুনরাবৃত্তি করা। দ্বিতীয়ত, পড়া বিষয়গুলি মনে রাখা। তৃতীয়ত, পরীক্ষার খাতায় সঠিকভাবে উত্তর উপস্থাপন করা।

তিনি এই পদ্ধতিকে 3R হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। এর মধ্যে রয়েছে Repetition, Retention এবং Reproduction। অর্থাৎ পুনরাবৃত্তি, মনে রাখা এবং পরীক্ষায় শেখা বিষয় যথাযথভাবে উপস্থাপন করা।

দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি এবং একাধিক ব্যর্থতার পর অবশেষে UP PCS J 2022 পরীক্ষায় সাফল্য পান নিশি গুপ্তা। গোটা উত্তরপ্রদেশে প্রথম স্থান অর্জন করেন তিনি।

যে মেয়ের বিয়ে নিয়ে একসময় তাঁর বাবাকে আত্মীয়স্বজনের নানা মন্তব্য শুনতে হয়েছিল, সেই মেয়েই বিচারবিভাগীয় পরিষেবা পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জন করে পরিবারের পরিচিতি তৈরি করেন।

সীমিত আর্থিক সামর্থ্য এবং আইনক্ষেত্রে পারিবারিক অভিজ্ঞতার অভাব সত্ত্বেও নিজের পড়াশোনা ও প্রস্তুতির মাধ্যমে বিচারবিভাগীয় পরিষেবায় জায়গা করে নেন নিশি।

এলাহাবাদ হাইকোর্টের সরকারি নথি অনুযায়ী, নিশি গুপ্তা বর্তমানে মহোবা জেলায় সিভিল জজ (জুনিয়র ডিভিশন) এবং বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট পদে কর্মরত রয়েছেন।

 

Leave a comment