১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই। কলকাতার রাজপথে যুব কংগ্রেসের মহাকরণ অভিযান ঘিরে উত্তপ্ত পরিস্থিতি। সেই ঘটনায় তৎকালীন যুব কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আহত হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। উত্তর ২৪ পরগণার গাইঘাটার বাসিন্দা তথা কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন কনস্টেবল সিরাজুল হক মণ্ডলের দাবি, সেই সময় লাঠিচার্জ বন্ধ করার আবেদন জানিয়ে তিনি নিজের ঊর্ধ্বতন পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। আর সেই ঘটনার পরই তাঁর চাকরি চলে যায় বলে অভিযোগ।

১৯৯৩-এর সেই দিনের ঘটনা কী?
সিরাজুল হক মণ্ডলের দাবি অনুযায়ী, ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই ব্র্যাবোর্ন রোডে যুব কংগ্রেসের মহাকরণ অভিযান চলাকালীন পুলিশের লাঠিচার্জে তৎকালীন বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বুঝতে পেরে তিনি লাঠিচার্জ বন্ধ করার জন্য নিজের ঊর্ধ্বতন কর্তাদের কাছে আবেদন করেছিলেন বলে দাবি তাঁর।সিরাজুলের বক্তব্য, তিনি সেই সময় কর্তব্যরত আধিকারিকদের উদ্দেশে কঠোর অবস্থান নিয়ে বলেছিলেন, অত্যাচার বন্ধ না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। তাঁর অভিযোগ, এই ঘটনার পর থেকেই তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বিরাগভাজন হন।
চাকরি হারানোর পর শুরু হয় দীর্ঘ লড়াই
প্রাক্তন পুলিশকর্মীর দাবি, ঘটনার পর তাঁকে দীর্ঘদিন প্রশাসনিক চাপ ও হয়রানির মুখে পড়তে হয়। শেষ পর্যন্ত চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয় তাঁকে। এরপর চাকরি ফিরে পাওয়ার আশায় আদালত এবং বিভিন্ন সরকারি দফতরে আবেদন করেন সিরাজুল।তবে তাঁর বক্তব্য, আর্থিক সমস্যার কারণে দীর্ঘ আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়নি। ফলে তিন দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও নিজের পুরনো চাকরিতে আর ফিরতে পারেননি তিনি।

সরকার বদলালেও মেলেনি প্রত্যাশিত সমাধান
সিরাজুলের দাবি, পরবর্তী সময়ে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও দেখা করে নিজের সমস্যার কথা জানিয়েছিলেন। তাঁর অভিযোগ, আশ্বাস পাওয়া সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত চাকরি ফিরে পাননি।বর্তমানে তাঁর জীবনযাপনও অত্যন্ত কষ্টের বলে দাবি করা হয়েছে। দিনমজুরির কাজ করে বৃদ্ধ মা ও বোনকে নিয়ে সংসার চালাতে হচ্ছে তাঁকে। পুরনো দিনের স্মৃতি হিসেবে এখনও নিজের ভাঙাচোরা বাড়িতে যত্ন করে রেখে দিয়েছেন পুলিশের ইউনিফর্ম এবং চাকরি সংক্রান্ত নথিপত্র।

নতুন সরকারের কাছে কী আবেদন সিরাজুলের?
রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর এবার নতুন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ফের আবেদন জানিয়েছেন সিরাজুল হক মণ্ডল। তাঁর দাবি, জীবনের শেষ পর্বে অন্তত তাঁকে চাকরি ফিরিয়ে দেওয়া হোক অথবা উপযুক্ত পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হোক।সিরাজুলের বক্তব্য, যে সিদ্ধান্তের কারণে তাঁকে চাকরি হারাতে হয়েছিল, তার যথাযথ মূল্যায়ন আজও হয়নি। তাই নতুন সরকারের মানবিক হস্তক্ষেপের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছেন তিনি।

১৯৯৩ সালের ২১ জুলাইয়ের ঘটনায় তৎকালীন বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রক্ষা করতে গিয়ে চাকরি হারিয়েছিলেন বলে দাবি প্রাক্তন কলকাতা পুলিশের কনস্টেবল সিরাজুল হক মণ্ডলের। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করেও চাকরি ফিরে পাননি। এবার নতুন সরকারের কাছে চাকরি অথবা উপযুক্ত পুনর্বাসনের আবেদন জানিয়েছেন তিনি।











