‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’-এর সেই ছোট্ট অঞ্জলী আজ বড় তারকা, ভয়াবহ বুলিমিয়ায় আক্রান্ত সানা সঈদ! জানুন এই রোগ কতটা বিপজ্জনক

‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’-এর ছোট্ট অঞ্জলী সানা সঈদ জানিয়েছেন, তিনি বুলিমিয়া নার্ভোসায় আক্রান্ত ছিলেন। জেনে নিন বুলিমিয়া কী, এর উপসর্গ কতটা গুরুতর এবং কেন চিকিৎসা জরুরি।

শাহরুখ খান ও কাজলের সঙ্গে ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’ ছবিতে ছোট্ট অঞ্জলীর চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের মনে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছিলেন সানা সঈদ। সেই শিশুশিল্পীই পরবর্তীতে বলিউডে নিজের পরিচয় তৈরি করেন। এবার নিজের জীবনের এক কঠিন অধ্যায় প্রকাশ্যে আনলেন অভিনেত্রী। সোশ্যাল মিডিয়ায় সানা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি বুলিমিয়া নার্ভোসা নামের একটি ইটিং ডিজঅর্ডারের সঙ্গে লড়াই করেছেন। কিন্তু এই রোগ সম্পর্কে সচেতন না থাকায় প্রথমদিকে নিজের সমস্যাটি বুঝতেই পারেননি তিনি।

বুলিমিয়া নার্ভোসা আসলে কী?

বিশেষজ্ঞদের মতে, বুলিমিয়া নার্ভোসা একটি গুরুতর ইটিং ডিজঅর্ডার। এই সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে খাবার নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা এবং তীব্র আকাঙ্ক্ষা তৈরি হতে পারে। অনেক সময় অল্প সময়ের মধ্যে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি খাবার খেয়ে ফেলেন তিনি। এই পর্বকে বলা হয় ‘বিঞ্জ ইটিং’।এরপর অতিরিক্ত খাওয়ার জন্য অপরাধবোধ এবং ওজন বেড়ে যাওয়ার ভয় তৈরি হয়। তখন শরীর থেকে খাওয়া খাবার বের করে দেওয়ার চেষ্টা দেখা দিতে পারে। কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করেন, আবার কেউ ল্যাক্সেটিভের মতো ওষুধের অপব্যবহার করতে পারেন। এই অতিরিক্ত খাওয়া এবং পরে তা শরীর থেকে বের করে দেওয়ার চক্রকেই ‘বিঞ্জ-পার্জ সাইকেল’ বলা হয়।

ছোটবেলা থেকেই সমস্যার কথা জানালেন সানা

সানা সঈদ নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি ইটিং ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত ছিলেন। কিন্তু এই ধরনের রোগ সম্পর্কে আগে কোনও ধারণা না থাকায় নিজের সমস্যাটি বুঝতে পারেননি।পরে বুলিমিয়া নার্ভোসা সম্পর্কে পড়াশোনা করার পর তিনি বুঝতে পারেন, তাঁর অভিজ্ঞতার সঙ্গে এই রোগের অনেকটাই মিল রয়েছে। নিজের এই সমস্যাকে মেনে নিতেও তাঁর কিছুটা সময় লেগেছিল বলে জানান অভিনেত্রী।

অ্যানোরেক্সিয়া ও বুলিমিয়ার মধ্যে পার্থক্য কোথায়?

বুলিমিয়ার সঙ্গে অ্যানোরেক্সিয়া নার্ভোসার কিছুটা মিল থাকলেও দুটি রোগ এক নয়। অ্যানোরেক্সিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তি ওজন বেড়ে যাওয়ার ভয়ে খাবার খাওয়া অত্যন্ত কমিয়ে দিতে পারেন বা খাবার এড়িয়ে চলেন।অন্যদিকে, বুলিমিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তি একসঙ্গে অতিরিক্ত খাবার খেয়ে ফেলতে পারেন। এরপর ওজন বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা বা নিজের শরীরের গঠন নিয়ে তীব্র উদ্বেগ থেকে সেই খাবার শরীর থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেন।

কেন এই রোগকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা জরুরি?

বুলিমিয়া শুধুমাত্র খাওয়ার অভ্যাসের সমস্যা নয়। এর সঙ্গে শরীরের ওজন, চেহারা এবং নিজের শারীরিক গঠন নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বেগ জড়িয়ে থাকতে পারে। বারবার ‘বিঞ্জ’ এবং ‘পার্জ’-এর চক্র চলতে থাকলে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।তাই এই ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে বিষয়টি লুকিয়ে না রেখে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসক, মনোচিকিৎসক এবং ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্টের সহায়তায় উপযুক্ত চিকিৎসা ও থেরাপির মাধ্যমে এই সমস্যা মোকাবিলা করা সম্ভব।

‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’ ছবির ছোট্ট অঞ্জলী অর্থাৎ অভিনেত্রী সানা সঈদ জানিয়েছেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি বুলিমিয়া নার্ভোসা নামের একটি ইটিং ডিজঅর্ডারে ভুগছেন। এই রোগে অতিরিক্ত খাওয়া এবং পরে তা শরীর থেকে বের করে দেওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন চিকিৎসা না হলে এই সমস্যা শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যে গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।

Leave a comment