উত্তরবঙ্গের চা বাগানের জমিতে বেআইনি নির্মাণের ঘটনা বাড়ছে, আর তা নিয়ে এবার কঠোর অবস্থান নিল রাজ্য সরকার। বিধানসভায় এই বিষয়ে সরব হন বিধায়করা। অভিযোগ, বহু চা বাগানে কোটি কোটি টাকার জমিতে গড়ে উঠছে অবৈধ নির্মাণ, আর প্রশাসন কার্যত নীরব দর্শক! শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটক বিধানসভায় স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, চা বাগানের জমিতে বেআইনি নির্মাণ বরদাস্ত করা হবে না। প্রয়োজনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চা বাগানের মালিকদের আশঙ্কা, নদীর গতিপথ বদলাচ্ছে!

শুধু বেআইনি নির্মাণই নয়, চা বাগান লাগোয়া নদীগুলো থেকেও অবৈধভাবে বালি ও পাথর তোলা হচ্ছে, যা বাগানের জমিকে বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। মালিকপক্ষের সংগঠন টি অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়া (TAI) ইতিমধ্যেই পুলিশ সুপার, জেলাশাসক ও প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছে।
কী বলছে অভিযোগপত্র?
👉 নকশালবাড়ির বেলগাছি চা বাগান লাগোয়া নদী থেকে এত মাত্রায় বালি তোলা হচ্ছে যে নদীর গতিপথই বদলে যাচ্ছে!
👉 এতে বর্ষার সময় চা বাগানের একাংশ প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
👉 শুধুমাত্র বেলগাছি নয়, জাবরা বাগান, চেঙ্গা নদী, মেচি নদীর তীরেও একই অবস্থা।

পুলিশ ও প্রশাসনের নড়াচড়া শুরু
পুলিশ সূত্রের খবর, মহানন্দা, বালাসন, ডুমুরিয়া, মাঞ্ঝা ও মেচি নদীতে সক্রিয় বালি মাফিয়ারা। শুধু বড় নদী নয়, চা বাগান লাগোয়া ছোট ছোট ঝোরা ও খাল থেকেও অবৈধভাবে বালি তোলা হচ্ছে। ফলে জমির স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, যা চা বাগানের উৎপাদনে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
বিধানসভায় সরব বিরোধীরা
বিধানসভায় এই বিষয়টি নিয়ে সরব হন বিজেপি বিধায়ক আনন্দময় বর্মণ। তাঁর অভিযোগ, চা বাগানের জমিতে লাগাতার বেআইনি নির্মাণ চলছে, প্রশাসন সব জেনেও চুপ করে আছে! একই অভিযোগ তুলেছেন আরও কয়েকজন বিরোধী বিধায়ক।
রাজ্যের হুঁশিয়ারি, কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে

এই বিতর্কের মাঝেই শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটক পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন— চা বাগানের জমিতে বেআইনি নির্মাণ রুখতে প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই জেলাশাসক ও পুলিশকে নির্দেশ পাঠানো হয়েছে, যে কোনো বেআইনি নির্মাণ দেখলেই সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিতে হবে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে কি অবৈধ নির্মাণ বন্ধ হবে? নাকি পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে? উত্তর খুঁজছে গোটা উত্তরবঙ্গের চা শিল্প।








