বর্ষার মরশুম শেষের পথে হলেও উত্তরবঙ্গে এখনই স্বস্তি নেই। নিম্নচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় আগামী কয়েক দিন বৃষ্টির দাপট বজায় থাকতে পারে। বিশেষ করে পাহাড়ি জেলা দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ে অতিভারী বৃষ্টির জেরে ধস নামার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে পাহাড়ে যাতায়াতের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।
কেন ফের বাড়ছে বৃষ্টির দাপট?
আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, নিম্নচাপটি গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ থেকে সরে উত্তর-পূর্ব মধ্যপ্রদেশের দিকে অবস্থান করছে। এর সঙ্গে যুক্ত ঘূর্ণাবর্তও যথেষ্ট উঁচু স্তর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।এই পরিস্থিতিতে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর জলীয়বাষ্প উত্তরবঙ্গের দিকে প্রবাহিত হচ্ছে। পাহাড়ি এলাকায় সেই আর্দ্র বাতাস বাধাপ্রাপ্ত হওয়ায় ভারী বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
গত ২৪ ঘণ্টায় কোথায় কত বৃষ্টি?
ইতিমধ্যেই উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির দেখা মিলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় কোথাও হালকা, কোথাও মাঝারি বৃষ্টি হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে কালিম্পংয়ে, যেখানে প্রায় ৭ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া রায়গঞ্জ, মালদহ, কোচবিহার এবং আলিপুরদুয়ারের শ্যাঙ্কোস ও নিউল্যান্ডস চা-বাগান এলাকায় প্রায় ২ সেন্টিমিটার করে বৃষ্টির খবর পাওয়া গিয়েছে।
আগামী ৪৮ ঘণ্টায় কোন জেলায় বেশি বৃষ্টি?
৩ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ সেপ্টেম্বর সকাল পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষ নজরে রয়েছে—
দার্জিলিং
কালিম্পং
জলপাইগুড়ি
আলিপুরদুয়ার
এই জেলাগুলিতে প্রায় ৭ থেকে ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ভারী বা অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে।
এর পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি এবং ঘণ্টায় প্রায় ৩০–৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।
পাহাড়ে ধসের আশঙ্কা
টানা ভারী বৃষ্টি হলে পাহাড়ি মাটিতে জল জমে মাটি আলগা হয়ে যেতে পারে। ফলে দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ের মতো পার্বত্য এলাকায় ধসের ঝুঁকি বাড়তে পারে।বিশেষ করে পাহাড়ের আঁকাবাঁকা রাস্তায় গাড়ি চলাচলের সময় সমস্যা তৈরি হতে পারে। কোথাও রাস্তার উপর পাথর বা মাটি নেমে এলে যান চলাচলও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।তাই আবহাওয়া খারাপ থাকলে অপ্রয়োজনীয় পাহাড়ি সফর এড়িয়ে চলা এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলাই নিরাপদ।
চা-বাগান ও নিচু এলাকাতেও বাড়ছে চিন্তা
শুধু পাহাড় নয়, অতিবৃষ্টির প্রভাব পড়তে পারে উত্তরবঙ্গের সমতল এলাকাতেও। নিচু জায়গায় সাময়িক জলজট তৈরি হতে পারে। চা-বাগান ও কৃষিজমিতেও অতিরিক্ত বৃষ্টির প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।দীর্ঘ সময় ধরে বৃষ্টি হলে জমিতে জল দাঁড়িয়ে ফসলের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।
কবে থেকে কমবে বৃষ্টির দাপট?
৩ থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বৃষ্টির দাপট বেশি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর ৫ থেকে ৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমতে পারে।তবে উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারের বিভিন্ন এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি চলতে পারে। বিচ্ছিন্নভাবে কোথাও ভারী বৃষ্টিও হতে পারে।অর্থাৎ ৬–৭ সেপ্টেম্বর থেকে পরিস্থিতির উন্নতির ইঙ্গিত থাকলেও পুরোপুরি শুকনো ও রোদঝলমলে আবহাওয়া ফিরতে আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে।
পর্যটকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
পাহাড়ে বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে আবহাওয়ার আপডেট দেখে তবেই রওনা হওয়া ভালো। ভারী বৃষ্টি বা বজ্রপাতের সময়—
পাহাড়ি নদী ও ঝরনার কাছে যাবেন না।
ধসপ্রবণ রাস্তা এড়িয়ে চলুন।
প্রশাসনের ট্রাফিক বা ভ্রমণ সংক্রান্ত নির্দেশ মেনে চলুন।
বজ্রপাতের সময় খোলা জায়গায় দাঁড়াবেন না।
গাছ ও বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে দূরে থাকুন।
প্রবল বৃষ্টির সময় অপ্রয়োজনীয় গাড়ি নিয়ে পাহাড়ি পথে বের হওয়া এড়িয়ে চলুন।
উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে বৃষ্টির দাপট বাড়তে পারে। পাহাড়ি এলাকায় ধস, নদীর জলস্তর বৃদ্ধি, নিচু এলাকায় জলজট এবং ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কায় বাসিন্দা ও পর্যটকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।












