শনিবারেও NSE ও BSE-তে লেনদেন কেন চলল ১ আগস্ট ২০২৬ মক ট্রেডিং সেশনের কারণ জানুন

১ আর পরিবর্তে ক্লোজিং অকশন সেশন (CAS) চালুর আগে প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি যাচাইয়ের জন্য বিশেষ মক ট্রেডিং সেশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে এক্সচেঞ্জ, ব্রোকারেজ সংস্থা ও অন্যান্য বাজার অংশগ্রহণকারীরা নতুন ব্যবস্থা পরীক্ষা করেন।

সাধারণত শনিবার ও রবিবার ভারতীয় শেয়ারবাজারে সাপ্তাহিক ছুটি থাকে এবং ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ (NSE) ও বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জ (BSE)-এ লেনদেন বন্ধ থাকে। তবে ১ আগস্ট ২০২৬, শনিবার হওয়া সত্ত্বেও দুই এক্সচেঞ্জে ট্রেডিং কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। তবে এটি নিয়মিত বা বাস্তব লেনদেন ছিল না; বরং আসন্ন প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের পরীক্ষার জন্য একটি বিশেষ ‘মক ট্রেডিং সেশন’ আয়োজন করা হয়েছিল।

এই অনুশীলনের উদ্দেশ্য ছিল ইক্যুইটি ক্যাশ সেগমেন্টে চালু হতে যাওয়া নতুন ‘ক্লোজিং অকশন সেশন’ (Closing Auction Session-CAS) ব্যবস্থার প্রস্তুতি মূল্যায়ন করা এবং নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার পর বাজার পরিচালনায় কোনো প্রযুক্তিগত প্রতিবন্ধকতা না থাকে তা নিশ্চিত করা।

ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ সম্প্রতি ঘোষণা করেছে যে, ইক্যুইটি ক্যাশ সেগমেন্টে ক্লোজিং অকশন সেশন (CAS) চালু করা হবে। এই ব্যবস্থা ৩ আগস্ট ২০২৬ থেকে লাইভ ট্রেডিং পরিবেশে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

ক্লোজিং অকশন সেশনের উদ্দেশ্য হলো বাজার বন্ধের সময় শেয়ারের চূড়ান্ত মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও দক্ষ করা। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে বাজার বন্ধের আগে ক্রেতা ও বিক্রেতার অর্ডার আরও কার্যকরভাবে মিলিয়ে চূড়ান্ত ক্লোজিং প্রাইস আরও নির্ভুলভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। বৈশ্বিক আর্থিক বাজারে এ ধরনের ব্যবস্থা আগে থেকেই প্রচলিত এবং বাজারের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য তা গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।

NSE-এর প্রকাশিত সার্কুলার অনুযায়ী, CAS ব্যবস্থা সফলভাবে বাস্তবায়নের আগে প্রযুক্তিগত পরীক্ষা এবং বাজার অংশগ্রহণকারীদের প্রস্তুতি নিশ্চিত করা প্রয়োজন ছিল। সেই উদ্দেশ্যেই ১ আগস্ট ২০২৬ মক ট্রেডিং সেশনের আয়োজন করা হয়।

এই সেশনের সময় এক্সচেঞ্জ, ব্রোকারেজ সংস্থা, ট্রেডিং সদস্য এবং অন্যান্য বাজার অংশগ্রহণকারীরা নতুন ট্রেডিং প্রক্রিয়া ও সিস্টেম আপগ্রেড পরীক্ষা করার সুযোগ পান। এই প্রক্রিয়া সম্ভাব্য প্রযুক্তিগত সমস্যাগুলো চিহ্নিত ও সমাধানে সহায়তা করে, ফলে বাস্তব চালুর সময় বিঘ্নের সম্ভাবনা কমে যায়।

এক্সচেঞ্জ সব ট্রেডিং সদস্যকে এই অনুশীলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিল, যাতে নতুন ব্যবস্থার অধীনে নির্বিঘ্ন পরিচালনা নিশ্চিত করা যায়।

মক ট্রেডিং হলো বাস্তব শেয়ারবাজারে লেনদেনের একটি সিমুলেটেড বা পরীক্ষামূলক সংস্করণ। এতে অংশগ্রহণকারীরা ক্রয় ও বিক্রয়ের অর্ডার প্রদান করেন, তবে এসব লেনদেনে প্রকৃত অর্থ ব্যবহার করা হয় না। এর মূল উদ্দেশ্য হলো ট্রেডিং সিস্টেম, অর্ডার প্রসেসিং, ডেটা ফ্লো এবং প্রযুক্তিগত অবকাঠামো পরীক্ষা করা।

মক ট্রেডিং চলাকালে সম্পাদিত লেনদেনের কোনো প্রভাব বিনিয়োগকারীদের প্রকৃত পোর্টফোলিও বা আর্থিক অবস্থার ওপর পড়ে না। এটি মূলত একটি ‘ড্রাই রান’, যেখানে পুরো প্রক্রিয়াটি বাস্তব বাজারের মতো পরিচালিত হলেও এতে কোনো আর্থিক ঝুঁকি থাকে না।

ভারতে ‘মক ট্রেডিং’ শব্দটি দুটি ভিন্ন প্রেক্ষাপটে ব্যবহৃত হয়। প্রথমটি হলো NSE ও BSE-এর মতো এক্সচেঞ্জের আয়োজিত সরকারি মক ট্রেডিং সেশন, যার উদ্দেশ্য প্রযুক্তিগত পরীক্ষা এবং বাজার পরিচালনার প্রস্তুতি নিশ্চিত করা। এতে মূলত ব্রোকার, ট্রেডিং সদস্য এবং প্রাতিষ্ঠানিক অংশগ্রহণকারীরা যুক্ত থাকেন।

দ্বিতীয়টি হলো খুচরা বিনিয়োগকারী এবং নতুন ট্রেডারদের জন্য উপলব্ধ ভার্চুয়াল বা পেপার ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম। এসব প্ল্যাটফর্মে ব্যবহারকারীরা প্রকৃত অর্থ বিনিয়োগ না করেই ট্রেডিং কৌশল অনুশীলন করতে পারেন। যদিও এসব প্ল্যাটফর্ম লাইভ বাজারের তথ্য ব্যবহার করে, তবে এক্সচেঞ্জ আয়োজিত সরকারি মক ট্রেডিং সেশনের সঙ্গে এদের কোনো প্রত্যক্ষ সম্পর্ক নেই।

 

Leave a comment