পুজোর ছুটি মানেই কোথাও কয়েক দিনের জন্য বেরিয়ে পড়া। কিন্তু পরিচিত পর্যটনকেন্দ্রের ভিড় যদি আপনার পছন্দ না হয়, তাহলে এবার একটু অন্যরকম গন্তব্য বেছে নিতে পারেন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বঙ্গোপসাগরের কোলে থাকা মৌসুনি দ্বীপ হতে পারে সেই অফবিট ঠিকানা। নির্জন সমুদ্রসৈকত, ঝাউবনের হাওয়া, বাঁশের কটেজ আর নদী-সমুদ্রের তাজা মাছের রান্না—প্রিয়জনের সঙ্গে শান্তিতে সময় কাটানোর জন্য জায়গাটি বেশ আকর্ষণীয়।
কলকাতা থেকে বেশি দূর নয়, তবু পরিবেশ একেবারে অন্যরকম
শহরের কোলাহল থেকে দূরে যেতে চাইলেও খুব দীর্ঘ সফরের প্রয়োজন নেই। কলকাতা থেকে মৌসুনি দ্বীপের দূরত্ব প্রায় ১২০ কিলোমিটার। ফলে কয়েক দিনের ছোট ছুটিতেও এই জায়গা ঘুরে আসা সম্ভব।সমুদ্রের ধারে নিরিবিলি পরিবেশ এবং প্রকৃতির কাছাকাছি থাকার সুযোগের জন্য মৌসুনি ইতিমধ্যেই পর্যটকদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বিশেষ করে যাঁরা ভিড়ের পর্যটনকেন্দ্রের বদলে শান্ত পরিবেশ পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য এটি ভালো বিকল্প।
কীভাবে যাবেন মৌসুনি?
ট্রেনে যেতে চাইলে শিয়ালদহ থেকে নামখানা লোকাল ধরে নামখানা স্টেশনে পৌঁছতে হবে। ট্রেনে সময় লাগতে পারে প্রায় ৩ থেকে সাড়ে ৩ ঘণ্টা।নামখানা থেকে টোটো বা অটো করে দুর্গাপুর কিংবা হুজ্জুতি ঘাটে যেতে পারেন। এরপর নদী পারাপারের জন্য ছোট নৌকা বা ভটভুটিতে চেনাই নদী পেরিয়ে বাগডাঙ্গা ঘাটে পৌঁছতে হবে। সেখান থেকে টোটো নিয়ে সরাসরি আগে থেকে বুক করা ক্যাম্প বা রিসর্টে যাওয়া যায়।অন্যদিকে নিজের গাড়ি বা বাইক নিয়েও যেতে পারেন। কলকাতা থেকে ডায়মন্ড হারবার রোড ধরে নামখানা ফেরিঘাটের দিকে যেতে হয়।
থাকার জন্য বিচ ক্যাম্প থেকে বাঁশের কটেজ
মৌসুনিতে থাকার ব্যবস্থাতেও রয়েছে অফবিট ভ্রমণের স্বাদ। বিচ ক্যাম্প, বাঁশের কটেজ এবং মাটির ঘর—বাজেট অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের থাকার বিকল্প পাওয়া যায়।
বেশিরভাগ ক্যাম্পের প্যাকেজে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থাও থাকে। সকালের জলখাবার, দুপুরের খাবার, বিকেলের স্ন্যাকস এবং রাতের খাবার সাধারণত প্যাকেজের অন্তর্ভুক্ত থাকে।
কত টাকা খরচ হতে পারে?
বাজেট অনুযায়ী থাকার খরচ মোটামুটি এই রকম—
বিচ টেন্ট: জনপ্রতি প্রতি রাত প্রায় ৯০০–১২০০ টাকা
মাটির বা বাঁশের কটেজ: জনপ্রতি প্রতি রাত প্রায় ১৪০০–১৮০০ টাকা
এসি বাঁশের কটেজ: জনপ্রতি প্রতি রাত প্রায় ২২০০ টাকা বা তার বেশি
বিচ টেন্টে সাধারণত ফ্লোর ম্যাট্রেস, ফ্যান ও সাধারণ বাথরুমের ব্যবস্থা থাকে। একটু বেশি খরচ করলে বাঁশ বা মাটির কটেজে তুলনামূলক বেশি সুবিধা, লক করার ব্যবস্থা এবং অ্যাটাচড টয়লেট পাওয়া যায়। এসি কটেজে আধুনিক সুবিধাও থাকে।তবে মরশুম, ক্যাম্প, প্যাকেজ ও বুকিংয়ের সময় অনুযায়ী ভাড়া পরিবর্তিত হতে পারে। যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট থাকার জায়গায় খরচ ও সুবিধাগুলি নিশ্চিত করে নেওয়াই ভালো।
সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত, সমুদ্রের ধারে অলস সময়
মৌসুনির অন্যতম আকর্ষণ এর সমুদ্রসৈকত। সকালে সমুদ্রের ধারে বসে সূর্যোদয় দেখা কিংবা বিকেলে সূর্যাস্তের সময় বালুকাবেলায় হাঁটা—দু'ভাবেই উপভোগ করা যায় প্রকৃতিকে।
প্রিয়জনের সঙ্গে নিরিবিলি সময় কাটানো, সমুদ্রের হাওয়ায় বসে থাকা কিংবা ঝাউবনের পাশে ছবি তোলা—ছোট ছুটিকে অন্যরকম করে তুলতে পারে।
রাত হলে অনেক ক্যাম্পে ক্যাম্পফায়ার এবং চিকেন বারবিকিউ-এর ব্যবস্থাও থাকে। ফলে দিনের শেষে রাতের আড্ডাতেও যোগ হয় আলাদা আনন্দ।
তাজা মাছের স্বাদও মিলবে
মৌসুনি ভ্রমণের আরেকটি আকর্ষণ স্থানীয় খাবার। নদী ও সমুদ্র থেকে পাওয়া তাজা মাছ দিয়ে তৈরি বিভিন্ন বাঙালি পদ এখানে পাওয়া যায়।
মাছভাজা থেকে শুরু করে স্থানীয় স্বাদের নানা রান্না—সমুদ্রের ধারে বসে টাটকা মাছের স্বাদ নেওয়ার অভিজ্ঞতা ভ্রমণকে আরও উপভোগ্য করে তুলতে পারে।
পুজোর ছুটিতে দিঘা বা মন্দারমণির ভিড় এড়িয়ে একটু নিরিবিলি সমুদ্রের স্বাদ পেতে চাইলে দক্ষিণ ২৪ পরগনার মৌসুনি দ্বীপ হতে পারে দারুণ বিকল্প। সমুদ্রের ধারে বিচ ক্যাম্প, বাঁশ ও মাটির কটেজ, সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত, ক্যাম্পফায়ার এবং স্থানীয় তাজা মাছের নানা পদ—সব মিলিয়ে ছোট্ট ছুটিতে প্রকৃতির কাছে হারিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে এখানে।













