রিটায়ারমেন্ট বা ফাইন্যান্সিয়াল ফ্রিডমের কথা ভাবলেই অনেকের লক্ষ্য থাকে—একদিন ১ কোটি টাকা জমানো। কিন্তু প্রশ্ন হল, আজকের ১ কোটি টাকা কি আগামী ২০, ৩০ বা ৫০ বছর পরেও একই আর্থিক নিরাপত্তা দিতে পারবে? মুদ্রাস্ফীতির বাস্তব হিসেব বলছে, এই ধারণা বড়সড় ভুল।
মুদ্রাস্ফীতি কীভাবে টাকার শক্তি কমায়?
মুদ্রাস্ফীতি মানে পণ্যের দাম ধীরে ধীরে বেড়ে যাওয়া। ফলে একই টাকায় ভবিষ্যতে কম জিনিস কেনা যায়। নামমাত্র অঙ্ক অপরিবর্তিত থাকলেও টাকার প্রকৃত মূল্য কমে যায়। এই কারণেই দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক পরিকল্পনায় ইনফ্লেশনকে উপেক্ষা করা মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।

৬% মুদ্রাস্ফীতিতে ১ কোটির ভবিষ্যৎ মূল্য কত?
যদি গড় মুদ্রাস্ফীতির হার ৬ শতাংশ ধরা হয়, তাহলে আজকের ১ কোটি টাকার ভবিষ্যৎ ক্রয়ক্ষমতা হবে—
১০ বছর পর (২০৩৫): প্রায় ৫৫.৮৩ লক্ষ টাকা
২০ বছর পর (২০৪৫): প্রায় ৩১.১৮ লক্ষ টাকা
৩০ বছর পর (২০৫৫): প্রায় ১৭.৪১ লক্ষ টাকা
৪০ বছর পর (২০৬৫): প্রায় ৯.৭২ লক্ষ টাকা
৫০ বছর পর (২০৭৫): মাত্র ৫.৪২ লক্ষ টাকার সমান
এই হিসেবেই স্পষ্ট, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ১ কোটির ক্রয়ক্ষমতা ৯০ শতাংশেরও বেশি কমে যেতে পারে।

শুধু সেভিংস কি যথেষ্ট?
ব্যাঙ্কের সেভিংস অ্যাকাউন্ট বা নগদ টাকা নিরাপদ মনে হলেও, বাস্তবে এটি এক ধরনের “নীরব ক্ষয়”। সুদের হার যদি মুদ্রাস্ফীতির চেয়ে কম হয়, তাহলে আপনার সঞ্চয় বাড়ে না—বরং বাস্তবে কমে যায়।

ফাইন্যান্সিয়াল ফ্রিডম পেতে কী করা জরুরি?
ভবিষ্যতেও টাকার শক্তি ধরে রাখতে হলে বিনিয়োগ করতে হবে এমন জায়গায়, যা মুদ্রাস্ফীতিকে হার মানাতে পারে। যেমন—
শেয়ার বাজার ও মিউচুয়াল ফান্ড (SIP)
রিয়েল এস্টেট
ব্যবসা বা স্টার্টআপ
দীর্ঘমেয়াদি গ্রোথ অ্যাসেট
এই ধরনের বিনিয়োগে ঝুঁকি থাকলেও, দীর্ঘমেয়াদে সম্পদ বৃদ্ধির সম্ভাবনা অনেক বেশি।
আজকের দিনে ১ কোটি টাকা বড় অঙ্ক মনে হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মুদ্রাস্ফীতি এই টাকার ক্রয়ক্ষমতা নাটকীয়ভাবে কমিয়ে দেয়। গড়ে ৬ শতাংশ ইনফ্লেশন ধরা হলে ৫০ বছর পরে ১ কোটি টাকার প্রকৃত শক্তি নেমে আসতে পারে মাত্র কয়েক লক্ষ টাকায়। তাই ভবিষ্যতের জন্য স্মার্ট বিনিয়োগ অপরিহার্য।













