বিশ্ব ফুটবলের মহাতারকা লিওনেল মেসি কলকাতায়—এই খবরেই উত্তেজনায় ফুটছিল শহর। কিন্তু সেই উত্তেজনাই শেষ পর্যন্ত রূপ নিল বিশৃঙ্খলায়। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মেসির অনুষ্ঠান চলাকালীন যে পরিস্থিতি তৈরি হয়, তা ঘিরে এখন প্রশ্নের মুখে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও আয়োজকদের ভূমিকা।
আন্তর্জাতিক তারকার নিরাপত্তা, ছিল কি পর্যাপ্ত প্রস্তুতি?
মেসির মতো একজন আন্তর্জাতিক সুপারস্টারের সফর মানেই সর্বোচ্চ স্তরের নিরাপত্তা। কিন্তু যুবভারতীর ঘটনায় উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা যাচ্ছে, মাঠে মেসির প্রবেশ ও চলাচল ঘিরে কোনও পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা মহড়া হয়নি। কোথায় কীভাবে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা হবে, তার স্পষ্ট রূপরেখাও ছিল না।

হাসিমুখে আগমন, বিশৃঙ্খলায় অস্বস্তি
কলকাতায় নেমে প্রথমে হাসিমুখেই দর্শকদের অভিবাদন জানান মেসি। কিন্তু মাঠে ঢোকার পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে শুরু করে। গ্যালারিতে ধাক্কাধাক্কি, নিয়ন্ত্রণহীন ভিড় এবং বিশৃঙ্খল পরিবেশে স্পষ্ট অস্বস্তি প্রকাশ করেন তিনি। শেষমেশ নির্ধারিত সময়ের আগেই মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
নিরাপত্তা বাহিনী থাকলেও কেন ভিড় সামলানো গেল না?
পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের তরফে প্রচুর বাউন্সার মোতায়েন করা হয়েছিল। তবে বাস্তবে ভিড় নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা নিতে দেখা যায়নি কাউকেই। মাঠের একাধিক জায়গায় নিরাপত্তা বলয় ভেঙে পড়ে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

যুবভারতীতে কত টাকার ক্ষতি?
বিশৃঙ্খলার জেরে স্টেডিয়ামের আসন, ব্যারিকেড ও একাধিক পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী, ক্ষয়ক্ষতির অঙ্ক ২ কোটি থেকে সোয়া ২ কোটি টাকা। এই বিপুল আর্থিক ক্ষতি নিয়েও প্রশ্ন উঠছে—দায় নেবে কে?

কলকাতা ছেড়ে হায়দরাবাদ, বদলে গেল ছবি
কলকাতার ঘটনার পর মেসি উড়ে যান হায়দরাবাদে। সেখানকার উপ্পল স্টেডিয়ামে ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। সুশৃঙ্খল নিরাপত্তা, নিয়ন্ত্রিত ভিড় ও নির্ভুল ব্যবস্থাপনায় আবার হাসি ফেরে মেসির মুখে। তুলনায় আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে যুবভারতীর ব্যর্থতা।
কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে লিওনেল মেসির অনুষ্ঠান ঘিরে তৈরি হয় নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা। নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি, ভিড় নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং পূর্বপ্রস্তুতির অভাবে অনুষ্ঠান ভেস্তে যায়। প্রাথমিক হিসেব অনুযায়ী স্টেডিয়ামের ক্ষয়ক্ষতি ২ কোটিরও বেশি।








